ডেঙ্গুর শঙ্কা, প্রস্তুত সিটি কর্পোরেশন

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই রাজধানীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এ পরিস্থিতিতে মশক নিধনে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে  ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

ধানমন্ডির বাসিন্দা মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ছেলে মেয়ের স্কুল কলেজ সবই বন্ধ। আমাদের মতন মধ্যবিত্ত মানুষদের এখন বেঁচে থাকায় সব থেকে বড় লড়াই। কিছুদিন আগে ঘরের সবার জ্বর ছিল। ভয়ে হাসপাতালেও যায়নি। এটা ডেঙ্গু না করোনা ছিল কিছুই জানি না। আল্লাহর রহমতে এখন সবাই ভালো আছে।

জামাল হোসেন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, আমাদের পরিবারের কারো জ্বর না হলেও বাড়ির আশেপাশে অনেকেরই ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে। এবারের জ্বরের পরিমাণ অনেক বেশি। এই করোনা পরিস্থিতিতে কোনটা যে কি জ্বর তা বোঝা কঠিন। সবাইকে আরো সাবধান হওয়া উচিত।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৫নং কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বাবলা বলেন, ডেঙ্গুর বৃদ্ধি যেন না হয় সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। লেকের পানিতে জাল ফেলে ময়লা পরিষ্কার করছি, এতে মশার লার্ভা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও প্রতিদিন এলাকা ভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়ে মশক নিধন ও ডেঙ্গু মশা বিস্তার রোধে জীবাণু নাশক স্প্রে ছাড়ানোর কাজ চলছে। আগে থেকে এখন মশার উপদ্রব অনেক কমে এসেছে।

বর্ষাকাল বৃষ্টির মৌসুম। এই সময় বৃষ্টির পানি জমে থাকে ড্রেনে, প্লাস্টিকের বোতলে, বাড়ির আঙ্গিনায়, এমনকি বাসার ছাদে জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয় ডেঙ্গু মশা। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ২০১৬ সালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি প্রায় ১৪ জন। তবে এ বছরের জ্বরে অনেকেই পরীক্ষা না করেই বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ধানমন্ডিতে ডেঙ্গুর প্রভাব সমর্পকে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. মো. লুৎফুল কবির বলেন, ধানমন্ডিকে ডেঙ্গুর স্থায়ী আবাসিক স্থল বলা যায়। প্রতিদিনি ডেঙ্গু জ্বরের রোগী হাসপাতালে আসে। অবস্থা গুরুতর না হলে আমরা বাসায় পাঠিয়ে দিচ্ছি। ডেঙ্গু জ্বরের মূল কারণ সাধারণত জনগণের অসাবধানতা ও মশারি না ব্যবহার করার কারণ। ডেঙ্গুর কোনো টিকা বের হয়নি তাই এই বিষয়ে সাবধান হতে হবে। কারো যদি ২-১ মাসের মধ্যে ২য় বার জ্বর হয় তাহলে তার জন্য সেটা মারাত্মক সেক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিকার হিসেবে চিকিৎসকের মতে, জ্বর হলে মশারি ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করা যাবে না। কিছু না খেতে পারলে এবং বমি হলে স্যালাইন খেতে দিতে হবে। শরীর ব্যথা হলে কোনোভাবেই ব্যথার ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। শুধুমাত্র জ্বরের ওষুধ প্যারাসিটামল খেতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Check Also

সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি বন্ধ

সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি সম্ভব নয়, কারণ হিমাগার থেকে কিনতে হয়েছে বাড়তি দামে। এমন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *