চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় হেফাজতের হামলা, গুলিতে নিহত ৪ একাধিক কর্মী গুলিবিদ্ধ

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় হামলা করা হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের চার জন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তাদের মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

শুক্রবার (২৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শিলব্রত বড়ুয়া চার জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাটহাজারী থেকে ৪ জন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে চমেক হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিরোধীতায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলা সোয়া দুইটার দিকে হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা থেকে হেফাজতে ইসলামের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল বের করে। তারা মসজিদ থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ দূরে হাটহাজারী থানায় হামলা করে। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। তাতেও কাজ না হওয়ায় পরে রাবার বুলেট ও বুলেট নিক্ষেপ করে। এসময় তারা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ডাক বাংলোতে হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হেফাজত অনুসারীদের পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা রাবার বুলেট ও শটগানের গুলি ছুড়তে শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের পর হেফাজতের আহত বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে রিকশাভ্যানে করে নিরাপদে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এদের একজনের শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল।

হেফাজতের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজী বলেন, পুলিশ হেফাজত কর্মীদের ওপর গুলি চালিয়েছে। আমাদের একাধিক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মছিউদ্দৌল্লাহ রেজা বলেন, মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে বিনা উস্কানিতে হেফাজত কর্মীরা থানায় হামলা চালায়। তারা থানা কম্পাউন্ডে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ডাক বাংলোতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। পাশাপাশি তারা ভূমি অফিসে অগ্নিসংযোগও করে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের হেফাজতের কর্মীরা ভূমি অফিসে প্রবেশে বাধা দেয়।

পরে পুলিশের ধাওয়ার খেয়ে হেফাজত কর্মীরা মাদ্রাসা গেইটে অবস্থান নিয়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। আশপাশের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। সেখানে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম থেকে ধর্মভিত্তিক দলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোরে চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে ৫০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এই খবর হাটহাজারী পৌঁছার পর উত্তেজিত হয়ে উঠে হেফাজতের নেতা-কর্মীরা।

Check Also

বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত

হাজারো মুসল্লির উপস্থিতিতে আমিন আমিন ধ্বনিতে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *