হিন্দু ব্রাহ্মণ নারী ব্যতীত অন্য কোনো হিন্দু নারী তার স্তনকে ঢেকে রাখতে পারবে না

পদ্ধনাভ মন্দিরে 😢😢
দক্ষিণ ভারতে নিয়ম ছিল যে হিন্দু ব্রাহ্মণ নারী ব্যতীত অন্য কোনো হিন্দু নারী তার স্তনকে ঢেকে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ শ্রেণীর হিন্দু নারীরা তাদের স্তনকে এক টুকরো সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে পারতো, বাকি হিন্দু শ্রেণীর নারীদেরকে প্রকাশ্যে স্তন উন্মুক্ত করে রাখতে হতো। আবৃত করতে হলে দিতে হবে স্তনশুল্ক অর্থাৎ শুল্কের বিনিময়ে কিনে নিতে হবে আত্মমর্যাদা ! শুল্কের পরিমাণ নির্ভর করবে স্তনের আকারের উপর! যার স্তন যতবড় তার শুল্ক তত বেশী !
এই স্তনশুল্কের মোটা অংশ চলে যেত পদ্মনাভ মন্দিরে ! গিনেস বুকের তথ্য অনুযায়ী, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মন্দির!
১৮০৩ সালে নাঙ্গেলী (Nangeli) নামক এক নিম্ন বর্ণের হিন্দু নারী তার স্তনকে আবৃত করে রাখে এবং “স্তন কর” দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু শুল্ক সংগ্রাহকের নজরে পড়ায় তারা শুল্ক দাবী করে ! অস্বীকৃত হয় নাঙ্গেলি ! শুল্ক সে দেবে না ! শুল্ক সংগ্রাহকরা অতিষ্ট করে তোলে নাঙ্গেলীকে! দিন দিন করের বোঝাও বাড়তে থাকে! অবশেষে কর দিতে রাজী হয় নাঙ্গেলি ! শুল্ক সংগ্রাহকরা তার থেকে স্তন কর চাইতে এলে , নাঙ্গেলী তাদের কিছুক্ষণ বসতে বলে। তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে তার স্তন দুটি ! শুল্ক সংগ্রাহকের হাতে শুল্কস্বরূপ তুলে দেয় কলাপাতার আবরণে রক্ত মাখা স্তন! অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নাঙ্গেলির মৃত্যু হয় !
দক্ষিণ ভারতে নারীদের স্তন আবৃত করার জন্য বহু সংগ্রাম করতে হয়েছে। হিন্দু পুরোহিতরা স্পষ্ট করে বলে দেয়- নিচু বর্ণের নারীদের শরীরের উপরের অংশ আবৃত করা ধর্ম-বিরোধী। বিষয়টি নিয়ে ১৮৫৯ সালে দক্ষিণ ভারতে একটি দাঙ্গা সংগঠিত হয়। এই দাঙ্গার উদ্দেশ্য ছিলো হিন্দু নারীদের শরীরের উপরের অংশ আবৃত করার অধিকার আদায় করা। এই দাঙ্গা “কাপড়ের দাঙ্গা” হিসেবে পরিচিত। সংগৃহীত।

Check Also

শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে রুবেল

ডেস্ক: আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পেসার রুবেল হোসেনকে। গত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *