গাইবান্ধায় লেপ তোষক বানানোর হিড়িক

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: এখন হেমন্তকাল, ইতোমধ্যে উত্তরের ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করায়
গাইবান্ধায় শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সকাল ও সন্ধ্যায় হালকা কুয়াশার প্রকোপও পরিলক্ষিত
হচ্ছে। ফলে মানুষ শীতের আগাম প্রস্তুতিতে লেপ তোষক বানানোর হিড়িক পড়েছে। পেশাদার
ধুনকরদের এখন ব্যস্ত সময় কাটছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে সাবেক জেলা জজ অফিসের পরিত্যক্ত খোলা
মাঠে লেপ তোষক বানানোর কাজ খুব জোরে সরেই চলছে। ফলে এতোদিন নিরলস বসে থাকার
সময় পেরিয়ে এখন হাতে অনেক কাজ জমেছে ধুনকরদের। গাইবান্ধা জেলা ধুনকর শ্রমিক
ইউনিয়নের সাধারণ স¤পাদক মো. মন্টু সর্দারের সাথে কথা বলে জানা গেল, একটি লেপ তৈরী
করতে তারা এখন মজুরী নিচ্ছে ৩শত থেকে সাড়ে ৩শত টাকা। এছাড়া তোষক সর্বনি¤œ ২৫০
টাকা, বালিশ প্রতিটি ২৫ টাকা এবং জাজিম তৈরীতে সাড়ে ৪শত টাকা হারে মজুরী নেয়া
হচ্ছে। এই মজুরীর হার অন্য সময়ের চাইতে কিছুটা বেশী। জানা গেল, একটি তোষক তৈরী করতে
মজুরী, কাপড় এবং তুলাসহ এখন মোট ব্যয় পড়ছে ৯শত থেকে সাড়ে ৯শত টাকা। আবার জাজিম
তৈরী করতে ব্যয় হয় ১ হাজার ৭শত থেকে ১ হাজার ৯শত টাকা পর্যন্ত। আর লেপ কভারসহ তৈরী করতে
ব্যয় হয় ১ হাজার ৫শত থেকে ১ হাজার ৭শত টাকা। ধুনকরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিশেষ করে
শীতের মৌসুমে একজন দিনে ২ থেকে ৩টি লেপ এবং ৪ থেকে ৫টি তোষক তৈরী করতে পারে।
শীতের মৌসুম ছাড়া অন্য সময় চাহিদা কম থাকায় অর্থাভাবে তাদের পারিবারিক জীবন
জীবিকা নির্বাহ করা অত্যান্ত দুর্বিসহ হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ইতোপূর্বে শিমুল
তুলায় বালিশ এবং কার্পাস তুলায় লেপ ও তোষক তৈরী হতো। কিন্তু এখন শিমুল এবং কার্পাস
তুলার সবররাহ অনেক কম হওয়ায় দাম যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি সর্বনি¤œ
শিমুল তুলা ২৮০ টাকা এবং কার্পাস তুলা সর্বনি¤œ ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সংগত
কারণেই লেপ তোষক বানানোর ক্ষেত্রে ক্রেতারা গার্মেন্টেসের ঝুট কাপড় এবং বে¬জারের কাপড়ের
টুকরো থেকে তৈরী বিশেষ জাতের তুলা দিয়েই লেপ ও তোষক বানানোর দিকেই ঝুকে পড়ছে
বেশী। কেননা প্রতিকেজি বেজারের তুলার দাম পড়ে মাত্র ৩৫ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া
গার্মেন্টেসের অন্যান্য তুলার দাম পড়ে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত। এতে লেপ ও তোষক বানানোর
খরচ পড়ে অনেক কম। সে কারণে মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত পরিবারগুলো এই বিশেষ জাতের তুলা দিয়ে
লেপ, তোষক, বালিশ ও জাজিম বানানোর দিকে ঝুকে পড়ছে বেশী। গাইবান্ধা জেলা শহরে
সমিতিভ‚ক্ত ১১৫ জন পেশাদার ধুনকর বংশ পরমপরায় সাবেক জেলা জজ কোর্টের পরিত্যক্ত এলাকাসহ
পার্শ্ববর্তী টেনিস কোর্টে এবং রাস্তার ধারেই পাটি বিছিয়ে খোলা আকাশের নিচে তুলা
ধুনা থেকে শুরু করে লেপ, তোষক, জাজিম বানানোর কাজ স¤পন্ন করে আসছে। এতে বর্ষা
মৌসুমে বৃষ্টির সময়টিতে তাদের কোন কাজ করাই সম্ভব হয় না। ফলে কর্মহীন হাত গুটিয়েই
বসে থাকতে হয়। এতে করে এই পেশা নির্ভর জীবন জীবিকা চালাতে গিয়ে পরিবার-পরিজন
নিয়ে তাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়।

Check Also

তানোরে দুই দিনব্যাপী বদন খেলা আয়োজন

আলিফ হোসেন, তানোর রাজশাহীর তানোরে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ধরে রাখতে দুই দিনব্যাপী বদন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *