থেমে নেই ধর্ষণ, প্রতিবাদে উত্তাল দেশ

সম্প্রতি দেশে ধর্ষণ বেড়ে গেছে। করোনা মহামারী ছাপিয়ে ধর্ষণ হয়ে উঠেছে প্রধান ইস্যু। এর মধ্যে প্রতিবাদে উত্তাল দেশ। যদিও ধর্ষণ থেমে নেই।

কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও মামলা হওয়ার খবর পাঠিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিরা-

ধর্ষণ করে ফের ভুক্তভোগীর খোঁজ, না পেয়ে বাবাকে মারধর : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এক নারীকে এক মাস আগে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছিলেন শামীম মিয়া নামে এক ব্যক্তি। চুরি ও মাদক মামলার এ আসামির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ঘর ছাড়েন ভুক্তভোগী। গত সোমবার রাতে ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে আবার খুঁজতে আসেন শামীম। না পেয়ে তার বাবাকে মারধর করে চলে যান।

খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যায় পুলিশ। আহত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার পর রাতেই একটি অভিযান পরিচালনা করে জগন্নাথপুর থানা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় শামীমের সহযোগী লিটন মিয়া (৩০), আকাই মিয়া (২৭), আলম মিয়া (২৮) ও দিলাক মিয়াকে (২৫) আটক করা হয়। তবে প্রধান অভিযুক্ত শামীম মিয়াকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ধর্ষণের শিকার নারীকেও উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার বক্তব্য নেবেন জগন্নাথপুর থানার পুলিশ।

ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সাত বছর আগে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় তাদের মেয়ের বিয়ে হয়। দুই বছর পর দাম্পত্য জীবনে ঝামেলার সৃষ্টি হলে সন্তানসহ জগন্নাথপুরে বাবার বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। এরপর থেকেই শামীম তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। এক মাস আগে শামীম তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। কিছুদিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেন।

শামীমের হাত থেকে বাঁচতে নবীগঞ্জ উপজেলার একটি বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ নিয়ে বাবার বাড়ি থেকে চলে যান ভুক্তভোগী। গত সোমবার রাত ১২টার দিকে শামীম তার লোকজন সঙ্গে নিয়ে ভুক্তভোগীর বাবার বাড়ি গিয়ে আবারো তাকে খোঁজেন। মেয়েকে না পেয়ে বৃদ্ধ বাবাকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই অভিযানে নেমে চারজনকে আটক করে।

ওই নারীর বাবার অভিযোগ, শামীমের অত্যাচারে মেয়েকে নিয়ে তিনি অনেক দিন ধরে বেকায়দায় আছেন। বিষয়টি তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনার বিচারও পাননি তিনি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মখলেছুর রহমান বলেন, ‘শামীম এলাকায় “বখাটে” হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে থানায় চুরি ও মাদকের মামলা আছে। মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করা ও জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমি লোকমুখে শুনেছি।’

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মুসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘মেয়েটিকে আমরা উদ্ধার করেছি। মূল অভিযুক্ত শামীমকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

শিশুকে ধর্ষণের পর ৫০০ টাকা ধরিয়ে দেওয়া ধর্ষক গ্রেপ্তার : চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় শিশুকে ধর্ষণের পর তার হাতে ৫০০ টাকার নোট হাতে ধরিয়ে দেওয়া বৃদ্ধ সাধন বড়ুয়াকে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)। গত শনিবার বিকালে ঘটনার পর গত সোমবার সন্ধ্যায় রাউজান থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা। পরে বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গতকাল মঙ্গলবার সাধন বড়ুয়াকে আদালতে তোলা হলে তাকে কারাগারে পাঠান বিচারক। এদিন সকালে ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের সাধন বড়ুয়া (৭৫) শনিবার বিকালে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে তার বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ভুক্তভোগী শিশুটিকে ৫০০ টাকার একটি নোট দেন। শিশুটির ফুফু তার হাতে ওই টাকা দেখে জিজ্ঞেস করলে শিশুটি ঘটনা খুলে বলে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, ‘যিনি ধর্ষক তিনি আমার আত্মীয়। এ কারণে আমরা বিষয়টি সমঝোতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা এটাকে অপরাধ মনে করছে না। আর এ কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে।’

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। ধর্ষক সাধনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

ফজরের সময় ছাত্রীকে কক্ষে ডেকে ধর্ষণ করেন মাদরাসা সুপার : কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক মাদরাসা ছাত্রীকে (১৩) দুদফা ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদরাসা ঘেরাও করে ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনার পরে সোমবার রাতে মাওলানা আবদুল কাদের নামে ওই মাদরাসা সুপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার ভোরে ও রাতে উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের স্বরূপদহ চকপাড়া এলাকার সিরাজুল উলুম মরিয়ম নেসা মাদরাসায় এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, মেয়েটি ওই মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী। সপ্তাহের ছয় দিন সে ওই মাদরাসায় থাকত। প্রতি শুক্রবার সকালে তার বাবা তাকে বাড়ি নিয়ে যেতেন, আবার শনিবার সকালে পৌঁছে দিতেন মাদরাসায়। গত শনিবার সকালে মেয়েটির বাবা তাকে মাদরাসায় পৌঁছে দেন।

রোববার ভোরে ফজরের নামাজের সময় আবদুল কাদের মেয়েটিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে রাত ৮টার দিকে আবারো কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে দ্বিতীয় দফা ধর্ষণ করেন। এ সময় সুপার বিষয়টি কাউকে না জানাতে মেয়েটিকে শাসিয়ে দেন। তবে মেয়েটি গত সোমবার সকালে তার এক সহপাঠীকে বিষয়টি জানায়। সহপাঠী ঘটনাটি তার বাবাকে জানালে তা এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা মাদরাসায় হামলা চালায় ও ভাঙচুর করে।

মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, মেয়েটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মেয়েটিকে মেডিকেল টেস্টের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মাদরাসা সুপারকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

লালমনিরহাটে ভাতিজিকে চাচার ধর্ষণ : ফাঁকা বাড়িতে চাচার হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন লালমনিরহাটে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী (১৩)। ধর্ষণের পর ধর্ষক চাচা শামসুল ইসলামের (৪৫) নামে থানায় মামলা হলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি বলে পরিবারের অভিযোগ।

ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের হারাটি ইউনিয়নের হিরামানিক গ্রামে। ধর্ষক শামসুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত জফুর উদ্দিনের ছেলে। গত শনিবার সন্ধ্যায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহারে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় বাবা-মা বাড়ির বাইরে যান। বাড়ি ফাঁকা পেয়ে প্রতিবেশী চাচা ধর্ষক শামসুল ইসলাম কৌশলে বাড়িতে ঢুকে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে প্রতিবেশী দুজন নারী দেখে ফেলেন। পরে ধর্ষক শামসুল ইসলাম দরজা ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীর মা বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পরিবারের অভিযোগ, মামলার দুই দিন হয়ে গেলেও আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। ধর্ষকের পরিবার থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ওই কিশোরীর মায়ের দাবি।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি শাহ আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকে আসামিকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আসামি পলাতক থাকায় তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ময়মনসিংহে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা : ময়মনসিংহে প্রেমের কথা বলে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আবু সাঈদ নামে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে কোতোয়ালি থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার জানিয়েছেন।

সাঈদ সদর উপজেলার দীঘারকান্দা কাদুর বাড়ি গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের ছেলে। দীঘারকান্দা আদর্শ মডেল স্কুলের শিক্ষক তিনি।

ওসি ফিরোজ মামলার নথির বরাতে বলেন, সদর উপজেলার ভাটি বাড়েরার পাড় এলাকার এক শিক্ষিকার সঙ্গে সাঈদের প্রেমের সম্পর্ক হয়। সাঈদ তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পাঁচ বছর প্রেম করার সময় বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। তাদের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি উভয়ের পরিবার ও সামাজিকভাবে জানাজানি হয়। কিন্তু সাঈদ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ওই শিক্ষিকা বিয়ের দাবিতে সাঈদের বাড়িতে কয়েক দফা অবস্থান করেন। এমন অবস্থায় গত দুই মাস ধরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন সাঈদ।

ওই শিক্ষিকা মঙ্গলবার ধর্ষণ মামলা করার পর পুলিশ সাঈদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে বলে জানান ওসি ফিরোজ তালুকদার।

গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এবার গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গত সোমবার রাতে নির্যাতনের শিকার নারী বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার সৈয়দপুর এলাকার এক গৃহবধূ রোববার সন্ধ্যায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা করে শেরপুর থেকে মজলিসপুর যাচ্ছিলেন। এ সময় মজলিসপুর নামিয়ে না দিয়ে গৃহবধূর হাত পা, মুখ বেধে রাতভর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায় অটোরিকশাচালক। পরে আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের একটি পরিত্যক্ত ভবনে রাতভর সংঘবদ্ধভাবে তাকে ধর্ষণ করা হয়। সোমবার সকালে অটোরিকশা দিয়ে তাকে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর পর স্থানীয় কিছু মাতবর ও জনপ্রতিনিধি বিষয়টি আপসের চেষ্টা চালান। ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।

রাঙামাটিতে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা : রাঙামাটির লংগদু উপজেলার করল্যাছড়ি আরএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গত রোববার রাতে লংগদু থানায় প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এর আগে গত ১ অক্টোবর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আঠারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ছাত্রীটি।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই ছাত্রী হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে বিদ্যালয়ের দিকে যায়। খোঁজাখুঁজি শেষে ফেরার পথে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম ছাত্রীকে লেবু দেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের পেছনে অবস্থিত ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে ডাকেন। ওই ছাত্রী কক্ষে গেলে আবদুর রহিম দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেন।

ঘটনার শিকার ছাত্রীর মা বলেন, ‌প্রধান শিক্ষক আমার মেয়েকে লেবু দেওয়ার জন্য ডেকে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আঠারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত মেয়েটির বাবা অভিযোগ করেছিলেন তার কাছে। তার বাবা অসুস্থ থাকার কারণে বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। তবে মঙ্গলবার বৈঠকে বসার কথা। কিন্তু অভিযুক্ত মেয়েটি যেহেতু থানায় মামলা দায়ের করেছে সেহেতু ঘটনাটি আইনগত প্রক্রিয়ায় চলে গেছে তাই বৈঠক করা হয়নি। এ ঘটনার ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেও ধর্ষকের হাত থেকে রেহাই মেলেনি : চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে এক মাস আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ক্রমাগত উত্ত্যক্তের পর স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েও ওই ছাত্রী রেহাই পায়নি বলে জানিয়েছে র্যাব।

সোমবার রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গহিরা থেকে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের সহকারী পরিচালক এএসপি মো. মাশকুর রহমান।

গ্রেপ্তার আশিকুর রহমান নয়ন (২৫) আনোয়ারা উপজেলার মধ্যম গহিরা গ্রামের মো. ফোরকান মিয়ার ছেলে।

র্যাব কর্মকর্তা মাশকুর জানান, স্কুলছাত্রীর মা সম্প্রতি র‌্যাব কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন, নয়ন তার বড় মেয়েকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করত। তার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে মেয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। স্কুলের পথে না পেয়ে গত ২৮ জুলাই মধ্যম গহিরায় বাড়িতে গিয়ে মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান নয়ন।

গরিব হওয়ায় ভয়ে তারা এই বখাটের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তারা করতে পারেননি। বরং তুলে নেওয়ার পর তারা গ্রাম ছেড়ে চলে যান। বখাটে নয়ন আনোয়ারার চাতরী-চৌমুহনী এলাকায় একটি বাসায় মেয়েটিকে এক মাস ধরে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেন।

অভিযোগ পাবার পর র‍্যাব সোমবার রাতে মধ্যম গহিরার বাইঘ্যারঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নয়নকে গ্রেপ্তার করে বলে জানিয়েছেন এএসপি মাশকুর।

Check Also

সাগরে লঘুচাপ : ৩ নম্বর সংকেত বহাল

প্রতিবেদক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর পর এটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *