ড. মিজানুর রহমান

 

নাগরিক কমিটির বক্তব্য

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতিমান, বাংলাদেশে আইন শিক্ষার অন্যতম প্রবাদপুরুষ ও আইন শিক্ষাঙ্গনের জাতীয় অভিভাবক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের স্বনামধন্য শিক্ষক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে জড়িয়ে বিগত ০৩.০৯.২০২০ তারিখে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাগণ জনৈক ডাঃ সাবরিনার ২য় জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু সংক্রান্ত যে মনগড়া, অপ্রমাণিত, অসমর্থিত, ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং তাঁদের উক্ত বক্তব্যের উপর রং চড়িয়ে কতিপয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে যে ধরণের নিউজ রিপোর্ট প্রচার করে, তা অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের মত একজন জাতীয় ব্যক্তিত্বের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাহানিকর।

এই অতিশয় অনভিপ্রেত, দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনায় সমব্যথী ও সংক্ষুব্ধ হয়ে বিগত ০৬.০৯.২০২০ তারিখে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার অধিকার সচেতন মানুষ সহমত পোষণ করে জনস্বার্থে . মিজানুর রহমান মানবাধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটি গঠন করেন। দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত সভাপতি এ্যাডভোকেট এ. এম. আমিন উদ্দিন যথাক্রমে এই নাগরিক কমিটির আহবায়ক ও যুগ্ম-আহবায়ক। ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে ঘিরে উল্লেখিত ঘটনাবলীর গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা অনুধাবন করে ড. মিজানুর রহমান মানবাধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটি বিগত ০৭.০৯.২০২০ তারিখে কমিটির সদস্যবৃন্দের স্বাক্ষরসহ গণমাধ্যমে নিম্নলিখিত প্রতিবাদপত্র পাঠায়ঃ

(১)   নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, তিনি নিজে প্রফেসর ডঃ মিজানুর রহমানকে নির্বাচন কমিশনে দেখেননি, তবে তিনি ‘শুনেছেন’ যে প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান নির্বাচন কমিশনে উক্ত কাজে এসেছেন। বক্তব্যটি সম্পূর্ণ মনগড়া, অসমর্থিত এবং অপ্রমাণিত হলেও তার নিউজ রিপোর্টিং করা হয়েছে, যা জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যুর মত অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্টদের গুরুতর অনিয়ম, পেশাগত অদক্ষতা, অবহেলা ও অপরাধের পরিচায়ক। এ বিষয়টি যথাযথভাবে খতিয়ে না দেখে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের মত একজন জাতীয় ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে  যেভাবে সংবাদটি প্রচার করা হয়েছে তা আমাদেরকে ব্যথিত করেছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য এবং প্রচারিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

(২)   বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র বিদ্যমান থাকাকালে দ্বিতীয় কোন জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করার বিধান নেই। অন্য যে কোন ব্যক্তির সুপারিশে (তিনি যতো ক্ষমতাবানই হোন না কেন) এরকম ঘটনা কোন অর্থেই আইনানুগ নয়। যদি এমন কিছু করা হয় তা বিদ্যমান আইনসমূহের গুরুতর লংঘন। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উল্লেখিত ২য় জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করে দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন।

(৩)   এই নাগরিক কমিটি ড. মিজানুর রহমানের প্রতি গুরুতর এই সম্মানহানির ঘটনায় আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে  নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংগ্রাহক ও প্রচারকারীদের ‘ক্ষমা প্রার্থনা’সহ বক্তব্য প্রত্যাহারের আহবান জানাচ্ছে। অন্যথায়, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

ইতোমধ্যে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বিগত ০৮.০৯.২০২০ তারিখে তাঁর আইনজীবীদের  মাধ্যমে  বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব জনাব মোঃ আলমগীর,  বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের টেকনিক্যাল  এক্সপার্ট জনাব মোঃ শাহাবুদ্দিন, সময় টিভি’র বার্তা প্রধান  জনাব তুষার আব্দুল্লাহ এবং সময় টিভি’র রিপোর্টার জনাব বেলায়েত হোসাইন-এর বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে উল্লেখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহ কিভাবে তাদের মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য এবং রিপোর্ট প্রচারের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সারা জীবনের  অর্জিত  সুনাম  মুহূর্তে  ভূলুণ্ঠিত করেছেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে কিভাবে মহাবিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছেন, তার একটি বর্ণনা দেওয়া হয় এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়।

 

এই লিগ্যাল নোটিশের জবাবে  বিগত ০৯.০৯.২০২০  তারিখে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব জনাব মোঃ আলমগীর তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠান।  চিঠিতে তিনি স্বীকার করেন যে তাঁর বক্তব্য কাটছাঁট করে রং ছড়িয়ে সম্পাদনা করে চটকদার শিরোনামে রিপোর্ট প্রচারের ফলে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের মারাত্মক মর্যাদাহানি হয়েছে।  এই অপকর্মের জন্য তিনি সম্পূর্ণরূপে সময় টিভিকে দায়ী করেন। নির্বাচন কমিশন সচিব তার বক্তব্য বিকৃত করে প্রচারের জন্য সময় টিভির বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছেন বলে জানান।

 

উল্লেখ্য, লিগ্যাল নোটিশের অন্যান্য পক্ষগণ এখনো পর্যন্ত কোন প্রকার জবাব দেননি। এই প্রেক্ষিতে সময় টিভির বার্তা প্রধান জনাব তুষার আবদুল্লাহ এবং সময় টিভির রিপোর্টার জনাব বেলায়েত হুসাইন কে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এবং ই-মেইলের মাধ্যমে দ্বিতীয় লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

 

এমতাবস্থায়, . মিজানুর রহমান মানবাধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটি মনে করে যে, ড. মিজানুর রহমানের মত একজন জাতীয় ব্যক্তিত্বের এরকম মারাত্মক মর্যাদাহানির ঘটনা একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার অংশ।  এরকম একটি অপপ্রচারের ফলে  শুধু ব্যক্তি ড. মিজানুর রহমান নন, জাতীয়ভাবে বাংলাদেশের সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সমগ্র দেশের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ এই ঘটনায় অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। ভবিষ্যতে যে দেশের আরো অনেক নাগরিককে অকারণে এভাবে হয়রানি করা  হবে  না, তার নিশ্চয়তা নেই। ব্যক্তিগত আইনী পদক্ষেপের পাশাপাশি একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে না উঠলে ভবিষ্যতে এ জাতীয় বিপর্যয়ের কবল থেকে জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। আর সেক্ষেত্রে ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি-চেতনাটিই ভূলুন্ঠিত হবে।

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং মহানমুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালেমুক্তিযুদ্ধের চেতনা-বিশ্বাসী ড. মো: মিজানুর রহমান মানবাধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটি মনে করে যে, ত্রিশলক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের মাতৃভূমি পরিচালনে পবিত্র সংবিধানে প্রতিশ্রুত “সংবিধানের প্রাধান্য” [অনুচ্ছেদ ৭। (১)]- “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ : এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে” – এই- ই হবে আমাদের সকল কর্মকান্ডের দিশারী।

 

 

উল্লেখ্য, লিগ্যাল নোটিশের অন্যান্য পক্ষগণ এখনো পর্যন্ত কোন প্রকার জবাব দেননি। এই প্রেক্ষিতে সময় টিভির বার্তা প্রধান জনাব তুষার আবদুল্লাহ এবং সময় টিভির রিপোর্টার জনাব বেলায়েত হুসাইন কে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এবং ই-মেইলের মাধ্যমে দ্বিতীয় লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

 

এমতাবস্থায়, . মিজানুর রহমান মানবাধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটি মনে করে যে, ড. মিজানুর রহমানের মত একজন জাতীয় ব্যক্তিত্বের এরকম মারাত্মক মর্যাদাহানির ঘটনা একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার অংশ।  এরকম একটি অপপ্রচারের ফলে  শুধু ব্যক্তি ড. মিজানুর রহমান নন, জাতীয়ভাবে বাংলাদেশের সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সমগ্র দেশের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ এই ঘটনায় অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। ভবিষ্যতে যে দেশের আরো অনেক নাগরিককে অকারণে এভাবে হয়রানি করা  হবে  না, তার নিশ্চয়তা নেই। ব্যক্তিগত আইনী পদক্ষেপের পাশাপাশি একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে না উঠলে ভবিষ্যতে এ জাতীয় বিপর্যয়ের কবল থেকে জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। আর সেক্ষেত্রে ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি-চেতনাটিই ভূলুন্ঠিত হবে।

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং মহানমুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালেমুক্তিযুদ্ধের চেতনা-বিশ্বাসী ড. মো: মিজানুর রহমান মানবাধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটি মনে করে যে, ত্রিশলক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের মাতৃভূমি পরিচালনে পবিত্র সংবিধানে প্রতিশ্রুত “সংবিধানের প্রাধান্য” [অনুচ্ছেদ ৭। (১)]- “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ : এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে” – এই- ই হবে আমাদের সকল কর্মকান্ডের দিশারী।

 

 

Check Also

ইভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি-হস্তান্তরে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

প্রতিবেদক: দেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *