আলোচনা সভা না গীবত চর্চা  ! 

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোরে আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর  ৭৪তম জন্ম দিনের আলোচনা সভা নিয়ে আওয়ামী লীগের আদর্শিক নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, বইছে মুখরুচোক নানা গুন্জন, জনমনেও মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়। চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার তানোর পৌরসভার তালন্দ বাজারে আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত কথিত আলোচনা সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের (দায়িত্বহীন) সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বক্তব্য নিয়ে জনমনে এসব ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সৃস্টি হয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। দলীয় সুত্রে জানা গেছে, দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে দায়িত্ব অবহেলা ও সংগঠন পরিপন্থী কর্মকান্ডের অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সিনিয়র সহসভাপতি খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে যুগ্ম-সম্পাদক রাম কমল সাহাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের ব্যানারে তারা কোনো কর্মসুচি দিতে পারেন না। কিন্ত্ত পৌরসভা নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে তারা দলীয়কোন্দল সৃস্টি ও জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ফের অপ তৎপরতা শুরু করেছে, এরই অংশ হিসেবে তানোর পৌর মেয়রের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় তারা ওই কথিত আলোচনা সভা ও দোয়া আয়োজন করেছেন বলে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগের ব্যানারে কথিত আলোচনা সভা ও দোয়া আয়োজন করা হলেও সেখানে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল তেমন কোনো নেতৃত্ব ছিল না,আবার দর্শকের সারিতে উপস্থিতদের সিংহভাগ ছিল জামায়াত-বিএনপি ও হাতুড়ী প্রতিকের মতাদর্শী। তারা আরো বলেন, আলোচনা ও দোয়ার পরিবর্তে বক্তারা স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী এবং উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে, যাকে বলে রীতিমত গীবত চর্চা। অন্যদিকে তারা আওয়ামী লীগের কর্মসুচি দাবি করলেও সেখানে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল তেমন কোনো নেতাকর্মী না থাকায় তাদের কথিত কর্মসুচি নিয়ে জনমনে নানা সন্দেহ ও উদ্বেগের সৃস্টি করেছে। কারণ এদিন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিসরে উপজেলা সদরে দিনব্যাপী নানা কর্মসুচি পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসুচিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সম্পাদক,  উপজেলা চেয়ারম্যান, দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন পরিষদ ইউপির সভাপতি-সম্পাদকসহ প্রতিটি কমিটির সাংগঠনিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।তাহলে দায়িত্বহীনরা কোন মুখে বলেন তাদের টা আওয়ামী লীগের কর্মসুচি, তারা যদি আওয়ামী হয়, তাহলে যেখানে উপজেলা, পৌরসভা ও  ইউপি কমিটির দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন তারা কারা। আসলে পদপদবী হারিয়ে তারা বগী (আক্যাম্যা) নেতায় পরিণত হওয়ায় তাদের গ্যান-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমুল। প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান,এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যনকে নিয়ে তাদের গীবত করার খবর ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে পরিস্থিতি বে-গতিক বুঝতে পেরেই তড়িঘড়ি কর্মসুচি সমাপ্ত ঘোষণা দিয়ে তারা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়ে। এব্যপারে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপাপ্ত সভাপতি খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরী বলেন, রাব্বানী ও মামুন এখন আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসুচি ঘোষণা করতে পারেন না, অনেক আগেই তারা আওয়ামী লীগের ট্রেন থেকে পড়ে গেছে।তিনি বলেন, নির্বাচনের মৌসুম এলেই তারা নানা কৌশলে জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাদের বি-টিম হয়ে কাজ করে এটা নতুন নয়।#

Check Also

তানোর আওয়ামী লীগে তৃণমুলে আর্তনাদ

তানোর আওয়ামী লীগে তৃণমুলে আর্তনাদ আলিফ হোসেন,তানোর রাজশাহী-১ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে মোস্তাক প্রেতাত্বের আর্বিভাব ঘটেছে এতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *