স্ত্রী যখন হাইপ্রোফাইল

সোলাইমান হোসেন :
দুটি গল্প। প্রথমটা অর্ণব আর মিথিলার। দু’জনেরই পড়াশোনা ঢাকার একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। এক সময়ের সহপাঠী, সম্পর্কের টানে আস্তে আস্তে কাছে আসা। প্রিয় বন্ধু থেকে প্রিয় মানুষ। প্রণয় থেকে পরিণয়। দেখতে দেখতে কেটে যায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সুন্দর দিনগুলো। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে এবার চাকরির পালা। এক বছর চেষ্টায় খোলে মিথিলার ভাগ্য। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করে সে। কিন্তু অর্ণবের কিছুতেই কিছু না। শেষমেষ একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি হয় তার। প্রথম প্রথম ঝামেলা না হলেও সমস্যা শুরু হয় কিছুদিন পর থেকেই। অর্ণব হীনমন্যতায় ভুগতে থাকে মিথিলার সামাজিক অবস্থান নিয়ে। শুরু হয় দূরত্ব।
তামান্না আর মাহাবুবের গল্পটা ঠিক উল্টো। দু’জনই ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। বিয়ের আগেই তাদের চাকরি হয় সরকারি ব্যাংকে। তামান্না সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদান করলেও মাহবুব যোগদান করেছেন অফিসার হিসেবে। সামাজিক অবস্থান তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটুও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি।
গল্প দুটি আলাদা কিন্তু বাস্তবতা এমনই! আমাদের সমাজে এমন ঘটনা এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। অন্য কোনো দূরত্ব নয়, কেবল মানসিক হীনমন্যতা কিংবা ইগো সমস্যার কারণে সংসারের শান্তি নষ্ট হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভেঙ্গে যাচ্ছে সুখের সংসার। অনেক সময় স্বামী মেনে নিতে পারছেন না স্ত্রীর সামাজিক অবস্থান। আবার অনেক ক্ষেত্রেই স্ত্রীর আচরণগত সমস্যার কারণেও হচ্ছে দ্বন্দের সূত্রপাত। যে কারণে আজকাল বেড়ে যাচ্ছে সিঙ্গেল ফ্যামেলির সংখ্যা।

Fotolia_8033731_Subscription_XXL_thumb
কিভাবে হাইপ্রোফাইল?
সাধারণত সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের হাইপ্রোফাইল বলা হয়। এ হাইপ্রোফাইলিটি আবার বিভিন্নভাবে হতে পারে। নানাভাবে ভাগ করা যেতে পারে হাইপ্রোফাইলের ব্যাপারটি। যেমন- কেউ উচ্চ বংশের হয়ে নিজেকে হাইপ্রোফাইল দাবী করতে পারে। কারো থাকতে পারে ভালো চাকরি। কারো ভালো ব্যবসা। কারো আবার থাকতে পারে পজিটিভ ‘ইমেজ’ বা রাজনৈতিক পরিচয়। এ সব কিছুই ব্যক্তিকে সমাজে হাইপ্রোফাইল তকমা দিতে পারে। অনেক সময় স্বামীর চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বেশি হওয়াতেও স্ত্রী নিজেকে হাইপ্রোফাইল ভাবতে পারেন। হাইপ্রোফাইল ধারণাটি পুরোপুরি মনঃস্তাত্তিক। কেউ হয়তো একটি দিক থেকে এগিয়ে থেকেই নিজেকে হাইপ্রোফাইল ভাবতে পারে, আবার কেউ কেউ সবদিক থেকেই এগিয়ে থেকেও নিজেকে আর দশজনের মতোই সাধারণ মানুষ ভাবতে পারে। এটা যার যার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি। নিজেকে অন্যের থেকে এগিয়ে দেখতেই সবাই পছন্দ করে, আর এ থেকেই সৃষ্টি হয়েছে ‘হাইপ্রোফাইল’ ধারণাটি।

Flex Working woman suit phone(1)
সমাজের দৃষ্টিভঙ্গী
আমাদের সমাজের একটি প্রতিষ্ঠিত ধারণা, স্বামী সবদিক থেকে স্ত্রীর চেয়ে ‘হাইপ্রোফাইল’ হবে। স্বামীর ধন-সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, সামাজিক মর্যাদা স্ত্রীর চেয়ে বেশি হওয়া যেন আবশ্যক। কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী সমপর্যায়ের হলেও চলে, কিন্তু কোনোভাবে যদি স্ত্রী একটু বেশি শিক্ষিত হয়, বা তথাকথিত সামাজিক মর্যাদায় সামান্য এগিয়ে থাকলেই শুরু হয় পুরুষের অন্ত। এই সমস্যা যতটা না ব্যক্তিগত, তার চেয়ে বেশি সামাজিক। যুগ যুগ ধরে সামাজিক রীতিনীতিই আমাদের শিখিয়েছে, নারীর থেকে এগিয়ে থাকাতেই পৌরুষত্ব। স্ত্রীর চেয়ে বেশি জানতে হবে, বেশি আয় করতে হবে। তার চেয়ে যদি এগিয়েই না থাকো, তাহলে কিসের পুরুষ তুমি! সেকেলে ধ্যান-ধারণা, কুসংস্কার আর ভুল শিক্ষার সুযোগে পুরুষের মনুষ্যত্বকে আজ দখল করে নিয়েছে ‘ইগো’ নামের সমস্যাটি। ‘ইগো’ সমস্যার কারণেই নারীর এগিয়ে চলা অনেক সময় অসহ্য হয়ে ওঠে তার কাছে। স্ত্রীর কেমন লাগছে, পরিবারের উপকার হচ্ছে কী না, এসব চিন্তার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়, ‘লোকে কী বলবে’ ধারণাটি।
আবার অনেক সময় স্বামীর চেয়ে বেশি মর্যাদা পাওয়ায় অহংকারী হয়ে ওঠেন অনেক স্ত্রী। আমি তার চেয়ে বেশি আয় করছি, সংসারের উন্নতিতে তার চেয়ে আমার অবদান অনেক বেশি, সবাই যেভাবে আমাকে মান্য করে- তারও করতে হবে, এমন সর্বনাশা অনুভূতি চলে আসে অনেক স্ত্রীর ভেতর। তার সামান্য আত্মতৃপ্তির বহিঃপ্রকাশই হয়ে উঠতে পারে সংসারে অশান্তির মূল কারণ। নতুন চাকরি বা কর্মক্ষেত্রে হঠাৎ পাওয়া পদন্নতিতে বদলে যেতে পারে অনেক কিছু। বদলাতে পারে স্ত্রীর আচার-আচরণ। অধিকাংশ সময়ই স্ত্রীর এমন হঠাৎ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না বেচারা স্বামী, শুরু হয় অশান্তি।

Accountant business woman working with laptop in office.

কেন এই সমস্যা
আমরা আসলে ভুগছি হাজার বছরের পুরোনো কুসংস্কারে। এটাকে এখনো সামাজিক আচার, বৈবাহিক সংস্কৃতি, কালচার, ধর্মীয় আচরণের নামে আধুনিক যুগেও টিকিয়ে রাখতে চাইছি। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সহজে সামাজিক রীতিনীতি, ধ্যান-ধারণার বাইরে আসতে পারি না। নতুনকে গ্রহণ করতে আজও আমাদের অনেক আপত্তি, অনেক সমস্যা। এই সমস্যাগুলো যদি না থাকতো তবে বিশ্বসংসারে আজ এই কাটাকাটি-হানাহানি থাকত না। অনেকেই স্বামী-স্ত্রী হয়েও ঠিক যেনো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একসাথে থেকেও তারা কখনোই একে অপরের অস্তিত্ব বুঝতে পারে না। মুদ্রার পুরো অংশটাকেই সে নিজের বলে ভাবে। অপর পাশে যে বিপরীত কিছু থাকতে পারে, সেটা কখনোই সে অনুভব করতে পারে না। শুধু স্বামীই ভালো ব্যবসা করবে, টাকা-পয়সার মালিক হবে, উচ্চপদে আসিন হবে; বিষয়টা এমন নয়। স্ত্রীও নিজের যোগ্যতায় বড় পদে যেতে পারে, ভালো ব্যবসা করতে পারে, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, এটা মেনে না নেওয়ার মানসিকতাই সমস্যার মূল কারণ।
অবশ্য সবার মানসিকতা সমান হয় না। তা নির্ভর করে পরিবেশের ওপর। সে যে পরিবেশে বড় হয়েছে, যে পরিবেশে বাস করছে, বা তার সঙ্গীদের ব্যবহার কেমন- এসবের উপর নির্ভর করে তার আচার-আচরণ। প্রত্যেক মানুষই বেড়ে ওঠেন ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে। কেউ ছোট আকারের পরিবারে, আবার কেউ যৌথ পরিবারে। কেউ মিশুক হয়; আবার কেউ অন্তর্মুখী। কারও পরিবার হয় রক্ষণশীল, আবার কেউ বেড়ে উঠেছেন উদারপন্থী আধুনিক পরিবেশে। বৈবাহিক বন্ধনে কার জোড়া কোথায় আছে আমরা তা জানি না।
আসলে জেনেটিক, পারিবারিক, সামাজিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে একেকজন মানুষ একেক রকম হন। প্রত্যেকের আচার-আচরণ, ব্যবহার, সহ্য করার ক্ষমতা, আবেগ-রাগ-অনুরাগ-বিরাগের ধরণ, বহিঃপ্রকাশ-সবই নির্ধারিত হয় কম বয়সেই। ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠা দু’জনকে একসঙ্গে একই ছাদের নিচে একত্র করে দেওয়ার সামাজিক প্রথারই আরেক নাম হচ্ছে বিয়ে। সুন্দর সংসার নির্বাহ, মিলেমিশে থাকা, ভালোবাসা-সম্প্রীতি-বোঝাপড়া স্বামী-স্ত্রীকেই মিটিয়ে নিতে হয়।

working-women-and-moms-1024x682
তাহলে কী করা যায়?
সংসারে খটরমটর লাগবে না, তা হয় না। তবে সমস্যা সহ্যের সীমানা অতিক্রম করার পূর্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যে কোনো সমস্যা সমাধানে পারস্পারিক আলোচনাই হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। সমস্যা চেপে রাখলেই বৃদ্ধি পায়। নিজের সমস্যা সাধারণত কেউ সহজে বুঝতে পারে না। সে ভাবে, আমি যা করছি সেটাই ঠিক, আমি কেন কম্প্রোমাইজ করতে যাব। এমন মানসিকতা সংসারের জন্য ক্ষতিকর।
বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে স্ত্রী হাইপ্রোফাইল হলে স্বামীর হীনমন্যতাই ভোগা ব্যক্তি বিশেষে অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে সেটা যেনো চরম মাত্রায় না পৌঁছায়। স্ত্রী তার নিজ যোগ্যতায় উচ্চ পদে জায়গা করে নিয়েছে, বুঝতে হবে স্বামীকে। আজ স্ত্রী যে অবস্থানে আছে, চেষ্টা করলে স্বামী হয়তো তার চেয়েও উঁচু স্থানে যেতে পারবে। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস হারালে চলবে না। তাছাড়া ঘরে সে শুধুই স্ত্রী, কোনো অফিসের বস নয়। প্রতিদ্বন্দ্বীও নন। সমাজের কাছে সে যতই আত্মনির্ভরশীল, মর্যাদাপূর্ণ লোকই হোক না কেন, সংসারে সে তোমার ভালোবাসার সবচেয়ে কাছের মানুষটি। একটু খেয়াল করলেই দেখবে, সংসারের খুঁটিনাটি অনেক ব্যাপারেই সে ঠিকই তোমার উপর নির্ভরশীল। কর্মক্ষেত্রে অবস্থান বা সামজিক মর্যাদা, এসব স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার কাছে খুবই নগণ্য একটি বিষয়।
আধুনিক যুগে পুরোনো ধ্যান-ধারণা নিয়ে বাস করা একটি চরম বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যে কোনো প্রকার সমস্যাই স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের সাথে শেয়ার করা উচিৎ। যেখানে সমস্যা, সমাধানও সেখানেই। শুধু তাকে খুঁজে নিলেই হবে।
আগে মানতে হবে, আমার কারণেই পরিবারে অশান্তি হচ্ছে, সুখ-শান্তি নষ্ট হচ্ছে। অনেকের মাঝেই নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা না করে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এই মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। প্রয়োজনে সময় নিতে হবে, নিজেকে বোঝাতে হবে। কেন, কোন সময়, কী কারণে, কোন আচরণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে। সমস্যার সমাধান অবশ্যই হবে।
একইভাবে সংসারে সঙ্গীর কারণেই যখন নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, তখন শুরুতেই রাগারাগি-ঝগড়াঝাটি করে তাকে বিগড়ে দেওয়া চলবে না। এতে হিতে-বিপরীত হতে পারে। ধীরে সুস্থে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। সে যে তার সমস্যাগুলো বুঝতে পারছে না, সেটা বোঝার জন্য তাকে সময় দাও, সরাসরি না বলে কৌশলে বোঝাও। যদি একা বোঝাতে না পারো, বিশ্বস্ত কারও সাহায্য নিতে পারো।
লোকে কী বললো না বললো, সেটা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। আজকাল পরোক্ষ পরামর্শদাতার অভাব হয় না, কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করার লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। জীবন তোমার, সংসার তোমার, সমস্যাও তোমারই। যা করার নিজেকেই করতে হবে।
আমাদের আশেপাশেই অনেক কুৎসা, নিন্দা রটনাকারী, সমালোচনাকারী ঘুরে বেড়ায়। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে পরামর্শ দিতে তারা ওস্তাদ। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এই লোকগুলো সমস্যা সমাধানের চেয়ে সমস্যা তৈরিতে পারঙ্গম। তাই এদের থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সংসার কোনো কুরুক্ষেত্র নয়। সংসার হলো মিলবার, মেলাবার, মিলনের ক্ষেত্র। সংসার হলো মেলবন্ধন। এই বন্ধন টিকিয়ে রাখতে যদি কাউকে একটুখানি ত্যাগ স্বীকার করতেই হয়, ক্ষতি কী তাতে!

Businesswoman using cell phone in office

বিশেষজ্ঞরা বলেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো: সেলিম হোসেন বলেন, ‘মানুষের মুখের কথায় নিয়ন্ত্রণ হয়তো আমাদের নেই। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ আছে নিজের ওপর, ক্ষমতা আছে নিজেকে সামলানোর। নিজের বিবেক-বুদ্ধিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে। ‘ইগো’ ভুলে বাস্তববাদী হও। যে যার যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হবে- এটা মেনে নেবার মানসিকতা তৈরি করতে পারলেই সব ঝামেলা চুকে যাবে।’
সমাধান কিভাবে?
বারবার বলা হচ্ছে, সমস্যার সমাধান দু’জনের হাতেই। নিজেদেরকেই ভাবতে হবে কোথায় সমস্যা। সমাধানও সেভাবে। মনে রাখতে হবে, মানুষ অনেক সময় নিজের দুর্বলতা-অযোগ্যতা ঢাকতে গিয়ে সঙ্গীর উপর চড়াও হয়। তুমিও কি তাই করছো? সঙ্গীর সাফল্যে মুখ কালো করে থাকার চেয়ে, মিষ্টি করে বিষয়টি মেনে নেয়াই কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়? অনেক ছোটছোট বিষয়ও সমাধান করে দেয় বড় সমস্যার। দেখতে পারো এগুলো-
গভীর মানসিক সেতুবন্ধন
সুন্দর পারিবারিক সম্পর্কের সাথে গভীর মানসিক বন্ধনের একটা স্পষ্ট সম্পর্ক আছে। সঙ্গীর সাথে যখন পরস্পরের প্রেমে ডুবে থাকবে, তখন বাইরের এ তুচ্ছ ব্যাপারগুলো আপনা থেকেই আনন্দময় হয়ে উঠবে। তাই মানসিক রোমান্সকে কখনো অবহেলা করবে না। তাই আগের চাইতে বেশি সঙ্গীর প্রশংসা করো, ভালোবাসি বলো, নানাভাবে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাতে মোটেও কার্পণ্য করবে না।
একঘেয়ে পরিবেশ
প্রতিদিন সেই অফিস থেকে বাসা, বাসা থেকে অফিস। সেই একই ঘরদোর, একই বেডরুম, একই পরিবেশ। মানসিকভাবে একটা ক্লান্তি চলে আসাটাই স্বাভাবিক। দুজনে সেজেগুজে কোথাও ডিনারে যাও কখনো, রোমান্টিক পরিবেশে সময় কাটিয়ে বাড়িতে ফিরলে দেখবে মনটাও চাঙা হয়ে উঠবে। সেই সাথে শোবার ঘরের সাজটাও প্রায়ই পরিবর্তন করো, সুযোগ পেলে নিজেদের রোমান্টিক একটা ভুবনে বদলে ফেলো। এই ব্যাপারটি মানসিকভাবে খুব সাহায্য করবে।
ছোট্ট একটা হানিমুন
খুব একঘেয়ে লাগছে পরস্পরকে? দোষ কারোরই নয়, দিনযাপনের স্ট্রেস আর ব্যস্ততার দোষ। ছুটি নাও, দু’জনে আবার একটা হানিমুনে চলে যাও। মন ভালো থাকলে সব ভালো!

একটু বিশেষ আয়োজন
সারা সপ্তাহের কর্মব্যস্ততায় হয়তো নিরিবিলি সময় কাটানো হয়ে ওঠেনা। আর তাই ছুটির দিনগুলোতে একটু বিশেষ সারপ্রাইজ আয়োজন করে রাখো। বাচ্চাদের একটু আগে ঘুম পাড়িয়ে দাও, দু’জনে একসাথে হয়তো একটা রোমান্টিক মুভি দেখলে বা রোমান্স করে কাটিয়ে দিলে রাত। মাঝে মাঝে এই ব্যাপারগুলো দাম্পত্যকে চাঙা রাখবে।

stg-081030-tdy-couple-12p.grid-6x2

কিছু টিপস
> স্ত্রী নিজ যোগ্যতায় সমাজে উচ্চপদে আসীন হয়েছে। এটাকে স্বাভাবিক ভাবে নাও।
> বাইরের বা অফিসের আলোচনা সংসারে টেনে আনার প্রয়োজন নেই।
> খুব বেশি সমস্যা হলে একে অন্যের পার্টিতে অংশ না নেওয়াই ভালো।
> পারিবারিক যে কোনো সিদ্ধান্ত দুজনে মিলে নাও। তৃতীয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলো।
> বাইরের লোকের কথায় কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
> লোকের কথা অগ্রাহ্য করা সম্ভব না হলে বাসস্থান পরিবর্তন করতে পারো। এতে সমস্যা কিছুটা হলেও কমবে।
> সমস্যা কখনও গোপন রাখবে না। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সমস্যাগুলো একে অপরের সাথে শেয়ার করো।
> কারো ওপর কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকো।
> ইগো সমস্যা যেনো পারিবারিক বন্ধনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখো।
> কারো ওপর মানসিক চাপ প্রদান করা যাবে না। এতে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়।
> কাজের চাপে স্বামীকে ঠিক মতো সময় দিতে না পারলে স্ত্রী অবশ্যই স্বামীকে সেটা বুঝিয়ে বলবে। স্বামীর প্রতি কোনো প্রকার অবহেলা হচ্ছে কী না, সে কোনো কারণে মনে কষ্ট পাচ্ছে কী না সেটা স্ত্রীকে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে।
> অতিরিক্ত রাগ থাকলে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অকারণে চিৎকার-চেচামেচি সংসারে শুধু অশান্তি বৃদ্ধিই করে।
> স্ত্রী হাইপ্রোফাইল হলে স্বামীকেও ততোধিক হাই প্রোফাইল হতে হবে এমন মানসিকতা বর্জন করা উচিৎ।
> আত্মবিশ্বাসী হলে, নিজের কাজকে ভালোবাসলে সাফল্য আসবেই। তাই অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
> স্বামী-স্ত্রীর পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে, পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে।rodoshee.com

Check Also

কবিতা বঙ্গবন্ধুর বসত বাড়ি

ডিজিটাল কবি কে,এম,তোফাজ্জেল হোসেন জুয়েল মোবাইল নং:-০১৭১৬-৯৫১৫০২ . বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের বসত বাড়ি ঢাকা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *