তানোরের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মহল বিক্ষুব্ধ 

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোর পৌরসভার গোল্লাপাড়া হাটে প্রশ্নবিদ্ধ উচ্ছেদ অভিযানে আওয়ামী লীগ মতাদর্শী
ভুমিহীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে,। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নীতিমালা লঙ্ঘন ও গোপণে জামায়াত-বিএনপির বিত্তশীল নেতাদের নামে হাটের সরকারি জায়গা লীজ দেয়া হলেও রহস্যজনক কারণে আওয়ামী লীগ মতাদর্শী ভুমিহীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লীজ না দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বিএনপি-জামায়াত মতাদর্শীদের এসব উচ্ছেদের দাবিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক(ডিসি), রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) ও তানোর পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে এলাকাবাসী  এবিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃস্টি আকর্ষণ এবং  স্থানীয় সাংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ।স্থানীয়রা জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে বাজারের আওয়ামী লীগ মতাদর্শী ভুমিহীন শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করা হলেও বিএনপি-জামায়াত
নেতাদের ঘর উচ্ছেদ না করায় এটাকে জামায়াত-বিএনপিপ্রীতি বলে তারা মনে করেছে। আবার কেউ কেউ বলছে তানোর পৌর মেয়রের ইচ্ছে পুরণ করতে পৌর নির্বাচনের আগে গোপণে জামায়াত-বিএনপি নেতাদের লীজ দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান করে  এমপিবিরোধীদের খুশি করার পাশাপাশি স্থানীয় এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে আঘাত করা হয়েছে। তারা বলেন, গোল্লাপাড়া হাটেের সিংহভাাগ ব্যবসায়ী আওয়ামী মতাদর্শী হয়েও তারা কোনো ঘর ইজারা পায়নি পেয়েছে জামায়াত-বিএনপির নেতারা। তারা বলেন, প্রকৃত পক্ষে সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারের জন্যই যদি উচ্ছেদ অভিযান তবে গোপণে হাটের জায়গা জামায়াত-বিএনপির নেতাদের লীজ দিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ কেনো ? লীজ দেয়া হলে সকলকেই দেয়া হোক।  একদিকে যখন উচ্ছেদ অভিযান চলছে, অন্যদিকে জামায়াত-বিএনপির নেতাদের ঘর উচ্ছেদ না করে গোপণে ইজারা দেয়া হয়েছে। এদিকে প্রশ্নবিদ্ধ উচ্ছছেদ অভিযানে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা প্রতিনিয়ত এসব জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের ঘর নিয়ে নানা প্রশ্ন করে তাদের বিব্রত করছেন। অথচ যেই বিষয়ের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের কোনো সম্পৃক্ততা নাই, শুধুমাত্র  প্রশ্নবিদ্ধ উচ্ছেদ অভিযানের কারণে তাদের সেই বিষয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে এর দায় নিবে কে  ? আবার উপজেলার  সব হাট-বাজারে অবৈধ স্থাপনা থাকলেও রহস্যজনক কারণে কেবলমাত্র গোল্লাপাড়া হাটে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান করা হয়েছে। এনিয়ে গোল্লাপাড়া বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন দোকানঘর ভাংচুর শুরু করেছিলো, বনিক সমিতির পক্ষ থেকে এসব দোকান সরিয়ে নেয়ার জন্য সময় নেয়া হয়েছে ২/১দিনের মধ্যেই সকল দোকান সরিয়ে নেয়া সম্পূর্ন হবে। তবে, তিনি আলোচিত ঘর গুলো না ভাঙ্গায় এবং একক ভাবে হাটের সরকারী জায়গা লীজ দেয়ার বিষয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন যদি সরকারী জায়গা লীজ দিয়ে থাকেন তাহলে সবাইকে দেয়া হলো না কেনো ? কেনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এসব দোকানঘর ভেঙ্গে বেকার করে দেয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো ? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন বেকার হয়ে পড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রশাসনের রহস্যজনক ভুমিকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে গোল্লাপাড়া বাজার বনিক সমিতির সহ-সভাপতি রাকিবুল হাসান পাপুল সরকার বিষ্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ বলেন, প্রশাসনের খামখেয়ালী পনার কারনে বাজারের দরিদ্র শ্রেনীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে গেলো। তিনি বলেন, লীজ দেয়া হলে সবাইকে দেয়া উচিৎ ছিলো তা না করে প্রশাসন রহস্যজনক কারনে চিহিৃত জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের  দোকান ঘর কি বিবেচনায় এককভাবে লীজ  দেয়া হলো ? সেটা অবশ্যই তদন্তের দাবি রাখেন। তিনি এবিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। #

Check Also

পত্নীতলায় ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় প্রাণে রক্ষা পেল বিদ্যুৎ কর্মী

শামীম আক্তার চৌধুরি প্রিন্স, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি ঃ পত্নীতলায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজ করতে গিয়ে পল্লী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *