সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির এলপিজির মূল্য

অবশেষে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব জমা দিয়েছে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো। সূত্র জানায়, বেসরকারি কোম্পানিগুলো এলপিজির দাম ১ হাজার ৫০ টাকা আর সরকারি কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেড সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭০০ টাকা করার প্রস্তাবের কথা জানিয়ে মূল্য সমন্বয়ের কথা জানিয়েছে।

গত ২৯ নভেম্বর গণশুনানির মাধ্যমে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দাখিল না করায় কমিশনের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ১৫ ডিসেম্বর এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়। মঙ্গলবার এক শুনানিতে কমিশনকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আদালত। ১১ জানুয়ারি আবার শুনানির দিন ঠিক হয়েছে।

আদালত অবমাননার রুল থেকে বাঁচতে এলপিজির দাম নির্ধারণের উদ্যোগ নেয় কমিশন। আগামী ১৪, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি গণশুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর আগের কাজের জন্য একটি শিডিউলও তৈরি করে।

শিডিউল অনুযায়ী, গত ৬ ডিসেম্বর বিইআরসি এলপিজি বিপণনকারীদের কাছে মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব চায়। কিন্তু বেসরকারি কোনও কোম্পানি প্রস্তাব না দিয়ে ৩০ দিনের সময় চায়। অন্যদিকে একমাত্র সরকারি কোম্পানি এলিপি গ্যাস লিমিটেড এজন্য বিপিসির অনুমোদন প্রয়োজন বলে এক চিঠিতে জানায়। এ অবস্থায় কমিশন গতকাল অর্থাৎ ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দামের প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময় দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের একজন সদস্য বলেন, বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এলপিজি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) কমিশনের কাছে এলপিজির মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। তাতে তারা তাদের সমস্ত ব্যয়ের ধাপে ধাপে হিসাব দিয়েছে। তাতে দেখা যায়,  সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার এখন যেখানে বাজারে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সেখানে তারা ১০৫০ টাকার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেড ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তারা বিস্তারিত কোনও হিসাব দেননি। আমরা তাদের কাছে আবারও বিস্তারিত হিসাব চেয়ে চিঠি দিয়েছি।

জানতে চাইলে এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, আমরা বিপিসির অনুমোদন নিয়ে এই দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি। আমাদের প্রথমে ৬ ডিসেম্বর চিঠি দিয়ে মাত্র একদিনের নোটিশে ৭ ডিসেম্বর দামের প্রস্তাব চাওয়ায় তখন দিতে পারিনি। পরে তা বাড়িয়ে ১৪ ডিসেম্বর করার পর আমরা এই প্রস্তাব দিয়েছি।

প্রসঙ্গত, বিইআরসির শিডিউলের মধ্যে রয়েছে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও লাইসেন্সিদের দাম সম্পর্কিত দলিলাদি জমা, ১৩ ডিসেম্বর কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব পেলে  মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করা। ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের গণশুনানির বিষয়ে নোটিশ দেওয়া। এরপর ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর শুনানির তারিখ জানিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া। এছাড়া ১৪ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি গণশুনানির বিষয়ে সবার মতামত প্রদান, ৪ জানুয়ারি লিখিত মতামত প্রাপ্তি এবং শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য নামের তালিকাভুক্ত করা হবে। এরপর ১৪, ১৭ ও ১৮  জানুয়ারি এলপিজির দাম নির্ধারণে গণশুনানি করবে কমিশন। শুনানির পর ২৪ জানুয়ারি লাইসেন্সি ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শুনানি পরবর্তীতে লিখিত মতামত প্রদান করা যাবে। প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময় বাড়ালেও শিডিউল অনুযায়ী কাজ চলছে বলে কমিশন সূত্র জানায়।

Check Also

টস হেরে ব্যাটিংয়ে রাজস্থান, আছেন মোস্তাফিজ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এর দ্বিতীয়পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে রাজস্থান রয়্যালস আর পাঞ্জাব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *