ডিবি’র দারোগা জাহিদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

 

রাজশাহী প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগন্জ জেলা ডিবি পুলিশের আলোচিত কর্মকর্তা এসআই আবু আব্দুল্লাহ জাহিদের দৌরাত্ন্যে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এদিকে দারোগা জাহিদের রাহুগ্রাস থেকে পরিত্রাণের আশায় এলাকাবাসি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। কিন্ত্ত রহস্যজনক কারণে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে এখানো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, এতে এলাকাবাসির মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অন্তোষের সৃস্টি হয়েছে। দেশে করোনা ক্লান্তি লগ্নে যে পুলিশ আতংক নামে পরিচিত সেই পুলিশ এখন আস্থার নাম। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের জয় জয়কার। কিন্তু মুষ্টিমেয় সদস্যের অপেশাদার আচরণ ও কর্মকান্ডের জন্য ম্লান হতে বসেছে পুলিশের সব সাফল্য।। জানা গেছে, বিগত ২০১৩ সালে দেশব্যাপী খুঁজে বের করা হয়েছিল অপেশাদার আচরণ ও বদমেজাজি পুলিশ কারা। এরপর ব্যবস্থা নেয়া হয় এসব পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে। তবে এখানো একশ্রেণীর পুলিশ সদস্য আছেন যারা পুলিশের শ্রেষ্ঠ পদক পেয়েও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ডিবির অন্যত্তম অফিসার এসআই আবু আবদুল্লাহ জাহিদ এর অন্যতম উদাহারন। স্থানীয় সুত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী পদকের প্রভাব দেখিয়ে চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে চার বছর পার করে দিয়েছেন শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডিবিতে। হয়তো ৪ বছর থাকাটা সরকারী নীতিমালায় না থাকলেও কারো কারো আশীর্বাদে মদদপুস্ট হিসেবে রয়েই গেছেন চাপাই সীমান্তে। নেপথ্যে যে রয়েছেন তারই কথিত এক দরবেশ বাবা । কিন্তু কে সেই দরবেশ বাবা ? এই কথিত দরবেশ বাবা নাকি জামাত-বিএনপির এজেন্ট। সাংবাদিকদের হয়রানী করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাংবাদিককে ডেকে উল্টো তাকেই মাদক দিয়ে ফাসানোর মতো গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে দারোগা জাহিদের বিরুদ্ধে।সম্প্রতি রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি, বাংলাদেশ তৃনমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটি জেলা শাখার সভাপতি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক্টিভিস্ট সাংবাদিক এম.এ.হাবীব জুয়েল ও রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের সহ – সভাপতি রেজাউল করিমকেও বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে হুমকি প্রদর্শন ও তার বিরুদ্ধে যে সকল সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করেছেন তাদেরকেও দেখে নেয়ার হুমকি দেন এই এসআই। বেশ জোরেসোরে চালিয়েছেন ঐ সকল সাংবাদিকদের নামে অপপ্রচার।

এই বিষয়ে রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক এম.এ.হাবীব জুয়েল ও সহ – সভাপতি রেজাউল করিম বলেন – আমাদের সঙ্গে এসআই আবু আবদুল্লাহ জাহিদের কোন ব্যাক্তিগত দ্বন্ধ কিংবা কোন শত্রুতা নেই। তবে তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর আনিত অভিযোগের উপরে আমরা কিছু সংবাদ প্রকাশ করেছি মাত্র। তারপর থেকেই তিনি কেন বা কি কারনে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। এমনকি জাহিদ এমনও হুমকি দিয়েছেন – রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের কোন সাংবাদিককে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পেলে দেখে নেয়া হবে। তবে যে সকল গ্রেফতার বানিজ্যর সংবাদ আমাদের কাছে ছিল তা আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এসপির দফতরে বিষয়গুলো অবগত করেছি কিন্তু তারপরও আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া সেল, আইজিপি’স কমপ্লেইন সেল ও পুলিশ ইন্টারনাল ওভারসাইডের (পিআইও) বরাবর বিষয়গুলো তদন্তের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে সেই জাহিদের অপসারণ  ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন। তারপর থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের এসআই জাহিদ প্রশ্নে চোখে চশমা আর মুখে কলুপ এঁটেছে কর্তৃপক্ষ । ফোন ধরছেন না সংশ্লিষ্ট দফতরের কোন কর্মকর্তা । তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী জানতে চায়, কি প্রত্যাশায় সেই বির্তকিত এসআই জাহিদ এখনও বহাল কিংবা কার মদদে বহাল। অবশ্য নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করতে কতক্ষণ নীরবতা পালন করবে সংশ্লিষ্ট দফতরের এটাই এখন প্রশ্ন ?।

Check Also

তানোরে ছাতা কারিগরদের ব্যস্থতা

  আলিফ হোসেন,তানোরঃ রাজশাহীর তানোরে বর্ষা মৌসুমে ছাতা কারিগরদের ব্যবস্থা বেড়েছে।অন্য সময়ের তুলনায় বর্ষায় ছাতার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *