তানোরে সাইদুরকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাইদুর রহমানকে নিয়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়,জনমনে
দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, এলাকায় বইছে মুখরুচোক নানা গুন্জন, প্রতিনিয়ত এসব গুন্জনের ডালপালা মেলছে। মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা সাইদুর রহমান মাঠে নামায় তাকে নিয়ে জনমনে এসব সমালোচনা ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সৃস্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সাইদুর রহমান নিরক্ষর, ছিলেন কুলির সরদার এখানো মুন্ডুমালা মহিলা কলেজের নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত। অথচ মুন্ডুমালা দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভা ও উপজেলার শিক্ষানগরী। এমন জায়গায় যদি সাইদুরের মতো লোক মেয়র হয় তাহলে সেই লজ্জা কার ? তিনি যদি মুন্ডুমালা পৌর মেয়র হন তাহলে এমপি ফারুক চৌধুরীর অনেক আগেই দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিৎ ছিল বলে মনে করেন তৃণমুলের এসব নেতাকর্মীরা। তাদের অভিমত এলাকার কেউ বিত্তশীল হবে এটা তো তাদেরই গর্ব, কিন্ত্ত সেটা হতে হবে বৈধ পথে,কোনো অবস্থাতেই অবৈধ পথে নয়। সাইদুর কি এমন পথের দেখা পেয়েছেন, যে পথে রাতারাতি ফুঁলেফেঁপে বট গাছ হওয়া যায়,তারা এই পথ দেখতে চাই। তবে তারা কোনো পেশাকে ছোট করে দেখছেন না তারা সব পেশাকেই সম্মান করেন, তাই বলে একটা ভালমন্দ তো রয়েছে। মুন্ডুমালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক জৈষ্ঠ শিক্ষক বলেন, সাইদুর হবে পৌর পিতা আর সেটা নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হচ্ছে, এর চেয়ে পৌরবাসীর কাছে আর লজ্জার কি আছে, তিনি বলেন, এই লজ্জা পুরো মুন্ডুমালার মানুষের লজ্জা।
তৃণমুলের অভিযোগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের
(দায়িত্বহীন) সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী তার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাতারাতি সাইদুর রহমানকে মুন্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পাইয়ে দেয়। এর পর সেই শুরু আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি সাইদুরকে এখন তিনি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ, এমনকি এক সময়ের দিনমজুর সাইদুর রহমানের স্ত্রী হয়েছেন রাজশাহীর সর্বোচ্চ নারী আয়কর দাতা !
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের জৈষ্ঠ নেতা বলেন, মেয়র রাব্বানীর আর্শিবাদে ভারতীয় চিনি, কাপড়, গরু চোরাচালান ও হুন্ডির মাধ্যমে সাইদুরের যাত্রা শুরু বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এদিকে গোলাম রাব্বানী মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার
পরে মুন্ডুমালা পৌরসভার টেন্ডার বাণিজ্য (নিয়ন্ত্রণ) বিগত ১০ বছরে মুন্ডুমালা পৌরসভার প্রায় সকল টেন্ডার নামে-বেনামে নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে এখন তিনি নব্য কোটিপতি হয়ে পৌর পিতা হবার স্বপ্ন দেখছেন।
অপরদিকে মুণ্ডুমালা পৌরবাসীর অভিমত, সাইদুর রহমানকে যিনি সৃস্টি করেছেন সেই গোলাম রাব্বানী সরকার দলীয় মেয়র হিসেবে ১০ বছর যাবত দায়িত্ব পালন করে  ১০ কোটি টাকারও দৃশ্যমান  উন্নয়ন  দেখাতে পারেনি, সেখানে তার সৃস্টি সাইদুর মেয়র হলে কি উন্নয়ন হবে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়। এটা কি বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড় সেই প্রবাদ বচনকেই স্বরণ করিয়ে দেয় না। এসব বিষয়ে জানতে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সাইদুর রহমান বলেন,
তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন, দেয়া না দেয়া এটা হাইকমান্ডের বিষয়। তিনি বলেন, তার প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধ নানা অপপ্রচার করছে তবে মুন্ডুমালা পৌরসভার সিংহভাগ মানুষ তার পক্ষে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

Check Also

তানোরে আমণখেতে পোকার আক্রমণ  দিশেহারা কৃষক

  তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি রাজশাহীর তানোরে বোরো মৌসুমে ধান ও খড়ের বাম্পার ফলন এবং ভাল দাম পেয়েছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *