চোখে আঘাত পেলে করণীয়

বাড়িতে, রাস্তায় বা খেলার মাঠে হঠাৎ চোখে আঘাত লেগে যেতেই পারে। বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ চোখে গেলেও গুরুতর সমস্যা হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলাটাই প্রাথমিক চিকিৎসা।

চোখে কিছু ঢুকে গেলে: লোহার গুঁড়া, কাচ, ইটের টুকরা, সুচালো পদার্থ বা এ রকম যেকোনো জিনিস চোখে ঢুকে গেলে কোনোভাবেই নিজে থেকে সেটি বের করার চেষ্টা করা যাবে না। চোখ কচলে বা চেপে ধরে কোনো রকম চেষ্টা করতে গেলে চোখের আরও বেশি ক্ষতি হবে। আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো জরুরি।

চোখে রাসায়নিক পদার্থ গেলে: চুন, অ্যাসিড বা এ ধরনের পদার্থ চোখে লাগলে সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পানি দিতে হবে। নইলে এসব বিপজ্জনক উপাদান চোখের ভেতরের অংশে ঢুকে যেতে পারে। পরিণামে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। প্রচুর পানি দিয়ে চোখ পরিষ্কার করলে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে চোখ রক্ষা পায়। এ রকম ক্ষেত্রে পানি দেওয়ার পরপরই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কাছাকাছি হাসপাতালে নিতে হবে।

অন্য কোনোভাবে আঘাত লাগলে: খেলার মাঠে বল, কর্ক এসব দিয়ে বা বাড়িতে কোমল পানীয়ের ক্যাপ খুলতে গিয়েও চোখে আঘাত লাগতে পারে। চোখে ঘুষির আঘাতও লাগতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ভালোভাবে চোখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। সম্ভব হলে হাসপাতালে যাওয়ার আগে ওষুধের দোকান থেকে আই প্যাড কিনে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। আই প্যাড হচ্ছে তুলা ও গজ দিয়ে তৈরি গোল একটি জিনিস, যা চোখের ওপর লাগিয়ে রাখলে পুরো চোখ ঢেকে রাখা যায়। এতে চোখ বিশ্রামে থাকবে এবং এতে কোনো ময়লা যাবে না।

অনেক সময় চোখে আঘাত পাওয়া রোগীকে পুরো অজ্ঞান করে অস্ত্রোপচার করার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগীকে অচেতন করার আগে অন্তত ছয় ঘণ্টা না খাইয়ে রাখতে হয়। তাই চোখে বড় আঘাত পেলে তখন থেকেই খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

Check Also

শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে রুবেল

ডেস্ক: আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পেসার রুবেল হোসেনকে। গত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *