ব্যস্ত সময় পার করছেন শিবগঞ্জের প্রতিমা শিল্পীরা

 

শিবগঞ্জ বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিবগঞ্জের প্রতিমা শিল্পীরা। আর মাত্র ক’দিন পরেই সনাতন (হিন্দু) ধর্মলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দ‚র্গা প‚জা। প‚জার প্রায় ২ মাস আগে থেকেই প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মন্ডপে দ‚র্গাপ‚জা উদযাপন করা হবে। সনাতন (হিন্দু) হিন্দু স¤প্রদায়ের দেবী দ‚র্গা এবার দোলনায় আগমণ এবং গজে গমণ করবেন।
শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫৩টি প‚জামন্ডপে প‚ঁজা অর্চনা হবে। উপজেলা প‚জা উদযাপন কমিটি ইতিামধ্যে প‚জা উদযাপনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে এ বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভানের কারণে প‚জা মন্ডপগুলোতে সাজসজ্জা করা হবে না। সাদা সিধে ভাবে প‚জা উদযাপন করবেন উপজেলার সনাতন (হিন্দু) স¤প্রদায়ের। তাই এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে প‚জামন্ডপে স্বাস্থ্যা বিধি মেনে প‚ঁজার কার্যক্রম করা হবে।
উপজেলার প‚জা মন্ডপগুলো ঘরে দেখে গেছে, মন্ডপগুলোতে উৎসবের ছোয়া লেগেছে। বিরামহীন ভাবে প্রতিমা তৈরীর কাজ করেছেন প্রতিমা শিল্পীরা। উপজেলার সাদুল্যাপুর গ্রামের মৃত অজিত মহন্তের ছেলে শ্রী হারাধন মহন্ত প্রতিমা তৈরীর কাজ করছেন। ত্রিশ বছর ধরে এ পেশায় আছেন তিনি। তার বাবা-ঠাকুরদা সকলেই প্রতিমা তৈরীর কাজ করেছেন। এখন তিনি নিজে তৈরী করেন প্রতিমা।
করোনাভাইরাসের কারনে দ‚র্গা প‚জা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন তিনি। তার পরেও এবার তিনি দশটি মন্ডপ থেকে প্রতিমা তৈরীর অর্ডার পেয়েছেন। এই দশ সেট প্রতিমা তৈরীর কাজে বেশ ব্যস্ত তিনি। দু’জন কারিগর সহকারী হিসাবে তার সাথে কাজ করছেন। দিনরাত কাজ করছেন তারা। আর কয়েকদিন পরেই শারদীয় দ‚র্গাপ‚জা। নির্ধারীত সময়ের মধ্যেই তাকে সরবরাহ করতে হবে প্রতিমাগুলো। তাই সময়মত খাওয়া দাওয়া নেই হারাধনের। তিনি প্রতিটি দ‚র্গা প্রতিমার সেট বিক্রি করেন ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা।
উপজেলার সাদুল্যাপুর গ্রামের প্রতিমা শিল্পী শ্রী হারাধন মহন্ত এ প্রতিবেক-কে বলেন, হামরা খুব কষ্ট করে মাঠির প্রতিমা বানাই। কি করমো আর তো কোন কাম করবের পারিনে তাই বাপ-দাদার পেশা আঁকরে ধরেই আছি। একন হামাগেরে অবস্থাা খুব খারাপ সেডে দেকপের কেউ নাই। তিনি আরও বলেন, প্রতিমা বানানের জন্য ব্যবহৃত এটেল মাটি তাদের গ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে মাগনা আনা যেত। এখন সেই মাটি বিভিন্ন জায়গা থেকে টেকা দিয়ে কিনে গাড়ী করে আনতে হয়। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে মাটি দিয়ে বানে রোদে শুকে রং করে সেগুলো উপজেলার বিভিন্ন প‚জামন্ডপ গুলোতে বেচা হয়। আমার বানান প্রতিমা শিবগঞ্জ উপজেলা, সোনাতলা, গোবিন্দগঞ্জ, ঘোড়াঘাটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়।
শিবগঞ্জ উপজেলা প‚ঁজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রাম নারায়ণ কানু এ প্রতিবেদক কে বলেন, করোনাভাইরাসের কারনে এবছর প‚জা মন্ডপগুলোতে সাজসজ্জা ছাড়াই সাদা সিধে ভাবে প‚জা উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার সবকটি মন্ডপে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে প‚জা উদযাপন করবেন ভক্তরা।

Check Also

ওষুধের দোকানে রেক্টিফাইড স্পিরিট !

বায়েজীদ (গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি) : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিপুল পরিমাণ রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ আশরাফ আলী (৪২) নামে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *