ধর্ষণ বন্ধে পুরুষকেই জাগতে হবে নারীকে ও বুঝতে হবে অর্ধপোষাকের আকর্ষন আহবান উলঙ্গ শরীরের চেয়েও ভয়াবহ

ধর্ষণ ইস্যুটি নতুন নয় বহু পুরাতন।তবে এখন বেশী আলোচিত কারন মিডিয়ার সহজলোভ্যতা আর নারীকে সাহসী আর বিপ্লবী করে তোলা। লজ্জা ভয় ছেড়ে নারী নিজেকে করছে জয় তাই বিভৎসের গোপনীয়তা প্রকাশ করছে মাত্র। কিছু ক্ষেত্রে ভয়াবহতার মাত্রা বাডিতে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে আধুনিকায়ন কখনো ডিজিটালাইজেশন। কিছু ক্ষেত্রে নারীর আধুনিক সাজসজ্জা পোশাক আবার কিছু ক্ষেত্রে মিডিয়া সরঞ্জাম ও যৌনবর্ধক ওষুধ প্রসাধনী। যাকে হাতে হাতে মুঠোফোনে যৌনতার চিত্র ও ভিডিও চিত্র এবং পৌরুষ শক্তি বৃদ্ধিকারক বিভিন্ন বটিকা। ধর্ষণের উত্তেজনা কতটা তৃপ্তিদায়ক?  কী সেই প্রাপ্তি, কতটা আকাঙ্ক্ষিত সেই শারীরিক আনন্দ যা একা বা দলবেঁধে উপভোগ করার মতো ঘটনায় পরিণত হয়? এমনকি কাউকে কাউকে  নিজের সন্তানকেও ধর্ষণ করতে ধাবিত করে? 

কিন্তু এই ধর্ষণকে ঘিরে আমাদের সমাজের যে বিকৃতি, তার ব্যাখ্য কে দেবে? ইতিমধ্যে কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে গেছে ধর্ষক পিতার পক্ষে। চরিত্রহনন করতে বসেছে শিশুটির মায়ের। যেমন তারা করতে বসে যেকোনও ধর্ষণের ঘটনার পর ধর্ষণের শিকার নারীটির। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই, শিশুটির মা চরিত্রহীন (!), তাহলেও নিজের কন্যাকে বা যেকোনও শিশুকে বা নারীকে ধর্ষণ করা যে জায়েজ হয়ে যায় না, এই সহজ কথাটা বুঝতে পুরুষ সমাজের অনেকেই অপারগ।অনেক নারী প্রেমের জালে বন্দি করে নিজে ধর্ষণ করে। স্বার্থ হাসিল না হলে উপয়ন্ত না ভেবে নিজেই অভিযোগ করে প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের। 

এইদেশে একটা দিনও বাদ যায়না যেদিন কোন ধর্ষণের ঘটনা পত্রিকার পাতায় প্রকাশ হয় না। আর অপ্রকাশিত শত ঘটনার কথা না হয় বাদই দিলাম। তবুও এর প্রতিবাদে মানুষের ঢল নামে না। বৃহত্তর আন্দোলন দানা বাঁধতে মানুষের লাভ ক্ষতির হিসাব আর আবেগের মিশেল লাগে। ধর্ষণের প্রতিবাদে এই দুটোরই অভাব আছে। 

ধর্ষণ এই সমাজের কাছে কেবলই ধর্ষণের শিকার নারী আর তার পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়। বৃহত্তর সমাজের, বিশেষ করে, পুরুষের ধর্ষণে কোনও ক্ষতি নেই।নারীরাও ধর্ষক হয়ে উঠছে সে খবর বাদ পড়ে যায়।  সমাজ (এবং প্রধানত পুরুষজাতি) নারীকে বরং সাত কাপড়ের মোড়কে ঢাকতে বেশি আগ্রহী। নারীর পোশাক নিয়ে তারা ফতোয়া জারি করে, ওয়াজ মাহফিলে মাইক ফাটায়। শত শত শ্রোতাকে ওয়াদা করিয়ে নেয় মেয়েকে স্কুলে না পাঠানোর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোংরা চিৎকার করে। মানব বন্ধন করে বাল্যবিয়ের দাবিতে। রাস্তাঘাটে হেনস্তা করে ন্যুনতম সুযোগে। শুধু নিজেদের বিকৃতির দিকে তাকায় না ভুলেও। একটি তিনমাসের কিংবা দশ বছরের শিশুকে (ছেলে শিশুসহ) ধর্ষিত হতে দেখেও তাদের হুঁশ ফেরে না। তাদের এতোসব দাবীর অসারতা বুঝতে তারা নিদারুণভাবে অক্ষম।আবার নরী পোষাকে নিজেকে পন্যের মত সজ্জিত করে আহবান করছে। 

পুরুষেরা কবে নাগাদ তবে নিজেদের বিকৃতিটা বুঝতে পারবে? কবে নাগাদ জুতা আবিস্কারের গল্পের মতো পৃথিবীকে নয়, নিজের পা’ কে ঢাকতে শিখবে? কবে নাগাদ পুরুষ শুধুমাত্র পুরুষ থেকে মানুষ হয়ে উঠবে? পুরুষের বোধোদয় এখন সময়ের দাবি। তারা নারীদের একটু রূপের মোহে সব ভুলে যায়। তার সব সুন্দর হয়ে ওঠে এটাই সমাজ নষ্ট করে চলছে। নারীকে অহংকারী আর খামখেয়ালি করে তুলছে।  ধর্ষণ বন্ধে পুরুষকেই জাগতে হবে সবার আগে। নারীকে ও বুঝতে হবে পোষাকের আকর্ষন আহবান উলঙ্গ শরীরের চেয়েও ভয়াবহ তাদের বুঝতে হবে এর ভয়াবহতা, নারীর পোশাক বা অন্য কিছু নয়, পুরুষের অনিয়ন্ত্রিত ও বিকৃত যৌন আকাঙ্ক্ষাই ধর্ষণের সবচেয়ে বড় কারণ এবং পুরুষের সবচেয়ে বড় অসুস্থতা। 

অনেক তো হলো, আর কত? এবার জাগুন পুরুষ বন্ধুরা। এতটুকু সৎ সাহস দেখান। লাগাম পড়ান নিজের বিকৃত যৌনাকাঙ্ক্ষায়। যতদিন পর্যন্ত না আপনারা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, ততদিন ধর্ষণের এই মহামারী বন্ধ হবে না। যতই আইন হোক, যতই কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তির বিধান রাখা হোক, যতই হারকিউলিসের আবির্ভাব ঘটুক, কিচ্ছু হবে না।  আমাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক নারী পুরুষকে সবাইকে শালিনতা বজায় রেখে চলার তৈফিক দিক সৃষ্টিকর্তা।

Check Also

শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে রুবেল

ডেস্ক: আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পেসার রুবেল হোসেনকে। গত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *