বেরোবিতে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধুর দায়সারা ম্যুরাল নির্মাণ!

ইভান চৌধুরী, বেরোবি প্রতিনিধি:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রায় দশ লক্ষ টাকা ব্যয়ে
জাতির পিতা বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দায়সারা ও নি¤œমানের
ম্যুরাল নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের
বিরুদ্ধে। মুজিববর্ষে এমন ম্যুরাল নির্মাণ করা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়
এবং বাইরে চলছে সমালোচনার ঝড়। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের
কর্তা ব্যক্তিরা বলছে ম্যুরালের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য আবারো
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) কাছে চাহিদা পত্র
পাঠিয়েছে তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মুজিবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল
নির্মাণ বাবদ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে দশ লক্ষ
টাকা বাজেট পায় বিশ^বিদ্যালয়। সেই বাজেটের প্রায় দশ লক্ষ টাকা
ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস স্ট্যান্ডে (অস্থায়ী) বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ
করে প্রশাসন। কাস্ট আয়রনের উপর ব্রোঞ্চের প্রলেপ দেয়া পাঁচ ফিট
বাই পাঁচ ফিট বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায়
পাঁচ লাখ টাকা আর সিভিল (কনক্রিটের কাজ) বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে
প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন- মুজিববর্ষকে সরকার যখন অত্যান্ত গুরুত্বের
সাথে দেখছে। ঠিক এমন একটা সময়ে জাতির পিতার এমন
নিম্নমানের ম্যুরাল নির্মাণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে
কোনভাবেই কাম্য নয়। একটা ম্যুরাল অনেক কিছুর অর্থ বহন করে।
কিন্তু ক্যাম্পাসে যে ম্যুরাল নির্মাণ করা হয়েছে তা কোনভাবেই
মেনে নেয়ার মত নয়। এর থেকে ভালো এবং উন্নতমানের ম্যুরাল
নির্মাণ করতে পারত প্রশাসন। ম্যুরাল নির্মাণের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন
তুলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও গণিত
বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন- মুজিববর্ষের মত
জাতির এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এরকম একটি দায়সারা কাজ
কোন ভাবেই কাম্য নয়। আমি এরকম কাজের ধিক্কার জানাই। আর এমন
দায়সারা কাজ হবেই না বা কেন, ওনি (উপাচার্য) তো
বিশ্ববিদ্যালয়েই থাকে না।

জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারি প্রশাসক তাবিউর
রহমান বলেন- ম্যুরাল নির্মাণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ম্যুরালের
সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য আমরা আবারো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের
(ইউজিসি) কাছে চাহিদা পত্র পাঠিয়েছি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.
নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর দপ্তরে গেলে, দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন
তিনি ঢাকায় আছেন। পরে তাকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও,
তিনি রিসিভ করেনি।

Check Also

লক্ষ্মীপুরে কঠোরভাবে পালিত হচ্ছে ‘লকডাউন’

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে নতুন করে শুরু হওয়া লকডাউনের প্রথম দিন লক্ষ্মীপুরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *