রায়হান হত্যা: সমালোচনার মুখে এসএমপি কমিশনারকে বদলি

সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন (৩০) নামের এক যুবক খুন হয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ বিভাগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠে পুরো দেশ। এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন সংগঠন রায়হান হত্যাকাণ্ডে জড়িত ওই ফাঁড়ির ইনচার্জ ও সাময়িক বহিষ্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার শাস্তি দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

ঘটনার চার দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর রায়হানের বাড়িতে যান সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া। এনিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ পুলিশ বিভাগে এনিয়ে সমালোচিত হন এসএমপি কমিশনার। রায়হান হত্যাকাণ্ডের ১২ দিনের মাথায় সমালোচনার মুখে সিলেট থেকে এসএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় এসপিবিএন এর উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. নিশারুল আরিফকে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব (পুলিশ-১) ধনঞ্জয় কুমার দাসের সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি ও নিয়োগ করা হয়।

বদলির কারণ হিসেবে প্রজ্ঞাপনে ‌‌‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আদেশটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর ভোরে সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের শিকার হন রায়হান উদ্দিন (৩০)। সেদিন সকালেই সিলেট ওসমানী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় পরদিন ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু আইনে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায়। কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাশকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।

এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর আদালতে বিচারক মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে ওই ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল দেলোয়ার, সাইদুর ও শামীম ১৬৪ ধারায় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরমধ্যে সাময়িক বরখাস্তকৃত কনেস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশকে গ্রেফতার দেখিয়ে ৫দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবর ঘটনার পর থেকে এখনও পলাতক রয়েছেন।

Check Also

সাগরে লঘুচাপ : ৩ নম্বর সংকেত বহাল

প্রতিবেদক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর পর এটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *