রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ভাব-মূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন যিনি

 


এম.এ.হাবীব জুয়েল :: সাংবাদিকরা ভালোনা স্যার,একটু কিছু হলেই লেগে পড়ে পুলিশের বিরুদ্ধে,ওমুক সাংবাদিকের সাথে স্যার আমার সম্পর্ক ভালনা তাই স্যার আমার নামে নিউজ হয়েছে স্যার। জ্বি স্যার, আমার কোন দোষ নাই স্যার। আমাকে এই  বিষয়ে ফাঁসানো হচ্ছে স্যার। যখন কোন পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হয় ঠিক তখন ঐ পুলিশ সদস্য এই সকল  বুলি আওড়ান।বিষয়টা অনেকটা এইরকম যেন সাংবাদিকের সাথে ঐ পুলিশ সদস্যর পরিবারগত কিংবা জাতিগত দ্বন্ধ রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও বোঝেন। তাই তো নীতিভ্রষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিচার সম্ভব হয় বৈকি।

এদিকে রাজশাহী কাটাখালী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জাহাঙ্গীরের ঘুষ, দূর্নীতি, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয় কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় গনমাধ্যমে। সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরপরেই বিভিন্ন সাংবাদিকের নামে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে থাকেন কন্সটেবল থেকে এসআই হওয়া এই পুলিশ সদস্য।কখনো সাংবাদিক পিটিয়ে, কখনো সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা করে কিংবা কখনো সাংবাদিককে বিপদে ফেলে টাকা আদায়ে জুড়ি মেলা ভার রাজশাহীতে সদ্য গড়ে উঠা কাটাখালী থানার। রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্তরণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী মাসিক ২০ হাজার বেশী ফেন্সিডিলের ব্যবসা হয় এই অঞ্চলেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে,চলতি বছরে ১ হাজার বোতল ফেন্সিডিল আটকের নজির নেই এই থানার। যখনই আটক হয় তখন ঊর্ধে ৫০/৭০/৯০ বোতল ফেন্সিডিলের বেশী উদ্ধার হয়না। তাহলে রহস্য কি ?

কারনটা কিন্তু এলাকার জানেন সকলেই। আর কারন হচ্ছেন রাজশাহী কাটাখালীর থানার সেকেন্ড অফিসার “এসআই জাহাঙ্গীর”।
“এসআই জাহাঙ্গীর” ছোট বড় সকল মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উত্তোলন করেন সাপ্তাহিক মাসহারা। সপ্তাহে ও মাসে কোন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কত টাকা উত্তোলন করতে হবে তা নির্ধারন করেন । আর কোন মাদক ব্যবসায়ী টাকা না দিলেই তার নামে দেন মামলা।

তবে এদিকে সার্বিক অনুসন্ধানে কাটাখালী অঞ্চলের বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ থেকে শুরু করে মাঠে কাজ করা চাষী পর্যন্ত মুখ খুলতে শুরু করেছেন কাটাখালী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জাহাঙ্গীরের বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রহসন নিয়ে।

সম্প্রতি আটক বানিজ্যের মধ্যে অন্যত্তম উল্লেখযোগ্য কাজ করে কাটাখালী থানার ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত লালনের সাথে। ৭ গ্রাম হেরোইনসহ লালনকে আটক করেন কাটাখালী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জাহাঙ্গীর। আটকের পরপরেই নিয়ে যান থানায়। এরপর মামলা না দেয়ার শর্তে লালনের পরিবারের কাছে নেন (পঞ্চাশ হাজার) ৫০,০০০ টাকা।

ঘটনাটির বিস্তর বিবরন জানিয়ে এশার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরত আসা একই এলাকার লালনের প্রতিবেশী  ফয়েজ  বলেন – রাতে দেখলাম লালনকে হ্যান্ডকাফ দিয়ে ধরে নিয়ে যেতে। শুনলাম হেরোইন পেয়েছে কিন্তু পরে শুনলাম ওটা হিরোইন ছিলনা ওটা নাকি দশনচূর্ন দাঁত মাজা পাউডার ছিল।তাই হিরোইন সন্দেহে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।পরে এলাকাবাসীর কাছে শুনলাম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে লালনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কাটাখালি থানাধিন মাসকাটাদিঘী পূর্বপাড়া গ্রামের হায়দার, টাংগন এলাকায় হানিফ, মিলন, কালু, চায়না, আফরোজ, তজিবার, লিটন, রফিক, রিংকু, হাসান । টাংগন পূর্বপাড়া, মধ্যপাড়া ও পশ্চিমপাড়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা হলো: রায়হান, শুকটা রাজিব, সজিব, আলিরাজ, হারান, পরান, নাজির,আলাম, কালোনী, এবাদুল, আসাদুল, ফারুক, মাইনুল, আরজুল, উজির, কালাম, জসিম, বাহালুল, লুৎফর, আকাশ হোসেন কটা, হালিম, সজল, অজ্ঞাত কারনে তারা ধরা ছোয়ার বাইরে। আর সাধারন মাদক সেবীদেরই বেশি আটক করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। আর এদের কাছে নিয়মিত মাসহারা আদায় করেন “এসআই জাহাঙ্গীর”।

তবে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে এই এসআই সুদীর্ঘ বছর ধরে যে রাজশাহীতে আছেন এতে কোন সন্দেহ নেই।কিন্তু অজানা ও অদৃশ্য কারনে এই ১৫ বছরে রাজশাহীর বাহিরে তার পোষ্টিং হয়নি।

আরোও উল্লেখ্য যে,এসআই জাহাঙ্গীরের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তিনি সাংবাদিকের নামে এরই মাঝে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে শুরু করেছেন। যাকে নিয়ে মন্তব্য করছেন তিনি একজন সম্মানিত সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবের সভাপতি। জাহাঙ্গীরের অনিয়মের তদন্ত পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর একাধিক মিডিয়া কর্মীরা।
উক্ত বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী কাটাখালী থানার সেকেন্ড অফিসার “এসআই জাহাঙ্গীরের ০১৩২০০৬১৬৫৯ নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে রাজশাহী কাটাখালী থানার ডিউটি অফিসারকে ০১৩২০০৬১৬৫৮ নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও সেটিও সারাদিন সুইজড অফ দেখায়।

সর্বশেষ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র এডিসি রুহুলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান – প্রতিটি থানায় এখন সিসি ক্যামেরা বিদ্যমান বিধায় আসামী ছেড়ে দিয়ে থাকলেও সিসি ক্যামেরায় তা অবশ্যই প্রতীয়মান হবে। এছাড়া রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বর্তমান পুলিশ কমিশনার মোঃ আবু কালাম সিদ্দিক স্যার অলেছেন – রাজশাহী মহানগরীতে এ ধরনের অপরাধ করে আর কেউ পার পাবেনা। সকল ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে স্যার কঠোর নির্দেশনা জারী করেছেন। কারন মাদক, দেশ ও সমাজের শত্রু। তাই সে যদি পুলিশ সদস্য হয়ে মাদকের সাথে কোন সখ্যতা গড়ে তোলে তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর থেকেও কঠোরতর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এই মুখপাত্র।

এদিকে রাজশাহীর সুশীল সমাজের ধারকরা বলেছেন-  নীতিভ্রষ্ট এই সকল এসআই দায়িত্বে থাকলে সাধারন মানুষ যেমন একদিকে বিপদে পড়বে তেমনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সফলতার প্রতিবন্ধকতা হয়েও দাঁড়িয়েছে।

Check Also

তানোরে আমণখেতে পোকার আক্রমণ  দিশেহারা কৃষক

  তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি রাজশাহীর তানোরে বোরো মৌসুমে ধান ও খড়ের বাম্পার ফলন এবং ভাল দাম পেয়েছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *