৭ কলেজের পরীক্ষা চলবে, আন্দোলন প্রত্যাহার

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে একদিনের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আগের তারিখেই পরীক্ষা নেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি মেনে নেয়ায় আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন শিক্ষার্থীরা।

গত সোমবার শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হবে। আর এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়ক ও অধ্যক্ষদের এক সভায় সাত কলেজের সব পরীক্ষা ২৪ মে পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সন্ধ্যায় তাৎক্ষণিকভাবে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ১০টার পর তারা সেখান থেকে ফিরে গেলেও আজ সকাল থেকে ফের বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের জানান, আজ সন্ধ্যা ৬টায় সভা হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে দুপুরেই শুরু হয়েছে। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য দুটি শর্ত দিয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। শর্তে বলা হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালে হোস্টেল খোলা হবে না এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

এদিকে নতুন সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীরাও তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভার্চুয়ালি এ সভায় যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, সাত কলেজের সমন্বয়কসহ কলেজের অধ্যক্ষরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, মহামারীর সময় হঠাৎ করেই পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। আমরা আশা করেছিলাম, আড়াই বছর ধরে ঝুলে থাকা পরীক্ষা এবার শেষ হবে। কিন্তু ঝুলে থাকা পরীক্ষা শেষ না করে আবার ঝুলিয়ে রাখলো। তবে এখন নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, ২০১৯ সালে তাদের এ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। পরে করোনার মধ্যেই তারিখ ঘোষণা করা হয়। অনার্স ৩য় বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষা চলমান ছিল। মাস্টার্সের পরীক্ষা বাকি ছিল একটি আর অনার্সের তিন। আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি মাস্টার্সের শেষ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিলো।

Check Also

নেত্রকোনায় বজ্রপাতে ৭ কৃষকের মৃত্যু

নেত্রকোনার কেন্দুয়া, মদন ও খালিয়াজুরীতে মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে সাতজন কৃষক মারা গেছেন। এছাড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *