জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সাঁথিয়ার খোদেজা আমিন পাঠাগার

মনসুর আলম খোকন,সাঁথিয়া(পাবনা)প্রতিনিধিঃ
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা সীমানাবর্তী বড়াল নদীর কোল ঘেষে পল্লিগ্রাম সেলন্দাতে গড়ে উঠেছে আলহাজ্ব খোদেজা আমিন পাঠাগার। যেটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পল্লীগ্রামের মানুষের মনন বিকাশে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার আলো বিস্তারে পাঠাগারটি বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালিত করে আসছে। প্রত্যান্ত অঞ্চলে অবস্থিত এ পাঠাগারে শুধু গ্রামেরই নয়, আশপাশের গ্রামের আগত শিশু- কিশোর ও সাধারণ মানুষও বই পড়তে আসে। শিশু-কিশোর ও যুবকদের মাঝে সৃষ্টিশীলতা ও বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পাঠাগারের উদ্যোগে প্রতি বছর চিত্রাংকন, কবিতা আবৃত্তি ও বই পড়ার প্রতিযোগিতা করা হয়। প্রেরণামূলক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করে থাকে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসে পাঠাগারের বইগুলো শিক্ষার্থীরা এলোমেলো করে উল্টেপাল্টে দেখে। এভাবেই বই পড়ার প্রতি ও সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি নতুন প্রজ¥কে আগ্রহী করে তুলছে আলহাজ্ব খোদেজা আমিন পাঠাগার। পাবনা ১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. শামসুল হক টুকু বলেন, এটি খুব ভাল উদ্যোগ। তরুণ-তরুণীদেরকে বেশি বেশি বই পড়তে হবে। পাঠাগার থেকে বই পড়ে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠবে নতুন প্রজন্ম। পাঠাগারটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কামাল পাশা জানান, এখানে বঙ্গবন্ধুর লেখা বই,মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের ইতিহাস, বিভিন্ন নামকরা ও নতুন কবি এবং সাহিত্যিকের লেখা বই রয়েছে। শিশু-কিশোরদের উপযোগী ছড়া, গল্প, সাধারণ জ্ঞানসহ অন্যান্য বইও রয়েছে। খোদেজা আমিন পাঠাগার চলতি বছরে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে হাতে নিয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচী। এর মধ্যে রয়েছে র‌্যালী, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে চিন্তা চেতনা শীর্ষক আলোচনা , বঙ্গবন্ধু কর্নার ও শেখ মজিবুর রহমানের লেখা বই, দলিলপত্র ও বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক আলোকচিত্রসমূহ সংরক্ষণ করা।
আলহাজ্ব খোদেজা আমিন পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠাতা করেন সেলন্দানিবাসী প্রকৌশলী জি এম এম কামাল পাশা। তিনি তাঁর বাবা আমিন উদ্দিন ও মা খোদেজা বেগমের নামে এ পাঠাগার গড়ে তোলেন ২০১৩ সালে। কামাল পাশার মা খোদেজা বেগম একজন রতœাগর্ভা জননী। ২০১৮ সালে পাবনা জেলার শ্রেষ্ঠ জননীর পুরুস্কার খোদেজা বেগমের হাতে তুলে দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন। বাবা আমিন উদ্দিন ঢাকা মিডফোর্ট কলেজ থেকে এলএমএফ পাস করে সরকারি চাকরি না করে গ্রামে আসেন অবহেলিত জনগোষ্ঠির চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য। তিনি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও চিকিৎসা সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। বাবাÑমায়ের নামে নিজ বাড়িতে সন্তানরা গড়ে তোলেন আলহাজ্ব খোদেজা আমিন পাঠাগার। পাঠাগারটি এরই মধ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করেছে।সামাজিক কান্ড ও বেকারত্ব দুর করেণে নিয়োজিত রয়েছে খোদেজা আমিন পাঠাগার।

Check Also

তানোরে আমণখেতে পোকার আক্রমণ  দিশেহারা কৃষক

  তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি রাজশাহীর তানোরে বোরো মৌসুমে ধান ও খড়ের বাম্পার ফলন এবং ভাল দাম পেয়েছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *