এইচএসসি পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়নের কথাও ভাবা হচ্ছে

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়নের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনলাইনে এ বিষয়ে মতবিনিময়ে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শীতে করোনার সেকেন্ড ওয়েব আসতে পারে, সেটিও আমরা মাথায় রেখেছি। কেউ কেউ পরীক্ষা ছাড়াই মূল্যায়ন চাইছেন। আমরা সেটিও নাকচ করছি না। কারণ, সব চেষ্টার পরও পরীক্ষা নেয়া না গেলে আমাদের শিক্ষার্থীরা কি এগিয়ে যাবে না? সেক্ষেত্রে পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়নের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে, আমাদের সেটিও ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। কারণ, পরীক্ষার আগ মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। আমাদের প্রশ্নও তৈরি আছে। কিন্তু ১৪ লাখ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে একজন করে অভিভাবক কেন্দ্রে গেলেও শিক্ষকসহ ২৫ থেকে ৩০ লাখ লোকের সম্পৃক্ততা থাকে। যারা অধিকাংশই গণপরিবহন ব্যবহার করবেন। সেজন্য আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এইচএসসির বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সবকিছু আমরা ঠিক করেছি। আগামী সোম বা মঙ্গলবারের মধ্যে পরিপূর্ণ পরিকল্পনা তারিখসহ ঘোষণা করতে পারবো। কতটুকু পরীক্ষা নেবো, কী পদ্ধতিতে নেবো সেটি সেদিন জানাতে পারবো। তবে পরীক্ষাদের আমরা অন্তত চার সপ্তাহ সময় দেবো। চেষ্টা করবো দ্রুততম সময়ের মধ্যে কত নাম্বারের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে এটি সম্পন্ন করতে পারি। আর জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলও আমরা মূল্যায়নে নিয়ে আসতে পারি।

তিনি আরো বলেন, সকল প্রস্তাবনা নিয়েই সোম বা মঙ্গলবার আবার সবার সামনে আসবো। কিন্তু আমাদের পরীক্ষা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সবাই যেন দুশ্চিন্তা ছাড়া পরীক্ষা দিতে পারে সেদিকে আমরা লক্ষ রাখছি। আর যারা পরীক্ষা দিতে পারবেন না তাদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সেটি সোম-মঙ্গলবার জানাবো।

করোনা পরিস্থিতির কারণে আবারো দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ছে, শিগগিরই তারিখ জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক এতে সংযুক্ত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। কয়েক দফা বাড়িয়ে সর্বশেষ আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়াও ইতোমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে চলতি বছরের পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা। আটকে আছে এইচএসসি পরীক্ষাও।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের এ সময় পাঠদানের ধারাবাহিকতা রাখতে সংসদ টিভি এবং বেতারে ক্লাস পরিচালনা ছাড়াও অনলাইনে পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও চলছে অনলাইন পাঠদান প্রক্রিয়া।

Check Also

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে ৩০ মার্চ

দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর আগামী ৩০ মার্চ দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *