সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র রোকন বরখাস্ত

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পৌরসভার মেয়র
রুকুনুজ্জামান রোকনকে মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত করেছে স্থানীয়
সরকার বিভাগ। রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব (পৌর-২ শাখা)
ফারজানা মান্নান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা
হয়।
সরিষাবাড়ী পৌর মেয়র রুকনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক,কাউন্সীলর ও
পৌর নাগরিকদের করা সরিষাবাড়ী থানায় প্রায় ২৫ টি সাধারন
ডায়েরী রয়েছে । এ ছাড়াও আলোচিত জামালপুর পত্রিকার
সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি , মুভি বাংলা টিভির স্টাফ রিপোর্টার,
বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-
সাধারন সম্পাদক ওঅনলাইন এডিটরস কাউন্সীলের সমাজ সেবা
বিষয়ক সম্পাদক মাসুদুর রহমান গত ২৭ ফেব্রুয়ারী
প্রধানমন্ত্রী বরাবর ও ১০ মার্চ মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন
কমিশন,স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব,উপ-সচিব (পৗর-২)
ফারজানা মান্নান বরাবর এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আইসিটি মামলায় পলায়ন, কাউন্সিলরদের অনাস্থা, আওয়ামী লীগ
থেকে বহিষ্কার ও কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে রোকুনুজ্জামান
রোকনকে বরখাস্তের এ সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, যেহেতু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের
মামলায় মেয়র রোকনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট গৃহিত ও
ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায়
পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পৌরবাসী সেবা বঞ্চিত
হচ্ছে, যা পৌরসভার স্বার্থ পরিপন্থী ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোন

থেকে সমীচীন নয়- মর্মে প্রতিয়মান হয়েছে। বিধায় স্থানীয়
সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ৩১ (১) ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত
ক্ষমতাবলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরিপত্রের অনুলিপি
মেয়র রোকনসহ ৯টি দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
সরিষাবাড়ি পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী জানান-
রবিবার বিকেলে মেয়র রোকনের বরখাস্তের পত্রটি হাতে পেয়েছি।
কর্তৃপক্ষের এ আদেশে পৌরবাসীর মনে স্বস্থি ফিরে এসেছে।
এতে করে পৌরসভায় নতুন করে গতি ফিরে আসবে বলে জানান
তিনি।
তিনি আরো জানান- গত ১ মে সকালে সরিষাবাড়ি পৌরসভার
কাউন্সিলররা দূর্ণীতির অভিযোগে মেয়র রোকনকে অনাস্থা
জানায় এবং একইদিন বিকেলে সরিষাবাড়ী পৌর আওয়ামী
লীগের সহসভাপতি পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর ১৫ মে রাতে সরিষাবাড়ি অনার্স কলেজ মাঠে নির্মিতব্য
মুক্তমঞ্চ ও ভাস্কর্য ভাঙচুরের একটি ঘটনায় কাউন্সিলর জহুরুল
ইসলাম বাদি হয়ে সরিষাবাড়ি থানায় মেয়র রুকনের বিরুদ্ধে
একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়েরের পর মেয়র রোকন তার
ব্যাক্তিগত ফেইসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তথ্য
প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপিকে জড়িয়ে
আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় ৫ জুলাই
সরিষাবাড়ি উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছামিউল ইসলাম বাদি
হয়ে সরিষাবাড়ি থানায় মেয়র রোকনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল
নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। দু’টি মামলায় গ্রেফতার

এড়াতে মেয়র রোকন ১৫ মে থেকে পলাতক রয়েছে বলে জানান
তিনি ।
এসব বিষয়ে মেয়র রোকনের সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে
যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Check Also

ভারী বর্ষণের আভাস, পাহাড়ধসের শঙ্কা

প্রতিবেদক: টানা তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে অতিভারী বর্ষণ হচ্ছে, যা অব্যাহত থাকবে। ফলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *