ধনী বৃদ্ধিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ

২০২০ সালের মার্চে যখন দেশে করোনার আর্বিভাব, তখন ব্যাংকে কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট ছিল ৮২ হাজার ৬২৫টি। গত সেপ্টেম্বর শেষে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৪৮৮টিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ-এক্সের প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘ধনী ব্যক্তি বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব এমনটাই বলছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে সম্পদশালী লোকের বৃদ্ধির হার ও ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রক্ষেপণ ধরে ওয়েলথ এক্স-এর প্রতিবেদনে বলা ছিল, ৩ কোটি ডলার বা আড়াই শ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিকদের সংখ্যা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি হারে বাড়ছে। ওয়েলথ-এক্সের হিসাবে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে অতিধনীর সংখ্যা বেড়েছে গড়ে ১৭ শতাংশ হারে। এ হার যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারতসহ মোট ৭৫টি বড় অর্থনীতির দেশের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর-তিন মাসে ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৪৫১ জন। গত মার্চ থেকে জুনে বেড়েছে ৩ হাজার ৪১২ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গতবছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৮৬ হাজার ৩৭ জন। গত মার্চ শেষে এই সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৬২৫ জন।

এদিকে করোনাকালীন আয়, ব্যয়, বেকারত্বের প্রভাব তুলে ধরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলেছে, করোনায় মানুষের আয় কমেছে ২০ শতাংশ। করোনার আগে ২০২০-এর মার্চে প্রতি পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ১৯ হাজার ৪২৫ টাকা। আগস্টে কমে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪৯২ টাকায়। পাঁচমাসের ব্যবধানে পরিবারপ্রতি আয় কমেছে প্রায় চার হাজার টাকা।

জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের সহযোগিতায় প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ আয়োজিত এক ওয়েবিনারে জানানো হয়, কোভিড-১৯-এর কারণে আয় কমেছে শতকরা ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবারের। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে সেসব পরিবার, যাদের বাৎসরিক আয় ১ লাখ টাকার কম।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত এক বছরে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ৭ হাজার ৭১১ জন। ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৭৯ হাজার ৮৭৭ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, বিগত ১২ বছর ধরে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে। ২০০৯ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ২১ হাজার ৪৯২ জন। এখন ৮৭ হাজার ৪৮৮ জন। ১২ বছরে নতুন কোটিপতি হলেন ৬৫ হাজার ৯৯৬ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা ব্যক্তি রয়েছেন এক হাজার ৩০৩ জন। ৪০ কোটি টাকার বেশি আমানত আছে ৪৭২ জনের। ৩৫-৪০ কোটি টাকা আমানত রেখেছেন ২৬৮ জন গ্রাহক। ৩০-৩৫ কোটি টাকা আমানত রেখেছেন ৩৫২ জন। ২৫-৩০ কোটিতে আছেন ৬২৬ জন। ২০-২৫ কোটি ১০৪০ জনের। ১৫-২০ কোটি ১ হাজার ৫৭১ জন, ১০-১৫ কোটি টাকার বেশি আমানত রেখেছেন ৩ হাজার ২৩২ জন। পাঁচ-দশ কোটি টাকার মধ্যে আমানত রেখেছেন ৯ হাজার ৬৯৯ জন। এককোটি থেকে ৫ কোটি টাকা আমানত রাখা গ্রাহকের সংখ্যা ৬৮ হাজার ৯২৫ জন গ্রাহক।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি ছিলেন মাত্র পাঁচজন। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে ৪৭ জনে দাঁড়ায়। ১৯৮০ সালে হয় ৯৮ জন। এরশাদ সরকারের পতনের সময় ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতি ছিল ৯৪৩ জন। ১৯৯৬ সালের জুনে দুই হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ হাজার ১৬২ জন, ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে ৮ হাজার ৮৮৭ জন এবং ২০০৮ সালে ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারী গ্রাহক ছিলেন ১৯ হাজার ১৬৩ জন।ৃংনী ব্যক্তি বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে যাচ্ছে

২০২০ সালের মার্চে যখন দেশে করোনার আর্বিভাব, তখন ব্যাংকে কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট ছিল ৮২ হাজার ৬২৫টি। গত সেপ্টেম্বর শেষে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৪৮৮টিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ-এক্সের প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘ধনী ব্যক্তি বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব এমনটাই বলছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে সম্পদশালী লোকের বৃদ্ধির হার ও ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রক্ষেপণ ধরে ওয়েলথ এক্স-এর প্রতিবেদনে বলা ছিল, ৩ কোটি ডলার বা আড়াই শ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিকদের সংখ্যা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি হারে বাড়ছে। ওয়েলথ-এক্সের হিসাবে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে অতিধনীর সংখ্যা বেড়েছে গড়ে ১৭ শতাংশ হারে। এ হার যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারতসহ মোট ৭৫টি বড় অর্থনীতির দেশের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর-তিন মাসে ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৪৫১ জন। গত মার্চ থেকে জুনে বেড়েছে ৩ হাজার ৪১২ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গতবছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৮৬ হাজার ৩৭ জন। গত মার্চ শেষে এই সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৬২৫ জন।

এদিকে করোনাকালীন আয়, ব্যয়, বেকারত্বের প্রভাব তুলে ধরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলেছে, করোনায় মানুষের আয় কমেছে ২০ শতাংশ। করোনার আগে ২০২০-এর মার্চে প্রতি পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ১৯ হাজার ৪২৫ টাকা। আগস্টে কমে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪৯২ টাকায়। পাঁচমাসের ব্যবধানে পরিবারপ্রতি আয় কমেছে প্রায় চার হাজার টাকা।

জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের সহযোগিতায় প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ আয়োজিত এক ওয়েবিনারে জানানো হয়, কোভিড-১৯-এর কারণে আয় কমেছে শতকরা ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবারের। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে সেসব পরিবার, যাদের বাৎসরিক আয় ১ লাখ টাকার কম।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত এক বছরে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ৭ হাজার ৭১১ জন। ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৭৯ হাজার ৮৭৭ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, বিগত ১২ বছর ধরে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে। ২০০৯ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ২১ হাজার ৪৯২ জন। এখন ৮৭ হাজার ৪৮৮ জন। ১২ বছরে নতুন কোটিপতি হলেন ৬৫ হাজার ৯৯৬ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা ব্যক্তি রয়েছেন এক হাজার ৩০৩ জন। ৪০ কোটি টাকার বেশি আমানত আছে ৪৭২ জনের। ৩৫-৪০ কোটি টাকা আমানত রেখেছেন ২৬৮ জন গ্রাহক। ৩০-৩৫ কোটি টাকা আমানত রেখেছেন ৩৫২ জন। ২৫-৩০ কোটিতে আছেন ৬২৬ জন। ২০-২৫ কোটি ১০৪০ জনের। ১৫-২০ কোটি ১ হাজার ৫৭১ জন, ১০-১৫ কোটি টাকার বেশি আমানত রেখেছেন ৩ হাজার ২৩২ জন। পাঁচ-দশ কোটি টাকার মধ্যে আমানত রেখেছেন ৯ হাজার ৬৯৯ জন। এককোটি থেকে ৫ কোটি টাকা আমানত রাখা গ্রাহকের সংখ্যা ৬৮ হাজার ৯২৫ জন গ্রাহক।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি ছিলেন মাত্র পাঁচজন। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে ৪৭ জনে দাঁড়ায়। ১৯৮০ সালে হয় ৯৮ জন। এরশাদ সরকারের পতনের সময় ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতি ছিল ৯৪৩ জন। ১৯৯৬ সালের জুনে দুই হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ হাজার ১৬২ জন, ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে ৮ হাজার ৮৮৭ জন এবং ২০০৮ সালে ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারী গ্রাহক ছিলেন ১৯ হাজার ১৬৩ জন। বাংলা ট্রিবিউন

Check Also

১১ আগস্ট থেকে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চালু

প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এরপর ১১ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *