ওসির বর্ণনায় উঠে এলো জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার নৃশংসতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী বুড়িমারী বাজারে আবু ইউসুফ শহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। জুয়েলকে নৃশংসভাবে হত্যার বর্ণনা দিলেন পাটগ্রামের ওসি সুমন কুমার মহন্ত।

ওসি বলেন, ‘সেদিন ঘটনাস্থলে প্রায় ৫-৬ হাজার জনতার ভিড় ছিল, আর সবাই স্লোগান দিচ্ছিল, মেরে ফেলো, ওকে মেরে ফেলো। উন্মত্ত জনতা ইচ্ছামতো পাথরের ঢিল ছুড়তে থাকে। আমার শরীরেও অসংখ্য পাথরের ঢিল পড়েছে। একসময় আমিও মৃত্যু ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু তবুও আমাকে কিছু করতে হবে, তাই সাহস নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করি।

পুলিশ ১৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছিল। কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু তবুও উপস্থিত জনগণের উন্মত্ততা থামছিল না। পরিস্থিতি আরো বেশি জটিল হয়ে উঠেছিল, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।

                                     

ওসি সুমন বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ মেম্বাররা যখন জীবন বাঁচাতে ভবনের বাইরে চলে যান, তখন আমি ভিকটিমের রুমে যাই। ততোক্ষণে গ্রিল, দেয়াল ভেঙে “মেরে ফেলো, মেরে ফেলো” শ্লোগান দিতে দিতে লোকজন ইউপি ভবনে ঢুকতে শুরু করেছে। আমি গিয়ে দেখি একজন দাঁড়িয়ে আছেন। অন্যজন ফ্লোরে শুয়ে পড়ে আছেন, আর তাকে ইচ্ছামতো পেটানো হচ্ছে। আমি দাঁড়ানো ব্যক্তিকে নিয়ে বাইরে বেড়িয়ে আসি। তখন পেছন থেকে আমাকে মারা হচ্ছিল। তবু দ্রুত ভবনের দোতলায় উঠে যাই। গ্রিল টপকে চালের ওপর দিয়ে আরেকটি মার্কেটের ছাদ দিয়ে পালিয়ে অন্য একটি সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসি। দ্রুত বাজারের ভেতর ঢুকে দৌড়ে সামনে যাই, পরে একজনের বাইকে করে পুলিশ টিমের সঙ্গে মিশে যাই।

ওসি সুমন বলেন, আমার শরীরে এতো পাথরের ঢিল ও লাঠির আঘাত পড়েছিল, তারপরও একজনের প্রাণ বাঁচাতে পেরেছি, এটিই আমার কাছে শান্তির। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আর একটি প্রাণ বাঁচাতে পারিনি।

২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে মসজিদে তর্কাতর্কির জেরে শহিদুন্নবী জুয়েল ও তার সঙ্গী সুলতান রুবাইয়াত সুমনকে পিটিয়ে যখন বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে নেয়া হয়, তখন গোলযোগের খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে ছুটে যান ওসি সুমনও।

ওসি বলেন, আমি সেদিন বিকাল ৫টা ১মিনিটে খবর পাই। তখনই আমি বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট থেকে আট জনের পুলিশ ফোর্স পাঠাই। আমি আরও দশ জন ফোর্স নিয়ে সেখানে পৌঁছাই।

ওসির মতে, ঘটনাটি শুরুতেই থামানো যেতো। স্থানীয়রা বিষয়টি মসজিদে মিটিয়ে দিয়ে লোক দুটোকে পাঠিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তারা ইউপি কার্যালয়ে আটকে রেখে সময়ক্ষেপণ করেছেন এবং লোক জমায়েত হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। পরে তারা আর সামলাতে পারেননি।

Check Also

সাগরে লঘুচাপ : ৩ নম্বর সংকেত বহাল

প্রতিবেদক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর পর এটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *