বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের মাত্র ১৩২ রান তাড়া করে ৮ উইকেটে জয়

ঢাকা: নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এর আগে ২৬ বার স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ দল। প্রতিবারই পরাজিত দলের তালিকায় লাল-সবুজের নাম। এবার সে আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ ছিল বাংলাদেশ দলের সামনে। তবে কাজে লাগাতে পারেনি টাইগাররা। উল্টো বাংলাদেশের দেওয়া মাত্র ১৩২ রান তাড়া করে ৮ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশের দেয়া ১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ডানহাতি ওপেনার মার্টিন গাপটিল। মোস্তাফিজুর রহমানের করা প্রথম ওভারেই তিনি চার-ছয়ের মারে তুলে নেন দশ রান। দলীয় পঞ্চাশ রান পূরণ করতে নেন মাত্র ৫ ওভার। তবে তাকে বেশিদূর যেতে দেননি তাসকিন আহমেদ।

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের প্রথমবারের মতো তাসকিনকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সেই ওভারের তৃতীয় বলে বড় শট হাঁকানোর চেষ্টায় কট বিহাইন্ড হন গাপটিল। আউট হওয়ার আগে ৩টি চার ও ৪টি বিশাল ছয়ের মারে মাত্র ১৯ বলে করেন ৩৮ রান।

উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর তিন নম্বরে ব্যাট করতে আসেন অভিষিক্ত ডেভন কনওয়ে। আরেক ওপেনার হেনরি নিকলসের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৬৫ রান। দলের জয়ের জন্য মাত্র ১৩ রান বাকি থাকতে হাসান মাহমুদের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচে পরিণত হন ৫২ বলে ২৭ রান করা কনওয়ে।

অপর প্রান্তে দুই উইকেট পড়ে গেলেও নিজের প্রান্তে অবিচল ছিলেন নিকলস। ফিফটি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। ইনিংসের ২২তম ওভারের জোড়া চার মেরে ম্যাচ শেষ করেন আরেক অভিষিক্ত উইল ইয়ং। নিকলস অপরাজিত থাকেন ৫৩ বলে ৪৯ রান করে। ইয়ং করেন ৬ বলে ১১ রান।

এর আগে ট্রেন্ট বোল্ট, জিমি নিশাম ও মিচেল স্যান্টনারদের বোলিং তোপে পড়ে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ছোট ছোট শুরু পেয়েছিলেন বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান। কিন্তু কেউই তা কাজে লাগাতে পারেননি। সবাই সাজঘরে ফিরে গেছেন ভালো কিছুর সম্ভাবনা জাগিয়েই। যে কারণে ছয় ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কে পৌঁছলেও, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসটি মাত্র ২৭ রানের।

ওয়ানডে ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহ। ২০০৭ সালে কুইন্সটাউনে করা ৯৩ রান এখনও রয়েছে সর্বনিম্ন হিসেবে। আর ডানেডিনের মাঠে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন সংগ্রহই এটি। এর আগে ২০১০ সালে এই মাঠে করা ১৮৩ ছিল এতদিন ধরে টাইগারদের সর্বনিম্ন।

অথচ বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম স্কোরিং শটই ছিল ছয়। ট্রেন্ট বোল্টের করা প্রথম ওভারের তৃতীয় বলটি ছিল অফস্ট্যাম্পের বাইরে শর্ট লেন্থের। জায়গা পেয়ে আপার কাটে থার্ড ম্যান দিয়ে ছক্কা হাঁকান তামিম। ম্যাট হেনরির করা পরের ওভারে দারুণ এক ফ্লিকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ইতিবাচক শুরুর ইঙ্গিতই দেন টাইগার অধিনায়ক।

কিন্তু সেটি আর বেশিক্ষণ টেনে নিতে পারেননি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরের পথ ধরেছেন বার্থডে বয়। বোল্টের সুইং করে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে প্লাম্ব এলবিডব্লিউ হয়েছেন তামিম। এক চার ও এক ছয়ের মারে ১৫ বলে ১৩ রান করতে পেরেছেন তিনি।

তামিম নিজের খেলা তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকালেও, তিন নম্বরে নামা সৌম্য মুখোমুখি তৃতীয় বলে ধরেছেন প্যাভিলিয়নের পথ। বোল্টের একই ওভারের চতুর্থ বলটি ত্রিশ গজের বৃত্তের ওপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি কিন্তু ব্যাটে-বলে টাইমিং করতে পারেননি। ফলে সহজ ক্যাচ উঠে যায় কভারে, যা লুফে নিতে ভুল করেননি অভিষিক্ত ডেভন কনওয়ে।

বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়তে পারত হেনরির করা ষষ্ঠ ওভারেই। প্রথম বলেই আউটসাইড এজ হয়েছিল লিটন দাসের, বল চলে যায় প্রথম স্লিপে। সেটি ঝাঁপিয়ে পড়ে ধরার চেষ্টা করেন উইকেটরক্ষক টম লাথাম। কিন্তু রাখতে পারেননি নিজের গ্লাভসে, ফলে জীবন পেয়ে যান লিটন।

প্রথম পাওয়ার প্লের দশ ওভারে ২ উইকেটের বিনিময়ে ৩৩ রান করে বাংলাদেশ। এরপর কাইল জেমিসন আক্রমণে আসতেই প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তাকিয়ে স্বাগত জানান লিটন। যা তার ইনিংসের একমাত্র চার। ইনিংসের ১৪তম ওভারে প্রথমবার বল হাতে নেন নিশাম, সাজঘরে পাঠিয়ে দেন লিটনকে।

সেই ওভারের দ্বিতীয় বলটি এক্সট্রা বাউন্স করে উঠে যাচ্ছিল লিটনের শরীর বরাবর। আলতো ছোঁয়ায় সেটি অনসাইডে খেলার চেষ্টা করেন লিটন। কিন্তু লিডিং এজ হয়ে ধরা পড়েন মিড অনে দাঁড়ানো ট্রেন্ট বোল্টের হাতে। আউট হওয়ার আগে লিটন করেন ৩৬ বলে ১৯ রান।

দলীয় পঞ্চাশের আগেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবু আশার আলো হয়ে খেলছিলেন দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম। কিন্তু তাকে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে দেননি নিউজিল্যান্ডের পেস বোলিং অলরাউন্ডার জিমি নিশাম।

টাইগারদের বিপদ বাড়িয়ে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরের পথ ধরেন মুশফিক। ইনিংসের ২২তম ওভারের প্রথম বলে নিশামের শরীর বরাবর করা এক্সট্রা বাউন্সের ডেলিভারিতে কাট করতে হয়ে শর্ট থার্ডম্যানে ধরা পড়েছেন মুশফিক।

আউট হওয়ার আগে ৪৯ বল খেলে ২৩ রান করতে পেরেছেন মি. ডিপেন্ডেবল খ্যাত এ ব্যাটসম্যান। মুশফিক ফিরে যাওয়ার পর দূর্ভাগ্যের শিকার হন আরেক মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। যার ফলে মাত্র ৭২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে এখন ধুঁকতে থাকে সফরকারীরা।

ইনিংসের ২৪তম ওভারে ফুল লেন্থ ডেলিভারিটি স্ট্রেইট ড্রাইভ করেছিলেন ছয় নম্বরে নামা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ফলো থ্রু’তে সেটি থামানোর চেষ্টায় হাত বাড়িয়ে দেন নিশাম। তার আঙুলে লেগে বল আঘাত হানে ননস্ট্রাইক প্রান্তের স্ট্যাম্পে। তখন পপিং ক্রিজের বাইরে দাঁড়িয়ে ৯ রান করা মিঠুন। ফলে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় তাকে।

এরপর যা খেলার একাই খেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মেহেদি হাসান মিরাজ ১ রান করে ফিরে গেলে উইকেটে আসেন অভিষিক্ত শেখ মেহেদি হাসান। মুখোমুখি দ্বিতীয় বলে কভার দিয়ে বিশাল ছক্কার মারে ওয়ানডে ক্রিকেটে রানের খাতা খোলেন মেহেদি। তবে ১৪ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি।

শেখ মেহেদির বিদায়ে দলীয় একশ রানের আগেই ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ইনিংসের সর্বোচ্চ ২৭ রানের জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ। দলীয় ১২৫ রানের মাথায় ফেরেন ৫৪ বলে ২৭ রান করা মাহমুদউল্লাহ। এরপর আর ৬ রান যোগ করতেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একাই ৪ উইকেট নিয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট। এছাড়া নিশাম ও স্যান্টনারের ঝুলিতে গেছে ২টি করে উইকেট।

Check Also

পাপুলের আসনে নৌকার মনোনয়ন পেলেন নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন

ঢাকা: মানবপাচারের দায়ে কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *