শাবরা-শাতিলার নাম শুনেছেন কখনো?হাজার হাজার ফিলিস্তিনির আশ্রয়স্থল

শাবরা-শাতিলার নাম শুনেছেন কখনো?
১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনা এটি, সময়টা আজ থেকে ঠিক ৩৮ বছর আগে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের পশ্চিম উপকণ্ঠে স্বভূমি থেকে নির্বাসিত হাজার হাজার ফিলিস্তিনির জন্য আশ্রয়স্থল ছিল দুটো শরনার্থী শিবির। একটির নাম শাবরা এবং অপরটির নাম শাতিলা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদপুষ্ট দখলদার ইজ্রাঈলী সেনাবাহিনীর সর্বাত্নক সহযোগিতায় লেবাননের ম্যারেনাইট খ্রিস্টানপন্থী ফালাঞ্জিস্ট জঙ্গিরা ঐদিন সন্ধায় হানা দেয় এই উদ্বাস্তু শিবির দুটোয়। প্রাণ নিয়ে যেন সেখান থেকে কেউ পালাতে না পারে সে জন্য এর আগেই ই’জ্রাঈলী ট্যাংক চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে শিবির দুটো।
এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত টানা ৪০ ঘণ্টা শিবিরের মধ্যে চলে হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, আর নির্যাতন। রাতের আধারে এই গণহত্যা চালাতে সহযোগিতা করার জন্য জার* ইজ্রাঈলী সেনাবাহিনী ফ্লেয়ার জ্বালিয়ে দেয়। ৪০ ঘণ্টার এই হত্যাযজ্ঞে অন্তত তিন হাজার পাঁচশো নিরীহ ফিলিস্তিনি নারী-পুরুষ ও শিশু নিহত হয়। নিহতের প্রকৃত সংখ্যা হয়তো আরো বেশী। কারণ অনেক লাশ রাতের আঁধারে বুল্ডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আহত হয় আরও অনেক। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মূল পরিকল্পনাকারী ছিল দখলদার ই’জ্রাঈলের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন ।
ইজ্রাঈলের প্রধানমন্ত্রী মেনাহেম বেগিন লেবানন থেকে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের কার্যালয় ও কার্যক্রম অপসারণের জন্য ১৯৮২ সালের ৬ জুন লেবাননে ইজ্রাঈলী সেনা অভিযান শুরুর নির্দেশ দেয়। ৬০ হাজার সৈন্য নিয়ে ইজ্রাঈলী বাহিনী নির্বিচারে লেবাননে ধংসযজ্ঞ আরম্ভ করে। যেমনটি তারা করেছে ২০০৬ সালেও। ফালাঞ্জিস্ট নেতা এলি হোবেইকারের নেতৃত্বে চালানো হয় এই শাবরা শাতিলা হত্যাকাণ্ড । আর মূল পরিকল্পনাকারী অ্যারিয়েল শ্যারন ২০০১ সালে ইজ্রাঈলের প্রধানমন্ত্রী হয়।
ব্রিটিশ সাংবাদিক রবার্ট ফ্রিস্কের বর্ণনা অনুযায়ী, যেসব সাংবাদিক এই গণহত্যার পর ঘুরে ঘুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন, বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন সবাই, নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তারা। সংঘর্ষে ডজনখানেক মৃতদেহ মেনে নেয়া যায়, কিন্তু হাজার হাজার মানুষের অর্থহীন হত্যা? সারি সারি নারীর দেহ পড়েছিল যাদের শরীরের ছিন্নপোষাক আর দেহের ভঙ্গি শারীরিক অত্যাচারের ইঙ্গিত করছিল, আরো ছিল গলাকাটা শিশুর মরদেহ। সারি সারি করে দেয়ালের সামনে পড়ে থাকা তরুণদের লাশের পিঠে ছিল গুলির চিহ্ন। ইউএস আর্মির রেশন টিন, ইসরায়লী আর্মির যন্ত্রপাতি আর হুইস্কির খালি বোতলের পাশে জঞ্জালের মতো স্তুপ করে রাখা হয়েছিল ছোট ছোট বাচ্চাদের পচা গলা দেহ।
কিন্তু আমরা কয়জন জানি এই গণহত্যার কথা? আমরা স্পেনের খ্রিস্টানদের অত্যাচারের কথা শুনেছি। হিটলারের ইহুদী নিধনের কথা তো সবাই জানে। কিন্তু আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি শাবরা-শাতিলার ইতিহাস।রবার্ট ফিস্ক তখন প্রশ্ন করেছিলেন, “কতজন কে হত্যা করলে সেটাকে আমরা গণহত্যা বলতে পারি?”
জানতাম ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হর কারবালা কি বাদ’। কিন্তু মুসলিম জাতি এখনো জাগেনি। কে ঘুম ভাঙ্গাবে আমাদের?
শাবরা-শাতিলা গণহত্যায় যারা শহীদ হয়েছেন, আল্লাহ তাদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন, আমীন।
Special Thanks to: Hammad Sezul and Quds News Bangla.
Copy: #রিসালাতুল মুসলিমীন

Check Also

পর্ন ভিডিও থেকে দৈনিক ৮ লাখ রুপি আয় রাজ কুন্দ্রার

ডেস্ক: পর্ন ভিডিও তৈরি ও তা অ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *