নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ইউপি সদস্য সোহাগসহ ৩ আসামি রিমান্ডে

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরে বাড়িতে ঢুকে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি বাদলের ৭ দিনের ও ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাসফিকুল হক এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলা তদন্তকারী অফিসার বেগমগঞ্জ থানার এসআই মোস্তাক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বেগমগঞ্জ ৩নং আমলী আদালতের বিচারক মাসফিকুল হকের আদালতে এ রায় দেন।

এদিকে ঘটনার মূলহোতা দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেনকে অস্ত্র মামলায় রিমান্ডে নিয়েছে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল চারটায় দেলোয়রকে তিনদিনের রিমান্ডের আবেদন করে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত শুনানি শেষে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত বেগমগঞ্জের নারী নির্যাতন মামলার আসামি দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারকে অস্ত্র আইনে একটি মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করেন। আদালত শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তিনি বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। এই মামলাটি যাতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকা থেকে একটি পিস্তল ও দুই রাইন্ড তাজা গুলিসহ দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১। এ ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করে।

পরে র‌্যাব-১১ লক্ষ্মীপুর ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে একটি দল দেলোয়ারের মাছের খামারে অভিযান চালিয়ে সাতটি তাজা ককটেল ও বন্দুকের দুইটি কার্তুজ উদ্ধার করে। বিস্ফোরক ও গুলি উদ্ধার ঘটনায় দেলোয়ারের রিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব।

এদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আলোচিত ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে ৪ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে ৯ জনের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে নির্যাতনের শিকার ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিন পর বাপের বাড়িতে তার স্বামী তার সাথে দেখা করতে যান। রাত ৯টার দিকে শয়ন কক্ষে স্বামী স্ত্রী একসাথে ফ্লোলে ছিলেন। এ সময় বাদল, রহিম, আবুল কালাম, ইস্রাফিল হোসেন, সাজু, সামছুদ্দিন সুমন, আবদুর রব, আরিফ ও রহমত উল্যা সহ অজ্ঞাত আসামিরা দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে।

এরপর স্বামীকে মারধর করে পাশের কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে। এক পর্যায়ে তারা ওই নারীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে রাজি না হলে আসামিরা তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায় এবং মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখে।

এ সময় তার চিৎকারে আসপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা কাউকে কিছু জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। আসামিরা চলে যাওয়ার পর কাউকে কিছু না জানিয়ে নির্যাতিতা নারী জেলা শহর মাইজদীতে বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে থাকা অবস্থায় আসামিরা মুঠোফোনে তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে রোববার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুঠোফোনে ধারণকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

Check Also

‘সিনহাকে গুলি করেন লিয়াকত, বুট দিয়ে গলা চেপে ধরেন ওসি প্রদীপ’

চাঞ্চল্যকর মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মঙ্গলবার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *