চতুর্থ ধাপে ৫৫ পৌরসভায় ভোট রবিবার

ডেস্ক : রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) চতুর্থ ধাপে ৫৫টি পৌরসভায় ভোট হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। এ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে রাতে। বিগত তিনটি ধাপসহ চলমান পৌরসভা নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘন ও সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে সংঘাত কমাতে নানা উদ্যোগও নিয়েছে। ডিসি, এসপি, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন নির্বাচন কমিশনাররা। সহিংসতার কারণে কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। অন্তত ১২টিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

অবশ্য ইসি আশা করছে, সামনের নির্বাচনগুলোতে বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটবে না। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে এমন আশা প্রকাশ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য দুই কমিশনার। ওই অনুষ্ঠানে সিইসি কেএম নুরুল হুদা বলেন,‘আমাদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি আছে। কমিশনের ব্যবস্থাপনার দিক থেকে যা যা দরকার, সেগুলো ঠিকঠাক করেছি। আমি আশা করি, এরপর থেকে ভোটগুলো সুষ্ঠু হবে, রক্তপাত হবে না।’

জানা গেছে, চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বিভিন্ন প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন। অনেক স্থানে আচরণ বিধি লঙ্ঘন ও সহিংস ঘটনা ঘটেছে।

গত ৩ জানুযারি চতুর্থ ধাপে ৫৬টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করে ইসি। পরে সোনাইমুড়ি ও ত্রিশাল পৌরসভা এ ধাপে যুক্ত হয়। অপরদিকে হাইকোর্টের আদেশে নাটোর পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ফেনীর পরশুরাম পৌরসভায় সকল পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় এখানে ভোটের প্রয়োজন হবে না। জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভায় নির্বাচন কার্যক্রম বন্ধের পর ফের তা চালু হয়। এছাড়া সহিংস ঘটনায় মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ভোট স্থগিত করে কমিশন। সবমিলিয়ে রবিবার ৫৫টিতে ভোট হতে যাচ্ছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে কয়েকটি পৌরসভায় ভোট স্থগিত ও পরে চালু হয়েছে। এ কারণে সামষ্টিক পরিসংখ্যান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ইসির। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৫৫টি পৌরসভায় মেয়র পদে ২২১জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৭৩জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬১৮ জন প্রার্থী আছেন। এসব পৌরসভায় ৭৯৩টি ভোটকেন্দ্র ও ৪ হাজার ৮৮৭টি ভোটকক্ষ রয়েছে। ভোটার আছেন ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮ লাখ ৪২ হাজার ৯৪৫জন ও নারী ৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৫২ জন। তবে সংখ্যা কিছুটা হেরফের হতে পারে।

চতুর্থ ধাপের এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ১৬৭টি মোবাইল ও ৫৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ১৬৭টি র‌্যাবের টিম, প্রত্যেক পৌরসভায় গড়ে দুই প্লাটুন বিজিবি ও উপকূলীয় এলাকায় প্রতি পৌরসভায় এক প্লাটুন কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ১২টি পৌরসভায় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্দিষ্ট হারের চেয়ে অতিরিক্ত র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ৫০১ জন নির্বাহী ও ৫৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকছেন। ভোটের দিন কেন্দ্রের পাহারায় অস্ত্রসহ ৩ হাজার ১৭২জন পুলিশ সদস্য ও ৫ হাজার ৫৫১জন আনসার সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন।

Check Also

বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত

হাজারো মুসল্লির উপস্থিতিতে আমিন আমিন ধ্বনিতে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *