বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এর উদ্যোগে অব্যাহত নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে গণধিক্কার ও অযোগ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:                                                                                                             তারিখ:  ৬ অক্টোবর ২০২০
বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এর উদ্যোগে অব্যাহত নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে গণধিক্কার ও অযোগ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ

বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এর উদ্যোগে আজ ৬ অক্টোবর সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘অব্যাহত নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে গণধিক্কার ও অযোগ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ’ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফন্টের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ  শাহরিয়ার এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের ঢাকা নগরের সদস্য নাজমিন আক্তার শারমিন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, “সারাদেশে যখন একের পর এক নারী ধর্ষণ-গণধর্ষণ-খুনের ঘটনা ঘটছে তখন যার কাছে মানুষ নিরাপত্তা বিধানের জন্য আবেদন জানাবে সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীর সামনে হতবাক করা বক্তব্যে জানান দিল ‘কোন দেশে নারী ধর্ষণ হয় না’। অর্থাৎ নারী ধর্ষণের ঘটনা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তা একাত্তরে পাকিস্তানীদের দ্বারা কিংবা স্বাধীন দেশে তার দলের নেতা কর্মীদের দ্বারা। তাই তার বক্তব্যে সাহস পেয়ে আরো দ্বিগুণ উৎসাহে যুবলীগের কুলাঙ্গাররা পাকিস্তানী নির্মমতাকেও হার মানিয়ে নোয়াখালীতে ঘরে ঢুকে পরিবারের লোকজনের সামনে এক নারীকে বিবস্ত্র করে বিভৎসভাবে শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছে এবং তা ভিডিওতে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেছে। এই ঘটনায় অনেকে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। লাম্পট্য আজ এমন জায়গায় গেছে যে বাবা তার সন্তানকে রক্ষা করতে পাছেনা, ভাই তার বোনকে রক্ষা করতে পারছেনা, স্বামী পারছে না তার স্ত্রীকে রক্ষা করতে। জনগণের এই চরম দুঃসময়ে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীকে জনগণ ঘৃণাভরে বর্জন করেছে।”
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “সংসদে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ব্যবসায়িক বুদ্ধি নিয়ে আইন ও নীতি বানাচ্ছে। আর ক্ষমতাসীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তার বিভিন্ন স্তরের সংগঠিত শক্তি প্রয়োগ করে দেশকে আজ এই বর্বরতার সীমানায় এনে দাঁড় করিয়েছে। মানুষকে অমানুষে পরিণত করেছে। অপরাধীদের রক্ষা করে মানুষের প্রতিবাদের শক্তিকে নষ্ট করেছে। মাদক জুয়ার ছড়াছড়ি ঘটিয়ে আমাদের যুব সমাজের সাহসী চরিত্রকে ধ্বংস করে তাদের ধর্ষক, মাতাল, লম্পট বানিয়েছে। ফ্যাসিস্ট কায়দায় ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’  মাানুষের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। সরকারের এই চরিত্র সবার সামনে উন্মোচিত হচ্ছে সারা দেশে নানা নৃসংশ ঘটনা মধ্য দিয়ে। ”
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ স্বরাষ্টমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ‘ঘরে বাইরে আজ মানুষ ভীষণ নিরাপত্তাহীন। রাষ্ট্র অপরাধীদের পক্ষে। তাই আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে মানুষের বসবাস উপযোগী সমাজ নির্মানের কাজ কারা নেবে। রাষ্ট্র নাকি সচেতন জনগণ।”

Check Also

ইউএনও’কে ছাড়াই বরিশালে ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হলো যেভাবে

অবশেষে সমঝোতার মাধ্যমে বরিশাল সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমানের (ইউএনও) বাসায় হামলার ঘটনার সমাধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *