শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে গরম কাপড়ের কদর  বেড়েছে বরিশালে। 

মনির হোসেন,বরিশাল ব্যুরো : শীত এখনো জেঁকে বসেনি। দিনের বেলা রোদের রাজত্ব শেষে সন্ধ্যা নামতেই বদলে যাচ্ছে তাপমাত্রা। ভোরে কুয়াশার সঙ্গে শীতের আবহ বেশ আঁচ করা যায়। যদিও রোদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখনও পেরে ওঠেনি শীত। তবে এরই মধ্যে কদর বাড়তে শুরু করেছে গরম কা পড়ের।

দাম, মান আর দোকান ভেদে বিভি ন্ন ধরনের গরম কাপড় পাওয়া যাচ্ছে বরিশালের  দোকানগুলোতে। বিশেষ করে ফুটপাতের ভাসমান দোকানগুলোতে এসব কাপড় বিক্রি হচ্ছে খুব বেশি। উলের তৈরি সোয়েটার, চাদরের সঙ্গে এসেছে ব্লেজার, ছোটদের গরম কাপরের সেট, টুপিসহ আরও অনেক পোশাক।

শনিবার  (২৮ নভেম্বর) বরিশালের,হেমায়েত উদ্দিন রোড,চকবাজার,হাজী মহাসিন মার্কেট,হকাস মার্কেট সহ কালেক্টরেট পার এবং  ফুটপাত বাজার এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাত ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

বড় দোকানগুলোতে এসেছে ফুল হাতা টি-শার্ট, হুডি, শীতের টুপি, জ্যাকেট, ডেনিম শার্ট, ডেনিম সোয়েটার, মাফলার ইত্যাদি। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কাপড়ের তৈরি জুতা, ঘরে পরার উলের জুতা ও কম্বল। এসব পোশাকের দামও রয়েছে ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে,বরিশালের  এসব এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্রেতার সমাগম হচ্ছে ফুটপাত মহাসীন মার্কেট ও সিটি মার্কেট । ফুটপাতে ছোটদের পোশাকের চাহিদাই বেশি চোখে পড়ছে। সেই সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে বড়দের পোশাক ও পুরাতন গাইডের গরম কাপড়।

ফুটপাতে সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকমের গরম পোশাক। যার মধ্যে রয়েছে শিশুদের জিন্সের ফ্রক, স্কার্ট, উলের পোশাক, বেবি কিপার, রেকসিনের জ্যাকেট, ওভারকোট, কার্ডিগান, মাফলার ও নতুন ডিজাইনের কানটুপি। এসব পোশাক চকবাজার, হেমায়েত উদ্দিন রোড, পুলিশ লাইন, এলাকার দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে।

ছেলেদের পোশাকের মধ্যে এসব বাজারে রয়েছে গেঞ্জি বা ট্রাউজারের কাপড় দিয়ে তৈরি হুডি, ফুল হাতা টি-শার্ট, শীতের টুপি, জ্যাকেট, ডেনিম শার্ট, মিক্স স্টাইলের সোয়েটার আর ব্লেজার।

এছাড়া বাজারে এসেছে বিভিন্ন ধরনের কম্বল। নানা ডিজাইনের এসব কম্বল পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। তবে এক্সপোর্ট কম্বলের দাম চাওয়া হচ্ছে চার হাজার থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে। কম্বলের দোকানে ক্রেতার আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, কম্বলের দাম বেশি বলছেন বিক্রেতারা।বরিশালের হাজি মহাসিন মার্কেটের  এলাকার ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, শীত ভালোভাবে না আসায় এখন পর্যন্ত গরম কাপড়ের দাম কম আছে। এ সুযোগটি কাজে লাগাতেই মার্কেটে আসা। বেশকিছু কপড় কেনা হয়েছে।

হাজি মহাসিন মার্কেটের বিক্রেতা মোনায়েম বলেন, আমাদের এখানে গরম কাপেড়ের বিক্রি আগে থেকেই শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ছোটদের কাপড়। এখন দাম বাড়তে শুরু করেছে। শীত বেশি হলে কাপড়ের দাম আরও বেড়ে যাবে।

সিটি মার্কেট  এলাকার ফুটপাত ব্যবসায়ী জামাল, শাহীন,বলেন, প্রতিবছর গরম কাপড়ের ব্যবসা করছি। জায়গার স্বল্পতা আর সিটি মার্কেটে  ব্যবসা জমাতে পারি না। এখন পর্যন্ত বিক্রি বেশ ভালো। ছোটদের পোশাকের পাশাপাশি দাম কম হওয়ায় এখন কম্বল বিক্রি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

কম্বলের দামের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০০ থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে কম্বল মিলছে। তবে এক্সপোর্ট কোয়ালিটির দাম বেশি পড়লেও অন্য বছরের তুলনায় দাম অনেক কম। শীত বেশি হলে আরও দাম বাড়বে বলে জানান তিনি।

Check Also

বরিশালে ছাত্র মৈত্রীর প্রতিষ্ঠা বাষিকী পালন

  বরিশাল ব্যুরো ॥ বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল মহানগর ও জেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *