পলিসির বিক্রির বিপরীতে বীমা এজেন্টদের কমিশন নিষিদ্ধ

পলিসির বিক্রির বিপরীতে এজেন্টদের আর কোনো ধরনের কমিশন দিতে পারবে না সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো। এমন নির্দেশনা জারি করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এ নির্দেশনা কার্যকর হবে ১ মার্চ থেকে।

বৃহস্পতিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম. মোশাররফ হোসেনের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে একাধিকবার সতর্ক এবং নানা পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও এজেন্ট কমিশনের শৃঙ্খলা ফেরেনি। তাই এই বিধান আরোপ করেছে আইডিআরএ।

আইডিআর-এর কাছে অভিযোগ রয়েছে, বীমা কোম্পানিগুলোর মালিক এবং কর্মকর্তারা নিজেদের আত্নীয় স্বজনকে ভুয়া এজেন্ট বানিয়ে পলিসি প্রতি ১৫ থেকে ৪৫ শতাংশ হারে কমিশন গ্রহণ করছে। অর্থাৎ গ্রাহকদের টাকা লুটপাট করছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, ‘নন-লাইফ বীমাখাতে কর্তৃপক্ষ অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়ার পরও কমিশনের বিষয়ে শৃঙ্খলা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হচ্ছে না। তাই এ খাতে শৃঙ্খলা আনতে বীমা আইন-২০১০ এর অধীনে বীমা এজেন্ট নিয়োগ ও নিবন্ধন প্রবিধানমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত নন-লাইফ বীমাখাতে কমিশন সংক্রান্ত বিষয়ে নিম্নোক্ত নির্দেশনা প্রদান করা হলো।’

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ‘নন-লাইফ (সাধারণ) বীমাখাতে ব্যবসা অর্জন বা সংগ্রহের বিপরীতে ১৫ শতাংশ বীমা এজেন্ট কমিশন প্রদান সংক্রান্ত সার্কুলার (নং নন-লাইফ ৩২/২০১২, তারিখ ১ এপ্রিল ২০১২) এবং নন-লাইফের কমিশন হার সংক্রান্ত জারি করা অন্যান্য নির্দেশনাবলী পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।’

নন-লাইফ বীমাখাতে ব্যবসা অর্জন বা সংগ্রহের বিপরীতে বীমা এজেন্ট কমিশন ১৫ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করা হলো জানিয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কর্মকর্তাদের সংগ্রহ করা প্রিমিয়ামের শতকরা হারে দেওয়া যাবে না। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাদে সকল উন্নয়ন কর্মকর্তার নিয়োগপত্রে সংশ্লিষ্ট বীমাকারীর পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা উল্লেখ ও প্রদান করতে হবে।’

‘সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কর্তৃপক্ষের সার্কুলারের (নন-লাইফ ৬৪/২০১৯) তিন নম্বর দফায় উল্লেখ করা ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ ব্যাংক হিসাবে ট্রান্সফার বা অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে দিতে হবে।’

উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত ছকে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশনায়।

প্রসঙ্গত, আইডিআরএ ২০১১ সালে গঠিত হয়। এরপর ২০১২ সালেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় যে, সব সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো ব্যবসা অর্জনের জন্য এজেন্ট ১৫ শতাংশ হারে কমিশন দিতে পারবে। কিন্তু বীমা কোম্পানিগুলোতে শুরু হয় অসুস্থ প্রতিযোগিতা। ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ৫০ শতাংশ কমিশন দিয়েছে কোম্পানিগুলো।

Check Also

ভালোবাসায় বড় হচ্ছে যে মসজিদ

অপূর্ব কারুকাজে দৃষ্টি নন্দনভাবে গড়ে উঠছে কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও তিন গম্বুজ বড় জামে মসজিদ। এলাকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *