কুষ্টিয়ায় শুদ্ধি আভিযানে শিল্পপতি ও ৪ জেলা পরিষদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জমি দখলের মামলা

 

কুষ্টিয়ার প্রতিনিধি :- কুষ্টিয়ায় মার্কেট ভেঙে জমি দখলের অভিযোগে এক শিল্পপতিসহ জেলা পরিষদের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সদর উপজেলার হরিশংকরপুর গ্রামের রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী-সন্তানসহ চার জন বাদী হয়ে গতকাল রোববার বিকেলে কুষ্টিয়ার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বিবাদীদের আগামী ২৪ নভেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবাদীরা হলেন— কেএনবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি ফিস ফিড উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, সার্ভেয়ার মো. মনিরুজ্জামান ও প্রশাসনিক

দীর্ঘদিন পরে হলেও কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনে ঢুকে পড়া অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতদের বিষয়ে কঠোর হচ্ছে দলের হাইকমান্ড। পাশাপাশি দলীয় সন্ত্রাসী ও দলের নাম ভাঙ্গিয়ে যারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজীসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন তাদের বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে যেতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে জমি জালিয়াতির ঘটনায় শহর যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর কয়েকদিন পরেই ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে ছাত্রলীগের কমিটি। জেলা য্বুলীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠায় এ কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হতে পারে যে কোন মুহুর্তে। এদিকে দলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর পাল্টে গেছে পুরো চিত্র।

এদিকে পুলিশ প্রশাসন জমি জালিয়াতের মূল হোতা শহর যুবলীগের সাবেক আহবায়ক আশরাফুজ্জামান সুজন ও দখল এবং চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আমিনুর রহিম পল¬ব গ্রেপ্তারের পর দলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সুজনের নাম আসায় কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়া হয় কেন্দ্র থেকে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আজগর আলী জানান,‘ প্রথম থেকে আমরা বলে আসছিলাম অনুপ্রবেশকারীরা দলে ঢুকে অপকর্ম করবে। এখন সেই কাজই এখানে হচ্ছে। নানা অপকর্ম করে দলকে তারা ডুবাচ্ছে। আমরা দলীয়ভাবে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে। যত প্রভাবশালী হোক না কেন সে।’

দলের একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, জমি জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসার পর দেখা যায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন শীর্ষ নেতা জড়িত। এরপর বিষয়টি সারা দেশে আলোচিত হয়। এমন ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর চরম ক্ষুব্ধ হন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি। তিনি প্রশাসনকে কঠোরহস্তে অপরাধীদের দমন করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দলীয়ভাবে অভিযুক্তদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন আলাদাভাবে।

জেলা আ’লীগ নেতারা জানান, মাহবুবউল আলম হানিফ এ বিষয়ে দলীয় নেতাদের নানা নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকেও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। তার সিগন্যাল পাওয়ার পর পরই সুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া এ ঘটনার মূল হোতা মহিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের বেরিয়ে আসে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ এক বার্তায় বলেছেন, অপরাধী সে যেই হোক তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে যারা অপকর্ম করছে তাদের শক্তভাবে দমনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ শহরের এনএস রোডে চাঁদাবাজি, দখলসহ নানা অপকর্ম নিয়ে আমিনুর রহিম পল¬বের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আলাদা মামলা হয়েছে। পল¬ব দীর্ঘদিন কয়েকজন নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্ম করে আসছিলেন। বিষয়টি জানলেও এতদিন চুপ ছিলেন সবাই। সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন ও দল।

এদিকে সহযোগী সংগঠনের দুই প্রভাবশালী নেতা গ্রেপ্তারের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দলের অভ্যন্তরে। যারা বালু ঘাট দখল, টেন্ডারবাজি, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্ম করছেন তারা অনেকটা চুপসে গেছেন।

জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে যারা অপকর্ম করছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান। আমাদের সংগঠনের কেউ যদি অপকর্মে জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শহর যুবলীগের কমিটির একজন নেতার কারনে যুবলীগের কিছু বদনাম হয়েছে। সে ছাত্রদল থেকে আমাদের দলে আসে। বিষয়টি আমরা আগে থেকেই কেন্দ্রকে জানায়।’

আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা জানান,‘ অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে দল কঠোর অবস্থানে। কাউকে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেয়। সকলকে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে পুলিশ প্রশাসন দলীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পল¬বকে গ্রেপ্তারের পর তার বাড়িতে তল¬াশী চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। তার সহযোগী আবু তাহেরকেও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে সুজনের অফিস থেকেও অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ অপরাধীদের কোন দল নেই। তাই অপরাধী আইনের চোখে অপরাধী। অপরাধী সে যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। সন্ত্রাসীদের পক্ষে সুপারিশকারীদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এদিকে পুলিশ প্রশাসনের কাজে ব্যাপক খুশি দলীয় নেতা-কর্মি থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ। দীর্ঘদিন পর দলীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে সব শ্রেণী পেশার মানুষ। তারা ধারাবাহিকভাবে এ কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। যাতে কেউ সুযোগ না পাই অপকর্ম করার।

কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, পুলিশ যে কাজ করছে তাতে সাধারন মানুষ খুশি। এতদিন যে কাজ কেউ করতে পারেনি বর্তমান পুলিশ সুপার সে কাজ করে সাড়া ফেলেছেন। সন্ত্রাসীদের কোন দল নেই। তারা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করে। এতে সমাজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান বলেন, অনুপ্রবেশকারি ও বিতর্কিত এবং সন্ত্রাসীদের কোন জায়গা আওয়ামী লীগে হবে না। যারা অপকর্ম করছে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। সামনে আরো কঠিন দিন আসছে। তাই সকলকে তিনি দলীয় শৃংখলা মেনে চলার অনুরোধ জানান।

কে,এম,তোফাজ্জেল হোসেন জুয়েল

Check Also

শাস্তি পেলেন জামালপুরের সেই বিতর্কিত ডিসি

বহুল আলোচিত জামালপুরের সাবেক ডিসি আহমেদ কবীরকে বেতন গ্রেড কমিয়ে শাস্তি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কর্মচারী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *