মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ‘বীর নিবাস’, প্রতিটিতে ব্যয় সাড়ে ১৯ লাখ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম উপহার হিসেবে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা, শহীদ ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের স্ত্রী-সন্তানদের ১৪ হাজার ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ নামের সেই প্রকল্পের ওপর সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও উপজেলা প্রশাসন। এতে খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ৮১৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

পিইসি সভা সূত্র জানায়, প্রতিটি বীর নিবাস নির্মাণের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ১৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা করে। তবে এ ব্যয়ের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবার সভায় আলোচনা প্রয়োজন বলে পরিকল্পনা কমিশন মত দিয়েছে।

প্রতিটি বাড়িতে ৯০০ বর্গফুট বিশিষ্ট ৩টি বেডরুম থাকবে। যদি কারও জমি না থাকে সেক্ষেত্রে খাস জমিতে এ বাড়ি করে দেয়া হবে। যদি উপযুক্ত খাস জমিও না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ করা হবে কি না- এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এ বিষয়টি নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৭৩৮ কোটি ১১ লাখ টাকায় ১৪ হাজার বাড়ি, ৯৫ লাখ টাকায় একটি জিপ গাড়ি, ৩৬ লাখ টাকায় ২৪টি মোটরসাইকেল, ৮ কোটি ৯ লাখ টাকায় আউটসোর্সিং সেবা, ২ কোটি ২৬ লাখ টাকার সম্মানি, এক কোটি টাকায় বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ ব্যয় ৯২ লাখ, কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন ৮৬ লাখ, অফিস সরঞ্জাম, আসবাবপত্র কেনা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনা ইত্যাদি।

প্রকল্পের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, যারা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন, তাদের ও তাদের পরিবারের অনেকে আজও অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির স্বাদ লাভ করতে পারেননি। ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনি নিয়ে অসচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছেন। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরসূরিদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য সরকারের বহুমাত্রিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘অসচ্ছল ‍মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এবং একনেক অনুমোদিত ‘প্রতি জেলা/উপজেলায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের পরিবর্তিত প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। ‘প্রতি জেলা/উপজেলায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৮ মার্চ একনেক সভায় অনুমোদিত হয়, যার প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ২ হাজার ২৭৩ কোটি ২১ লাখ টাকা।

তবে মুক্তিযোদ্ধাদের চাহিদা এবং বাস্তবতার নিরিখে আবাসনের জন্য উপযোগী বিকল্প একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বিবেচনায় এ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে একনেক সভায় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এ পর্যায়ে প্রস্তাবিত ‘অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ প্রকল্পটি প্রত্যাহার করা প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের বিশেষত্ব হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা/বীরাঙ্গনা/শহীদ/প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের বিধবা স্ত্রী বা সন্তানদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপের অংশবিশেষ ও অন্যতম উপহার।

Check Also

বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জ সদর ও খাউলিয়া ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ

  এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির :বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ সদর ও খাউলিয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ব্রীজের সংযোগ স্ল্যব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *