চাকরির নামে ঢাকায় নিয়ে ‘বিয়ে দেয়ায়’ কলেজছাত্রের আত্মহত্যা

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারিভাবে কলেজের সব কার্যক্রম বন্ধ। এ সুযোগে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্র এখলাছ উদ্দিনকে ঢাকায় নেয়া হয়। কিন্তু চাকরির বদলে জোরপূর্বক এক তরুণীর সঙ্গে এখলাসকে বিয়ে দেয়া হয়। এতে যন্ত্রণায় ভুগে আমগাছে ফাঁস নিয়েছেন এ কলেজছাত্র।

শুক্রবার রাতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আচমিতা ইউপির অগ্রেরকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এখলাছ ওই ইউপির লতু মিয়ার ছেলে। তিনি মঠখোলা হাজী জাফর আলী কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

এখলাছের বড় ভাই মো. সোহরাব উদ্দিন বলেন, দেশে করোনা মহামারি শুরু হলে কলেজ বন্ধ হয়। ওই সময় এখলাছ বাড়িতে অবস্থান করছিল। তখন প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন এখলাছকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে যায়। ঢাকায় নিয়ে নুরুল ইসলামের মেয়ে খাদিজা আক্তারের সঙ্গে এখলাছকে জোরপূর্বক বিয়ে করিয়ে দেয়। কিন্তু বিয়েটি মেনে নিতে পারেনি এখলাছ।

বিয়ের কয়েকদিন পর এখলাছ ঢাকা থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলে আসে। এরপর থেকেই কারো সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলতো না, সময় মতো খাবারও খেত না।

শুক্রবার রাত ৮টায় বাড়ি থেকে বাইরে যায় এখলাছ। এরপর এক ঘণ্টার বেশি সময় অতিবাহিত হলেও বাড়ি ফেরেনি সে। ফলে বাড়ির আশপাশে আমরা তাকে খুঁজতে থাকি। এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে কিছু দূরে পুকুরপাড়ে একটি আমগাছের ডালে তাকে ঝুলতে দেখি।

তিনি আরো বলেন, আমগাছ থেকে এখলাছকে নামিয়ে কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই বিয়ের জন্যই আমার ভাই মারা গেছে। তার বিয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার বিচার চাই।

কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান জানান, হাসপাতালে পৌঁছার আগেই এখলাছের মৃত্যু হয়েছে।

কটিয়াদী মডেল থানার ইন্সপেক্টর এমএ জলিল জানান, এখলাছের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তার মরদেহ কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Check Also

প্রবাসীর জীবনসঙ্গীরা যেসব কারণে প’র’কীয়া প্রেমে আ’সক্ত হচ্ছে

আগের দিনের রাজা বাদশাহর যুগ থেকে কল্প কা’হিনীর মুখরোচক গল্প কিংবা বর্তমান যুগে প’রকী’য়া প্রেম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *