পায়রা নদীতে নির্মিত হচ্ছে ‘শেখ হাসিনা পায়রা ব্রিজ’

বরগুনা জেলার পায়রা নদীতে বরগুনা-আমতলী অংশে স্থানীয় মানুষের স্বপ্নের সেতু নির্মাণ বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত সেতুটির নাম হবে ‘শেখ হাসিনা পায়রা ব্রিজ’।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস এ তথ‌্য জানান।

প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফেরদৌস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পায়রা নদীতে পটুয়াখালীর লেবুখালী ও মির্জাগঞ্জ এবং বরগুনা-আমতলীতে তিনটি সেতু নির্মিত হচ্ছে। মির্জাগঞ্জ ও বরগুনার দুই সেতুর ডিজাইনসহ দাপ্তরিক কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আরও কিছু মাঠ পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হলেই অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রাক্কলিত ব্যয় প্রস্তাব দাখিল করা হবে।’

লেবুখালী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক নূর-ই আলম জানান, প্রায় এক হাজার ১৭০ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এক হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের লেবুখালী সেতুর কাজ ২০১৬ সালের ২৪ জুন শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ৬২ শতাংশ এবং মোট প্রকল্পের কাজ ৫৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে নির্মাণকাজের গতি কিছুটা ধীর হলেও এই পরিস্থিতিতেও এক শিফটের কাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, ‘‘পায়রা নদীতে সেতুর বিষয়ে দির্ঘদিন ধরে সরকারের সেতু বিভাগের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে আসছি। সেতু বিভাগের সচিব রশিদুল হাসান, সেতু বিভাগের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব ড. মো মনিরুজ্জামান, সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রকল্প পরিচালক (পায়রা সেতু) মো. তোফাজ্জেল হোসেন ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানকে নিয়ে আমরা সম্ভাব্য প্রকল্পস্থানসমূহ পরিদর্শন করেছি।

‘এ অঞ্চলের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সেতুটির গুরুত্ব অপরিসীম। পরিদর্শন শেষে সার্কিট হাউসে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, ব্রিজের নাম হবে ‘শেখ হাসিনা পায়রা ব্রিজ’।”

ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু জানান, বরগুনা-আমতলী পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেতুর কাজের অগ্রগতি তদারকি করছি।

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, পায়রা নদীতে সেতু নির্মিত হলে বরগুনার সকল স্তরে উন্নয়ন হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সকল সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

জেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, এই সেতু নির্মিত হলে জেলার উন্নয়নের নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি জেলার পর্যটন ও মৎস্যখাতও সমৃদ্ধ হবে।

Check Also

রৌমারীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ।। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ৪২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি।। 

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ রৌমারী উপজেলায় ব্রম্মপুত্র নদের কিনার থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে  ড্রেজার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *