সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই, সীমানা নেই সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

তৃণমূল এনডিএমের ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার
মোশাররফ হোসেন এমপি
সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই, সীমানা নেই
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন
এমপি বলেছেন, সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই, সীমানা নেই। সন্ত্রাসবাদ ও
জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব রাষ্ট্রকে
একযোগে কাজ করতে হবে। শেখ হাসিনার পিতা বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমান ও তার মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন ভাই এবং অন্য
নিকটাত্মীয়দের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ৩২ নম্বরের ধানমন্ডীর বাড়ীতে
নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনা অনেকবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার
হয়েছে। আমি বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছি, তার কন্যা শেখ হাসিনার সাথে
রাজনীতি করছি। বঙ্গবন্ধু এদেশের জন্য অনেক স্বপ্ন দেখেছেন এবং অনেক
বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি বিশ^াস করতেন না কোন বাঙ্গালী তাকে হত্যা করবে।
জার্মানীতে থাকার কারণে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা প্রাণে বেঁচে গেছেন।
১৯৮০-৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সম্মলনে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি
নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। তখন লক্ষ জনতা তাকে অভ্যর্ত্থনা জানিয়েছন। তিনি
খুজে পেয়েছেন বাঙ্গালী জাতির মধ্যে তার মা ও বাবাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার যাদুকরী নেতৃত্ব এবং একের পর এক সাহসী পদক্ষেপ কার্যত দেশকে এই
অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে গেছে।
গতকাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত তৃণমূল এনডিএমের ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও
গণতন্ত্রের মানস কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে
“উন্নয়নের বাংলাদেশ এবং একজন শেখ হাসিনা” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান
অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসকে শেখ হাসিনার
নেতৃত্বে আমরা তা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছি। বিভিন্ন উন্নত রাষ্ট্রগুলোর
মৃত্যুর হারের চেয়ে আমাদের মৃত্যুর হার অনেক কম। আজ দেশ উন্নয়নের রোল
মডেল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শেখ হাসিনার জন্মদিন আমাদের মাঝে আসবে। শেখ
হাসিনা যাতে শত বছর বেঁচে থাকে তার জন্য দোয়া করছি।
সভাপতির বক্তব্যে তৃণমূল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (তৃণমূল
এনডিএম) এর চেয়ারম্যান জননেতা খোকন চৌধুরী চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান দুই
বারের সফল মন্ত্রীকে আবারো মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই উল্লেখ করে বলেন,
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যখন দেশে ক্রমে বেড়েই চলেছে কোভিড-১৯ রোগে
আক্রান্তের সংখ্যা। ঠিক এর শুরু থেকেই এ যুদ্ধের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত
করেছেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। সংক্রমণ রোধে অর্থনৈতিক স্থবিরতা নেমে
আসবে জেনেও, দীর্ঘ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মানুষকে নিরাপদ করার প্রয়াসে
নির্দেশ দেন ‘ঘরে থাকার’। অর্থনীতি থেকে শুরু করে পরিবর্তিত সামাজিক
বাস্তবতায় সবকিছু থমকে দেয়ার বৈশ্বিক এই দুর্যোগেও বিরতিহীন যিনি শ্রম
দিয়ে যাচ্ছেন তিনি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। অচেনা এই দুর্যোগের ধাক্কা
সামাল দিতে সমাজের সব শ্রেণির জন্য রাষ্ট্রের তরফ থেকে প্রতিনিয়তই ‘কিছু
না কিছু’ বন্দোবস্ত করে চলেছেন তিনি।
তৃণমূল এনডিএম চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা প্রবীণ সাংবাদিক কামরুল হুদা বলেন,
ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা
অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে গভীর সমুদ্রের তলদেশে
অপটিক্যাল ফাইবার, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, মোবাইল ব্যাংকিং,
উপজেলা শহরে ব্যাংকের এটিএম বুথ, সহজলভ্য ইন্টারনেট সেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে
দিয়েছেন। তার ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচি ও নাগরিকদের ‘আইডি কার্ড’ দেয়ার
কর্মসূচি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র বাস্তবে রূপ
দিয়েছেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে তৃণমূল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (তৃণমূল
এনডিএম) এর মহাসচিব মাওলানা আবদুল হান্নান বলেন, শেখ হাসিনার ডায়নামিক
লিডারশিপ দেশকে অন্যন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নসহ অনেক
বিষয়ে বিশ্বের বহু দেশের কাছে বাংলাদেশ এখন উদাহরণ। প্রাকৃতিক বিপর্যয়,
ঝড়-বন্যা-খরা সামাল দেয়ার ক্ষেত্রেও তাই। দেশের উন্নয়ন, বেসরকারি খাতকে
সহায়তা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধপূর্ণ বিশ্ব রাজনৈতিক
পরিমন্ডলে বিদেশনীতিতে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ এমন ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব
খুব কম নেতাই দেখাতে পেরেছেন। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেরই প্রতিবেশীর সঙ্গে
বিরোধ ওপেন সিক্রেট।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে রাশিয়া আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল
ওয়াহাব লিটন বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামো নির্মাণ, জঙ্গি ও
সন্ত্রাসবাদ দমন, ধর্মনিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বিচারহীনতার
সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার কারণে বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের সমর্থন
বেড়েছে। এ পর্যন্ত কোনো হামলা-হুমকি ও বাধা তাঁকে লক্ষ্যচ্যুত করতে
পারেনি। অকুতোভয় সাহসী জননন্দিত শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আজ
সারাবিশ্বে উন্নয়নের মডেল।
নাছির উদ্দিন আহমদ ও পারমিতা ঘোষের যৌথ পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য
রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, মো. সোলায়মান,
সাইফুল ইসলাম রায়হান, দিলীপ দাশ, ফরিদ আহমদ অমৃত, এডভোকেট আবদুল্লাহ
বাগমার, রাখাল চন্দ্র দে। বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম,
প্রণব চৌধুরী. মো. ফরিদুল আলম, যুগ্মমহাসচিব খোরশেদ আলম, প্রণব
চক্রবর্তী, মোহাম্মদ আবু জাফর বাবু, মোখলেছিন আকতার, মেজবাহ উদ্দিন হিরণ,
মাওলানা নাছির উদ্দিন শেখ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ফরিদা ইয়াসমিন, রুনা
খানম, সুলতানা বেগম রুপা, শিল্পী আকতার, সাহিদুল আলম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয়
ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. ফয়সল আহমদ মজুমদার।
এ সময় তৃণমূল এনডিএমের ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদ
আহমদ, সদস্যসচিব নজরুল হক নুরু, বিভাগীয় সমন্বয়ক জসিম উদ্দিন, মোজাহারুল
হক মুকুল, সদস্যসচিব রেজাউল করিম, জসিম উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, শাহজালাল
রাজন, দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন কামাল,
বরিশাল জেলার আহবায়ক মিলন হোসেন, ঢাকা মহানগর যুগ্ম-আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন,
ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মো. মশিউর রহমান, জয় দাশ, এ এইচ
মোস্তফা কামাল, এ. জেড মোস্তফা কামাল, রাকিব হোসেন, মো. আবদুল জলিল,
প্রমুখ।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে তৃণমূল এনডিএম চেয়ারম্যান
খোকন চৌধুরীর পক্ষ থেকে দেশব্যাপি ২৭ হাজার ১০ টি বৃক্ষ বিতরণের জন্য ১০
টি বৃক্ষ বিতরণ করে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সাবেক মন্ত্রী
মোশাররফ হোসেন এমপি ও তৃণমূল এনডিএম চেয়ারম্যান খোকন চৌধুরী।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শেষে পথশিশুদের ১০০ টি খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হয়।

Check Also

ইউএনও’কে ছাড়াই বরিশালে ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হলো যেভাবে

অবশেষে সমঝোতার মাধ্যমে বরিশাল সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমানের (ইউএনও) বাসায় হামলার ঘটনার সমাধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *