বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন আইজিপি’র

ক্যাপশনঃ
১। বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি
২। বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নবনির্মিত ভবন ও
ঝালকাঠী পুলিশ অফিসার্স মেস উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ
পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

মনির হোসেন, বরিশাল ॥
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নবনির্মিত ভবন ও ঝালকাঠী
পুলিশ অফিসার্স মেস উদ্বোধন করেছেন পুলিশের ইন্সপেক্টর
জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম-বার)।
সোমবার (৭ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১২টায় নগরীর পলিটেকনিক
কলেজ রোডস্থ নবনির্মিত এ ভবনের উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত
সাদিক আবদুল্লাহ, বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকার,
বরিশাল পুলিশ রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, পুলিশ
কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র
রহমান, র ্যাব -৮ অধিনায়ক আতিকা ইসলাম, বরিশাল জেলা পুলিশ
সুপার মো. সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বরিশাল মুক্ত দিবস
কাল
মনির হোসেন, বরিশাল ॥
আগামীকাল ৮ ডিসেম্বর বরিশাল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই
দিনে পাক হানাদার বাহিনী বাংলার অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে

এ শহর থেকে পালিয়ে যায়। ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে সেদিন
মুক্তিযোদ্ধারা আকাশ-বাতাশ মুখরিত করেছিল। ৭ ডিসেম্বর
বিকেল ৪টা থেকে বরিশালে কারফিউ জারি করেছিল পাক হানাদার
বাহিনী।
সীমান্তে মিত্র বাহিনী আক্রমণ শুরু করার পর ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা
থেকেই পাক সেনারা বরিশাল ত্যাগের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বরিশাল
শহর কেন্দ্রিক পথের চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে
যাওয়ায় হানাদাররা নৌ পথে পালাবার পরিকল্পনা করে। এ উদ্দেশ্য
যাত্রীবাহী স্টিমার ইরানী, কিউইসহ লঞ্চ ও কার্গো বরিশাল স্টিমার
ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়। এসব নৌযানে করেই পাকিস্তানী
সেনাবাহিনী, পাক মিলিশিয়াসহ শহরের দালাল ও রাজাকার কমান্ডাররা
বরিশাল ত্যাগ করে।
তবে পাক কর্মকর্তাদের গোপনে পালানোর খবরটি জানাজানি
হয়ে যায়। ভারতীয় বিমান বাহিনী দুপুর ২টায় বরিশালে হামলা
চালায়। পাকিস্তানি দখলদারদের পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বিকেল
৩টায় বরিশাল অদূরে অবস্থানরত সুলতান মাস্টার ও আব্দুল মান্নানের
নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল প্রবেশ করে শহরের
নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। মুক্ত হয় বরিশাল। পাক বাহিনীর শহর ত্যাগের
খবরে ৮ মাস ধরে অবরুদ্ধ বরিশালের মুক্তিকামী মানুষ বিজয়ের আনন্দে
শ্লোগান দিতে দিতে দলে দলে রাস্তায় নেমে আসে। বরিশালের
আকাশে বাতাসে “জয় বাংলা” শ্লোগান ধ্বনিত হয়।
এদিকে পাক সেনাবাহিনীর নৌযানগুলোর একাংশ চাঁদপুরের
কাছে মেঘনা মোহনায় ভারতীয় মিত্রবাহিনীর বিমান হামলার কবলে
পড়ে। তাদের কিউই জাহাজসহ গানবোট ও কার্গো ধ্বংস হয়।
অপর অংশটি বরিশালের কদমতলা নদীতে ভারতীয় বিমানের বোমার
আঘাতে নদীতে ধ্বংস হয়। ফলে এসব জাহাজে পলায়নরত সকল পাক
সেনা, মিলিশিয়া, রাজাকার কমান্ডার ও দালাল নিহত হয়।
সূত্রমতে, ১৯৭১ এর ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল ছিল শত্র“মুক্ত। ১৭
এপ্রিল পাক বাহিনী আকাশ পথে বরিশাল ও পটুয়াখালীতে হামলা
চালায়। দ্বিতীয় দফা হামলা চালায় ২৭ এপ্রিল জল, স্থল ও আকাশপথে।
বরিশাল শত্র“কবলিত হওয়ার আগেই সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে

প্রতিষ্ঠা হয়েছিল স্বাধীন বাংলা সরকারের অস্থায়ী সচিবালয়।
আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে নিয়ে এ সচিবালয়
গঠিত হয়। এ ঘাটি থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায়
মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করা হতো। মুক্তিযোদ্ধাদের
সংগঠিত করে ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানোর কাজও হতো এ
সচিবালায় থেকে।
বরিশাল মুক্ত দিবস উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে
মুক্তিযোদ্ধাদের র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া
দিবসটি ঘিরে জেলা প্রশাসন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের
পক্ষ থেকেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা
গেছে।

Check Also

নলছিটির রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের বি.এন.পির চেয়ারম্যান  প্রার্থী হতে চান মোজাম্মেল মোল্লা। 

মনির হোসেন,বরিশাল : ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চলছে  প্রচার প্রচারণা। কে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *