নদীতে কমেছে ইলিশ, মিলছে প্রচুর দেশি মাছ

মনির হোসেন বরিশাল ব্যুরো: নদী ও সাগরে কমেছে ইলিশ, এখন তাই অন্যান্য দেশি মাছে ভরপুর বরিশালের মাছের আড়তগুলো। কিছু ইলিশ মোকামে এলেও দাম তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে বরিশালের মোকামে এক কেজি সাইজের ইলিশ ৬৭০ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। আড়তদাররা বলছেন, মৌসুমের এসময় সাধারণত নদীতে তেমন ইলিশ পাওয়া যায় না। তবে সাগরে যাওয়া মাছধরা ট্রলারগুলো ফিরে এলে মোকামে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে। তখন দামও কিছুটা কমবে বলে আশা তাদের।
জানা যায়, নদ-নদী, খাল-বিলের দেশি জাতের এবং সাগরের অন্যান্য মাছ প্রকারভেদে পাইকারি প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে দেড়শ থেকে ৫০০ টাকা দরে। এর মধ্যে স্থানীয় বিভিন্ন নদী থেকে আহরিত পাঙ্গাস মাছ এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। পাঙ্গাসগুলোর সাইজও বেশ বড়।
বরিশাল মোকামে রফতানিযোগ্য এলসি সাইজ (৬০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৬২৫ টাকা এবং কেজি সাইজের প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৬৭০ টাকা কেজি দরে। এক কেজি ২০০ গ্রাম সাইজের প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা দরে। ভরা মৌসুমে এসব মোকামে প্রতিদিন ২ হাজার থেকে ৫ হাজার মন ইলিশ আসে। অথচ গত দু’দিনে এসেছে মাত্র ২০০ মন ইলিশ।
তবে মোকামে তেমন ইলিশ না থাকলেও নদ-নদী খাল-বিল-ঘের থেকে আহরিত দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছে ভরপুর পোর্ট রোডের মোকাম। সাগরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছও রয়েছে প্রচুর। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া ও চন্দ্রমোহন নদী থেকে আহরিত বড় বড় পাঙ্গাস দৃষ্টি কাড়ছে ক্রেতাদের।
একেকটি পাঙ্গাসের ওজন ৩ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত। বড় সাইজের একটি পাঙ্গাস প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে। নদ-নদীর দেশীয় পোয়া মাছ সাইজ ভেদে বিক্রি হয়েছে দেড়শ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে। আগের চেয়ে চিংড়ি মাছও সস্তা। বর্তমানে মাঝারি সাইজের চিংড়ি বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে।
মাছ ব্যবসায়ী মো. আরিফুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার মোকামে সামুদ্রিক জাভা কই ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, মোচন মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, ম্যাদ মাছ ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, চিতল ১১০ থেকে ১২০ টাকা, কালো রঙের রূপচাঁদা ৩০০ থেকে ৪০০ এবং সাদা রঙের রূপচাঁদা ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বরিশাল জেলা মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রিপন জানান, শীতের শুরুতে গ্রামগঞ্জে ঘের, পুকুর, ডোবা, খাল-বিল সেচ করে মাছ ধরার হিড়িক পড়েছে। নদীতে ইলিশ না পাওয়া গেলেও জেলেদের জালে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ পাওয়া যাচ্ছে প্রচুর। এ কারণে দেশি মাছে মোকাম ভরপুর। এর মধ্যে চন্দমোহন নদী ও তেঁতুলিয়া নদীতে পাওয়া যাচ্ছে বড় বড় সাইজের পাঙ্গাস। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষে সমুদ্রে যাওয়া ট্রলারগুলো ফিরে এলে মোকামে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে বলেও জানান তিনি
বরিশাল জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘নদীতে ডিম ছেড়ে ইলিশ সমুদ্রে চলে যায়। এই সময়ে নদ-নদীতে তেমন ইলিশ পাওয়া যায় না। তবে বাজারে অন্যান্য মাছের প্রচুর সরবরাহ আছে।’

Check Also

প্রধান মন্ত্রীর প্রদত্ত গাবতলীতে শ্রমিকদের মাঝে নগদঅর্থ বিতরণ করলেন রবিন খান

আল আমিন মন্ডল (বগুড়া) ঃ ১৩জুলাই২১ মঙ্গলবার বগুড়ার গাবতলী পাইলট হাইস্কুল কক্ষে করোনা ভাইরাসে কর্মহীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *