ধর্ষনই কি আমাদের একমাত্র নৈতিক অধ:পতন?

খবরের কাগজ, টিভি, অনলাইনে, চায়ের আড্ডায় মূল আলোচনা এখন এই ধর্ষনকে ঘিরে। কেনো এতো ধর্ষন? নারীর পোশাক? পূরুষের দৃষ্টিভঙ্গি? কে নেবে এই ধর্ষের দায়? আমরা আছি সেই আলোচনায় মত্ত।সরকার ধর্ষনের সর্বোচ্চ শাস্থি মৃত্যুদন্ডের বিধান এনে আইন পাসের দ্বারপ্রান্ত। এখন কথা হলো এতেই কি থেমে যাবে ধর্ষন?  হায়রে জাতি, হায়রে মানবতা, হায়রে উন্নয়ন।দেশে কি শুধু ধর্ষনই একমাত্র অন্যায় যা মাত্রা ছাড়িয়েছে? যা বন্ধ করলেই দেশে আর কোনো সমস্যাই রইবেনা। আমাদের চারপাশে কি আর কোনো অনিয়ম, অনাচার সংঘটিত হচ্ছেনা? যা আমাদের সার্বক্ষণিক আতংকিত করে রাখে। সামান্য সুযোগ পেলেই যে দেশের জনগন অন্যের সম্পদ গ্রাস করে নিতে অপেক্ষা করেনা। সামান্য বিশ্বাস করলেই যে জনগন স্বাস্থ, আইন, বিচার নিয়ে লাভজনক ব্যাবসার দোকান খুলে অন্যকে সর্বশান্ত করে দিচ্ছে। সামান্য সুযোগ পেলেই যে জনগন ধর্মের নামে নির্লজ্জ ভাবে ব্যাবসায় নামে। সামান্য সুযোগ পেলেই যে জনগন পশু হতেও দ্বিধা বোধ করেনা তাদের কাছে তো ধর্ষন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা স্বাভাবিক ও অবধারিত ঘটনা। অশিক্ষিত মূর্খ বর্বর জাতিকে সভ্য করে তুলতে কালের খেয়ায় বিভিন্ন সময় পৃথিবীতে শ্রী কৃষ্ণ, গৈতম বুদ্ধ, মুসা (আঃ),ঈসা (আঃ), মুহাম্মদ (সঃ) ধর্মের বানী প্রচার করেছেন। পৃথিবীতে শান্তি আনার চেষ্টায় যার যার সময়ে তারা ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসাবে শতভাগ সফলকামও হয়েছেন। নিপিড়ীত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে, দুর্বল নারী জাতির রক্ষা করতে,  ধনাঢ্য ও শক্তিশালিকে নিয়ন্ত্রনের প্রক্রিয়া আজো অব্যার্থ ভাবে অবদান রাখতে সক্ষম।  

আজো সেই সব মহামানবের আদর্শ, নীতি সংরক্ষিত রয়েছে যথাযথভাবে। তার পরও কেনো এতো অন্যায়, হানাহানী, দুর্বলের উপর শক্তিশালীর শাসন?  কারন, আমরা আজ মাহামনবদের প্রতিষ্ঠিত ধর্মের নীতি আদর্শ থেকে সরে গিয়ে আবার অতীতের ন্যায় বর্বর যুগে ফিরে যাচ্ছি। আমাদের মানুষ রুপি দেহটায় ভিতরে আত্মা মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছে। আমরা ন্যায় বাদ দিয়ে অন্যায়কে সময়ের চাহিদা হিসাবে মেনে নিয়েছি। আমরা নীতিবাক্য,সদাচার,নৈতিকতাকে দুর্বলের হাতিয়ার আর অন্যায় করার ছদ্দবেশে পরিনত করছি। ফলে,আমাদের চারপাশে এতো অন্যায় নিয়মে পরিনত হয়েছে। আমরা আজ ঘরে বাইরে আপনজন,পাশেরজন ও অন্যের কাছে সর্বত্রই শংকিত মানষিকতা নিয়ে বাচার চেষ্টা করছি। আমাদের আজ সবসময় আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে,আমাদের অর্জিত সম্পদ নিয়ে,নিজের ও নিজ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। প্রবল বানে ভেসে যাওয়া বাধের ওপাশের মানুষের মতো আমরা প্রহর গুনছি ধ্বংসের। বাঁচার জন্য কতক্ষন লড়তে পারবো জানিনা তবে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও বাচার ব্যার্থ চেস্টা করছি!   কিন্তু কেনো আমরা সবাই  এই প্রলয়ের দ্বারপ্রান্তে?   

আমরা আজ প্রতিনিয়ত কোনো এক অন্ধকার কালো জাদুর মোহে আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছি। এখানে যে যা পারো তাই করো যদি টিকে থাকো কাল আরো বিশাল কিছু করো।এখানে নেই কোনো ভালো মন্দের বিচার।নেই কোনো নৈতিকতার অবস্থান বা নৈতিকতার চর্চা।এ যেনো এক অধুনিক বর্বরতা শুরু হয়েছে!  এখনো সময় আছে,  এই সামাজিক অধঃপতন রোধে আজই ধর্মীয় শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। নিজের জীবনে নীতি,নৈতিকতাকে ফিরিয়ে আনুন যার যার ধর্মীয় অনুশাসনের ভিত্তিতে। 

অন্যায় ও অন্যায়কারীকে নির্বাসনে দিন। সবচাইতে ভালো হয় ধ্বংস করে দিন চিরতরে। তা নাহলে আমাদের মাহাপ্রলয়ের তান্ডবে বিলিন হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবেনা। আর এই কাজে আপনাকে, আমাকে আমাদের সরকারকে এক যোগে এগিয়ে আসতে হবে। জয় হোক মানবতার। জয় হোক ঈশ্বরের।

Check Also

ইভ্যালির (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন গ্রেপ্তার

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে (প্রতিষ্ঠানটির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *