বিলের মুখে সুতীজাল স্থাপন

সাপাহারে জবাই বিলের দু’পাশের বিপুল পরিমান আমন ধানের জমি পানির নিচে
বাবুল আকতার,সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলের উত্তর প্রান্তে মাসনাতলা ব্রীজের মুখে প্রভাবশালী একটি মহল বিশেষ মৎস্য আহরণের নামে কৃত্রিম বাঁধ তৈরী করে ¯্রােতের গতীবেগ থামিয়ে দেয়ায় উজানের অসংখ্য কৃষকের হাজার হাজার বিঘা জমির আমন ফসল অথৈই পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। তথ্য অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের জৈনক সদস্য ও তার লোকজন মিলে বিলের মাসনাতলা পাকা রাস্তায় নির্মিত বেশ কয়েকটি কালভাটের নিচে বাঁশের বেড়া ও পলিথিন দিয়ে স্বাভাবিক পানির ¯্রােত আটকিয়ে পানির ¯্রােত মাসনাতলা বড় ব্রীজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত করছে। সেখানেও পানির মধ্যে বাঁশের বেড়া দিয়ে বৃহত এলাকা ঘিরে একটি মাত্র সুরু পয়েন্টে সুতি জাল স্থাপন করে সেখান দিয়ে পানি প্রবাহিত করছে। এতে বিলের উপর ভাগের পানি স্বাভাবিক গতিতে নিচে নামতে না পেরে ওই এলাকায় বিশাল পানির চাপ সৃষ্টি হয়ে নিচের তুলনায় উপরিভাগে অনেকাংশে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে উঠেছে। বিল এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে অসংখ্য আমন আবাদের ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দৃশ্য সহ এলাকার সাধারণ কৃষকদের হা হুতাশ করতে দেখা গেছে।
এবিষয়ে বিলের মাসনাতলায় কৃত্রিম বাঁধ সৃষ্টিকারীদের দলনেতা ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জবাই বিলের মৎস্য সংরক্ষন করতে প্রতি বছর এধরনের ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। আর এজন্য মৎস্যচাষ প্রকল্পের উন্নয়নে সরকারী ভাবে মৎস্য অফিস হতে জবইবিল মৎস্যচাষ প্রকল্পের নামে ২লক্ষ ২৫হাজার টাকা জমা দিয়ে আমরা সুতীজাল স্থাপন করে মৎস্য আহরণ করছি। আমাদের কৃত্রিম বাঁধের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়নি বরং নিচের ¯ুøইচ গেটের কারণেই মুলত স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ্য হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রুজিনা পারভীনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন সুতি জালের কারণে বিলের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে না। বিলের আরোও নি¤œাঞ্চলে হাপানিয়া এলাকায় পূর্নভবা নদীর সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক একটি ¯øুইচ গেট নির্মান করা হয়েছে। বর্তমানে ওই ¯øইচ গেটের দরজা গুলি বন্ধ রয়েছে। বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকায় দরজ াগুলি যথা সময়ে খোলা সম্ভব হচ্ছেনা । মেনোয়াল পদ্ধতিতে দু’একটি দরজা খোলা হয়েছে। সে কারণেই জবাই বিলের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়েছে। ¯øইচ গেটের সকল দরজা খোলা হলে উপরের পানির চাপ অনেকাংশে কমে যাবে। এছাড়া সুতি জালের বিষয়ে তিনি বলেন যে, বাংলাদেশ মৎস্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক জবাই বিল মৎস্যচাষ উন্নয়ন প্রকল্পের অধিনে বিলে মৎস্যচাষ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বিলের অধিকাংশ মাছ যেন বিল হতে বের হয়ে না যায় সে জন্য বৃহত স্বার্থে বিলের ওই মুখে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মাছ আটকানোর জন্য সাময়িকভাবে এধরণের কৃত্রিম বেড়া দিয়ে মাছ ও পানি প্রবাহ কিছুটা বাধাগ্রস্থ করা হয়ে থাকে। তবে ভবিষ্যতে বিলের নি¤œাংশে ¯øইচ গেট সম্পুর্ন খোলা থাকলে এসমস্যার সমাধান হবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপজেলা কর্মকর্তা মজিবুর রহমানের এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন যে প্রকৃতিগত ভাবেই এবছরে বৃষ্টিপাতের পরিমান অনেক বেশী। প্রচুর বৃষ্টিপাত, কৃত্রিম বাঁধ ও নি¤œাঞ্চলের ¯øইচ গেট তিনটি কারণেই বিলের উপরিভাগের আমন ফসল তলিয়ে গেছে। ¯øইচ গেটের সকল দরজা খুলে দেয়া হলে বিলের পানি প্রবাহের চাপ অনেকাংশে কমে যাবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি জানান সুতি জাল বসানোর কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে। অনতি বিলম্বে বিলের নি¤œাঞ্চলের ওই সুতি জাল তুলে ও নি¤œাংশের ¯øইচ গেটের দরজা খুলে দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করে আমন ধানের আবাদ বাঁচানোর জন্য বিল পাড়ের কৃষকগণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

বাবুল আকতার, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি

Check Also

লিবিয়ায় মাদারীপুরের ২৪ যুবককে নির্যাতন, ভিডিও পাঠিয়ে টাকা দাবি

লিবিয়ার মাফিয়াদের কাছে বন্দি মাদারীপুরের ২৪ যুবককে শারীরিক নির্যাতন ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে টাকা দাবি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *