গ্রিসে বাংলাদেশি ২ যুবককে গুলি করে হত্যা

গ্রিসে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক। গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের আসপোগিরগো এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে গুলিবিদ্ধ লাশ দুটি উদ্ধার করে গ্রিস পুলিশ।

নিহতরা হলেন- নবীগঞ্জ উপজেলার কামড়াখাই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুল মমিন (৪০) এবং একই গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে শাহীন মিয়া (২৫)।

সরেজমিন নবীগঞ্জ উপজেলার কামড়াখাই গ্রামে গিয়ে জানা যায়, আব্দুল মমিন ও শাহীন মিয়া পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরে গ্রিসে বসবাস করছিলেন। সেখানের আসপোগিরগো এলাকায় একটি কন্টেইনার কোম্পানিতে পাহারাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন আব্দুল মমিন।

আব্দুল মমিন প্রায় ১৪ বছর ধরে প্রবাসে বসবাস করছেন। ইরান ও তুরস্ক হয়ে প্রায় ২ বছর পূর্বে গ্রিসে যান শাহীন। মমিনের সঙ্গে কাজে যোগ দেন শাহীনও। মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা একজনের মাথায় এবং অন্যজনের গলায় গুলি করে হত্যা করে। পরদিন সকালে স্থানীয়রা দুজনের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

সেখানে বসবাসরত প্রবাসীরা জানান, দুটি কন্টেইনারে ডাকাতির প্রস্তুতি নেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় মমিন ও শাহীন বাধা দিলে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।

তাদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তারা বাড়িতে পাঠানোর জন্য টাকা জমা করেছিল। তাদের খুন করে টাকা-পয়সা লুট করেছে ডাকাত দল।

নিহত দুইজনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনরা নিহতদের লাশ দেশে আনার ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিহত আব্দুল মমিনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বাবা হত্যার বিচার দাবি করে তারা দেশে লাশ আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিহত আব্দুল মমিনের মা গোলেছা বিবি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে যারা নির্মম ভাবে হত্যা করেছে আমি এর বিচার চাই, সরকারের কাছে আমার একটাই দাবী ‘আমি আমার ছেলেরে শেষ দেখা দেখতাম চাই।

আব্দুল মমিনের চাচাতো ভাই মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রফিক জানান, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে মমিন প্রবাসে বসবাস করে আসছে, সে প্রথমে এক বছর ইরান, তুরষ্ক দুই বছর ও গত ১০ বছর ধরে গ্রীসে বসবাস করে আসছে। হঠাৎ করে এমর ঘটনায় আমরা শোকে কাতর। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই একই সাথে নিহতদের দেশে আনতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করছি।

নিহত আব্দুল মমিনের ভাতিজা মিজানুর রহমান জানান, আমার চাচা দেশে থাকতে অনেক ভালো মানুষ ছিলেন, অনেক ভদ্র ছিলেন, প্রবাসে গিয়ে এমন হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন আমরা চিন্তাও করতে পারি নাই, এ ঘটনায় আমাদের পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, আমরা এঘটনার সুষ্ঠ বিচারের দাবী জানাই।

নিহত শাহীন মিয়া পিতা নুর হোসেন জানান, অবিবাহিত শাহিন পরিবারের কথা চিন্তা করে বিগত ৭ বছর পূর্বে প্রবাসে যায়। সেখানে ইরান ৪ বছর, তুরষ্ক এক বছর ও ২ বছর ধরে গ্রীস বসবাস করে আসছে। এ দুর্ঘটনার আগের আমাদের সাথে কথা হয়েছে শাহীনের এমন ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই, এবং আমার ছেলেকে শেষ দেখা দেখতে চাই। লাশ দেশে ফেরাতে সরকারের সহযোগিতাও চান নিহত শাহীনের পরিবার।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন জানান, খবরটি শুনে তিনিও শোকাহত। লাশ দেশে ফেরাতে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Check Also

চলমান বিধিনিষেধ বাড়ানোর সুপারিশ

প্রতিবেদক: দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে মৃত্যুর রেকর্ড বেড়েই চলছে। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *