আগে গ্রাজুয়েশন শেষ করি, তারপর অন্য কিছু: পূজা চেরি

পূজা চেরি রায়—২০১৮ সালে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘নূর জাহান’ দিয়ে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ তার। বলা যায়, খুব কম বয়সেই পুরোদস্তুর নায়িকা হয়ে উঠেছেন তিনি। এরপর ‘পোড়ামন ২’, ‘দহন’ ও ‘প্রেম আমার ২’ সিনেমায় অভিনয় দারুণ আলোচিত তিনি। বর্তমানে তার হাতে ও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে একাধিক সিনেমা। এদিকে পড়াশোনাও চলছে পুরোদমে!

সাম্প্রতিক সময়ে পড়ালেখা, অভিনয়সহ কেমন চলছে অন্যান্য কাজ, জানালেন ডেইলি বাংলাদেশকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইসমাইল উদ্দীন সাকিব

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

পূজা চেরি রায়: কয়েকদিন আগে ‘হৃদিতা’ সিনেমার প্রথম লট শেষ করেছি। ২৫ ডিসেম্বর থেকে দ্বিতীয় লট শুরু হবে। আরেকটা কাজ শুরু হচ্ছে ১৫ ডিসেম্বর থেকে। সেটা সিনেমা নয়, কী সেটা পরবর্তীতে জানাবো। এদিকে সামনে আমার ভাইয়ের বিয়ে। সবকিছু মিলেই আমার খুব ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।

করোনায় শুটিং এর পরিস্থিতি কেমন?

পূজা চেরি রায়: প্রথমে আমরা যেমন সতর্ক ছিলাম, এখন তেমন নেই। আমরা যেন করোনাকে খুবই তুচ্ছ ভাবছি। কোনো মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করছি না। আমাদের আরো বেশি সতেচন হওয়া প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সময়ে করোনা বাড়ছে। আমার ঘরে বয়স্ক মা আছেন, তিনি অসুস্থ। তার কথা চিন্তা করে আমি সতর্ক থাকার চেষ্টা করছি। আমি মাস্ক ব্যবহার করছি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের পাশে রাখছি। নিজে সচেতন থেকে যতটুকু পারি শুটিং ইউনিটের সবাইকে বলছি। এভাবেই শুটিং-এর কাজ করতে হচ্ছে।

 ২৫ ডিসেম্বর থেকে ‘হৃদিতা’ সিনেমার দ্বিতীয় লট শুরু। ছবি: সংগৃহীত

২৫ ডিসেম্বর থেকে ‘হৃদিতা’ সিনেমার দ্বিতীয় লট শুরু। ছবি: সংগৃহীত

‘পোড়ামন ২’ সিনেমায় যখন করেছেন তখন অনেকে বলতো আপনি শিশুশিল্পী। সেটা এখনো শুনতে হয়?

পূজা চেরি রায়: অনেকেই আমাকে দেখে বলেছিল আমার বয়স ১১ বছর। আসলে সেসময় আমার বয়স আরেকটু বেশি ছিল। নায়িকার চরিত্র করতে পারব কি-না সেটা নিয়ে অনেকেই কথা বলতো। কিন্তু এখন সেটা শুনতে হয় না। এখন সবাই বলে, আপনি পরিণত অভিনয় করছেন। আপনার বয়স যতটুকু তার চেয়ে ভালো অভিনয় করেন।

ছোটপর্দা ছেড়ে বড়পর্দাকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেয়া একটু ঝুঁকির না?

পূজা চেরি রায়: না, ঝুঁকি মনে করছি না। নাটকের অনেক আর্টিস্ট বেশ জনপ্রিয়। কারণ ওটা ইউটিউবে দেখা যায়। ওটাতে কোনো টাকাপয়সা লাগে না। যেহেতু হাতের কাছেই ইউটিউবে পাচ্ছে তাদের। সিনেমার কথা ভাবলেই মনের মধ্যে একটা বড় ব্যাপার চলে আসে। বড় একটা প্ল্যাটফর্ম। সিনেমা মানেই টিকেট কেটে হলে গিয়ে দেখা। ওটার প্রতি আমার কেন জানি আলাদা টান আছে। আমি অন্য কোনো কিছুর কথা ভাবছি না। আমি আগেও সিনেমা করেছি, এখনো করছি এবং পরেও করে যাবো। এটা আমার চিন্তাভাবনা।

নেটফ্লিক্স, হইচই, জি-ফাইভ, আই টিয়েটার—এগুলোতে এখন সিনেমা দেখা যাচ্ছে। আশা করছি আমরা একটা ভালো পজিশনে যাবো। যেহেতু এখন অনেক সিনেমা হলই বন্ধ। সবাই চাইবে সিনেমা দেখি। কিন্তু সিনেমা হলে না গিয়ে ঘরে বসে মোবাইলে দেখি। টিকেটের মতো মোবাইলে টাকা খরচ করে দেখি। দেখা যাক এর ভবিষ্যৎ কী হয়।

নাটকে আসার ইচ্ছে আছে?

পূজা চেরি রায়: এখনো নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব আসে। যেহেতু আমি বড়পর্দায় কাজ করছি, সিনেমাই করে যেতে চাই।

সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আপনার স্বপ্ন কেমন? 

পূজা চেরি রায়: ২০১৮ সালে আমি নায়িকা জীবন শুরু করেছি। গত বছর বলেছিলাম ২০২০ সালে ভালো সিনেমার বন্যা বয়ে যাবে। আমার কয়েকটা ভালো গল্পের সিনেমা আছে, অন্যদের হাতেও আছে। ভালো গল্প পেলে সাড়া দিচ্ছি, অন্যথায় এড়িয়ে যাচ্ছি।

পূজা চেরি অভিনীত জ্বীন ছবির শুটিং শেষ। এখন মুক্তির পালা। ছবি: সংগৃহীত

পূজা চেরি অভিনীত জ্বীন ছবির শুটিং শেষ। এখন মুক্তির পালা। ছবি: সংগৃহীত

আমার ধারণা ছিল এ বছর আমাদের সিনেমার মোড় বদলে দিবে। করোনার এ পরিস্থিতি এসে অনেক কিছু পাল্টে দিয়েছে। আশা করছি আরো ২-৩ বছর পর এটা ঠিক হয়ে যাবে। দেখা যাক সামনে কী হয়, ভালো সময়ের অপেক্ষায়।

দর্শকদের সমালোচনা কীভাবে দেখেন?

পূজা চেরি রায়: আমি সবকিছুই পজিটিভভাবে দেখি। একটা আর্টিস্টের আলোচনা-সমালোচনা থাকবেই। সেটা হোক পজিটিভ বা নেগেটিভ। সবকিছুই গ্রহণ করতে হবে। আমি ভালো করলে পজিটিভ কমেন্ট আসবে, একটু খারাপ করলে নেগেটিভ আসবে। শুধু পজিটিভকে গ্রহণ করবো, নেগেটিভকে গ্রহণ করবো না; এটা হয় না।

সিনিয়রদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

পূজা চেরি রায়: বেশ ভালো। আমি খুব অল্প সময়ে অনেক গুণী আর্টিস্টদের সঙ্গে কাজ করেছি। আশা করি সামনেও করে যাবো। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছি, জানতে পারছি। যেহেতু আমি নতুন, আমার অনেক কিছু শেখা এবং জানা দরকার।

সদ্যপ্রয়াত আলি জাকের স্যারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে?

পূজা চেরি রায়: তিনি খুব গুণী একজন মানুষ। তার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে সবার থাকে। আমারও ইচ্ছা ছিল। তাকে হারিয়ে ফেলেছি। এখন দূর থেকে তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করছি।

পড়াশোনা কেমন চলছে?

পূজা চেরি রায়: কয়েকদিন আগে অনলাইন পরীক্ষা দিয়েছি। যদিও ওটা দেখে দেখে (হেসে)। যতটুকু পারি না দেখে দিয়েছি। ভালোই চলছে। আমার ইচ্ছে আমি আগে গ্রাজুয়েশন শেষ করবো। তারপর অন্য কিছু। আমার সিনেমা ও পড়াশোনা দুই দিকেই ভালো করার ইচ্ছে আছে।

Check Also

রাজারহাটে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ঘর পাচ্ছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী খলিল

এ.এস.লিমন,রাজারহাট(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: তাং: ১৭-০৯-২১ইং। বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের সহযোগিতায় এবং কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ বিভাগের উদ্যোগে ঘর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *