তানোরে শিক্ষকদের চাঁদাবাজিতে অভিভাবক মহল বিক্ষুব্ধ

 

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি

রাজশাহীর তানোরে নীতিমালা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের  জিম্মি করে এ্যাসাইমেন্টের নামে শিক্ষকরা মাথা পিছু ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব ঠেকাতে  সকল শিক্ষা প্রতিস্ঠান অনিদ্রিস্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এরই প্রেক্ষিতে বার্ষিক পরীক্ষার পরিবর্তে অ্যাসাইমেন্টের প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের কাছে পৌচ্ছে দিয়ে উত্তরপত্র সংশ্লিস্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিপত্র দিয়েছেন। যেনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনভাবেই শিক্ষার্থীরা না আসে তার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীর বাড়িতে অ্যাসাইমেন্ট পত্র পৌচ্ছে দেওয়া ও তার কোনো টাকা নেয়া যাবে না বলে নির্দেশনা দেয়া হয়। ফলে অ্যাসাইমেন্ট পত্র বিতরণ ও জমা দেবার জন্য কোনো আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। এছাড়াও উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে টাকা আদায় না করার নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্ত্ত তানোরের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সেই নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে ডেকে আনুঃপাতিক হারে টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাড়িতে অ্যাসাইমেন্ট পত্র পৌচ্ছে দেয়া তো পরের কথা স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে ডেকে অ্যাসাইমেন্ট হাতে ধরিয়ে দিয়ে টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় নিম্ম মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৬১টি  এবং দাখিল মাদরাসা রয়েছে ২৮টি এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১লা নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অ্যাসাইমেন্ট প্রশ্ন বিতরণ ও জমা নেয়ার কাজ। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়, তানোরের প্রাণপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, তানোর পৌরসভা উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্ডুমালা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয় ও হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাসাইমেন্ট পত্র বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে আনুঃপাতিক হারে টাকা আদায় করা হয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টাকা আদায় করলে এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কাজ করার বিষয়ে অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবিষয়ে তালন্দ এএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাব হোসেন জানান কোন টাকা নেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের স্কুলে ডেকে ফরম দেয়া হয়েছে এটাা সত্য।এবিষয়ে প্রাণপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা জানান, প্রতিটি স্কুল শিক্ষার্থীদের ডেকে ফরম দিয়েছে আমরাও তাই করেছি তবে ৫ টাকা করে নেয়া হয়েছে। এবিষয়ে মুণ্ডুমালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাদিকুল জানান টাকা নেয়া হয়নি যেদিন ফরম জমা হবে সেদিন ফটোকপির টাকা দিতে বলা হয়েছে।

Check Also

তানোরে আমণখেতে পোকার আক্রমণ  দিশেহারা কৃষক

  তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি রাজশাহীর তানোরে বোরো মৌসুমে ধান ও খড়ের বাম্পার ফলন এবং ভাল দাম পেয়েছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *