লক্ষ্মীপুরের কৃতিসন্তান হামদর্দের এমডি ড, ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার জীবন থেকে নেয়া কিছু কথা

নিউজ ডেস্কঃ
. হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হাকিম ইউছুফ হারুন ভূঁইয়াকে নিয়ে  প্রতিবেদন। লক্ষ্মীপুর বাসির জন্য বলা চলে মানবিকতার আইকন। দেশ ও মানব সেবা তাঁর জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবনের প্রায় পুরো অংশই ব্যায় করছেন তিনি সেবামূলক কাজে। মানবিক এবং দেশপ্রেমিক এই মানুষটির অধ্যয়ন দেশ ও মানব সেবায় প্রেরণা যোগাবে এবং সাহস যোগাবে সত্য-ন্যায়ে অটল থেকে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাতে। তাই তাঁর কর্মযজ্ঞের কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরলাম ঃ-
মেধা ও প্রচেষ্টায় অনন্য: ড. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া ছোটবেলা থেকেই অত্যান্ত মেধাবী এবং উদ্যোগী ছিলেন। তিনি পড়া-শোনার জন্য বাবা ও মায়ের থেকে কোনো খরচ নিতেন ই না,উপরোন্ত পিতার সংসার চালানোয় টিউশনি করেও ভুমিকা রেখেছেন । তিনি বৃত্তির টাকায় নিজের পড়া-শোনার খরচ চালাতেন এবং টিউশনি করে পিতার সংসার পরিচালনায় ভূমিকা রাখতেন। তিনি ১৯৮১ সালে প্রথম শ্রেণিতে এমএম এবং ডিইউএমএস ডিগ্রি লাভ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালর্ড ইউনিভার্সিটির ওয়ালর্ড এসোসিয়েশন অব ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিন থেকে ডক্টর অব মেডিসিন এ ফেলোশিপ অর্জন করেন।

যোগ্যতায় ম্যাজিক প্রদর্শন: ১৯৭২ সালে হাকিম ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া সরকারি চাকরি ছেড়ে যোগদান করেন হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ ফ) বাংলাদেশ এ। যোগদানের পর থেকে নিজের দ্বায়িত্ব পালন করেন অত্যান্ত নিষ্ঠার সাথে। হঠাৎ এক ক্রান্তলগ্নের মুখোমুখি হয় হামদর্দ। তৎকালিণ ব্যবস্থাপনা পরিষদের অদক্ষ পরিচালনা এবং সততা,আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততার অভাবে ব্যাপক বিশৃংখলার জন্ম হয় হামদর্দে। হামদর্দের যেন প্রাণ যায় যায়। মৃতপ্রায় হামদর্দ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তৎকালিণ ব্যবস্থাপনা পরিষদ। এতে করে হামদর্দের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়। ১৯৮২ সালে এমনি এক অবস্থায় প্রবল সাহস এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে হামদর্দকে পুনরুজিবিত করার দ্বায়িত্ব নেন হাকিম ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া। তাঁর দ্বায়িত্ব গ্রহণকালীন হামদর্দের সম্পদ ছিল মাত্র ৫০ হাজার টাকা,অন্যদিকে এর বিপরীতে ঋণ ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার টাকা। তীক্ষ্মমেধা,প্রজ্ঞা,সৃষ্টিশীলতা,মননশীলতা বুদ্ধি,পরিশ্রম,প্রচেষ্টা,ধৈর্য্য,সাহস ও আত্নবিশ্বাসের বলে সেই হামদর্দকে নিয়ে এসেছেন তিনি আজকের এই অনন্য উচ্চতায়। হামদর্দ হল আজ আধুনিক হামদর্দ। তাইতো তাঁকে বাংলাদেশের আধুনিক হামদর্দের রূপকার বলা হয়। তাঁর এই বাস্তব যোগ্যতা ম্যাজিককেও হার মানায়। সততায় অনুকরণীয় : মাত্র ৫০ হাজা টাকা সম্পদ আর বিপরীতে ২ লাখ ৯২ হাজার টাকা দায়দেনা অবস্থায় যেই হামদর্দের দ্বায়িত্ব নিয়েছিলে ড. হাকিম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া সে হামদর্দের রয়েছে এখন প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ। হামদর্দ একটি ওয়াকক্ ফ প্রতিষ্ঠান,এর উপার্জন সম্পূর্ণরূপে মানব কল্যাণে ব্যায় হয়। প্রতিষ্ঠানটির গুরু দ্বায়িত্বে থেকে ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া চাইলে পারতেন হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করতে। কিন্তু তিনি হাজার হাজার কোটি টাকা পরিচালনায় থেকে একটি পয়সাও আত্নসাৎ না করার মহা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হামদর্দকে সম্পূর্ণরূপে ওয়াকক্ ফ আইনে পরিচালনায় তিনি বদ্ধপরিকর। যেখানে এই কোম্পানীর মাত্র ৫০ হাজার টাকার সম্পদ এবং বিপরীতে ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার টাকা দায়দেনা। সেখানে তিনি এই কোম্পানীর ১ কোটি টাকার সম্পদ করে আর সব নিজের করলেও বাহ্বা পেতেন। তিনি তাতো করেন ই নি,বরঞ্চ নিজের মেধা,শ্রম,সময় ব্যক্তিগত কোন প্রতিষ্ঠানে ব্যায় না করে এই ওয়াক্ফ প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নেই আত্ননিয়োগ আছেন। হামদর্দের কোন কার্যক্রমে তিনি এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত দেননা। ডাইরেক্টর কিংবা তৎসংশ্লিষ্টদের মতামত ও সুপারিশ ব্যাতিরকে তিনি কোন বিষয়ে স্বাক্ষর করেননা,এটি তাঁর ব্যক্তিগত বৈশিষ্টও বটে। ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার এরূপ স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা ও সুশাসন সততার জন্য অনুকরণীয় বটে।

“লোভ” হাবুডুবু খায় হাতাশার সাগরে: লোভ তাঁর চারিপাশে ঘুরে,যুগ যুগ ধরে। যেন একটু তারে আঁকড়ে ধরে। কিন্তু লোভে তিনি বিন্দুমাত্রও আকৃষ্ট না হওয়ায় লোভ হাবুডুবু খায় হতাশার সাগরে। যেই ইউছু হারুন নিজ মেধা,প্রজ্ঞা,যোগ্যতা ও দক্ষতায় মৃতপ্রায় হামদর্দের দ্বায়িত্ব নিয়ে অনন্য উচ্চতায় স্থান দিয়েছেন। সেই ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া ইচ্ছা করলেই পারতেন এই ওয়াক্ ফ প্রতিষ্ঠান নিয়ে পড়ে না থেকে ব্যক্তিগত কয়েকটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে সেগুলোকেও এমন উচ্চতায় স্থান করে দিতে। আর ওসব প্রতিষ্ঠানের পুরো উপার্জন ই হত তাঁর ব্যক্তিগত। এমনকি এই কাজটি হত সম্পূর্ণ বৈধ। কিন্তু তারতো ব্যক্তিগত উন্নতীর কোন ইচ্ছেই নেই। তিনি হামদর্দের উপার্জন দিয়ে দেশ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করেই খুঁজে পান পরম তৃপ্তি। মোটা অংকের বেতন নিয়ে করতে পারতেন সম্পদের পাহাড়। তিনি তা করেননি। নির্লোভ এই মানুষটির নামে নেই কোন ব্যাংক হিসাব,ঢাকা শহরে নেই নিজ নামে কোন ফ্ল্যাট কিংবা বাড়ি। নিরহংকারিতা ও উদার মানসিকতা : লোভ এবং অসততার মত অহংকার ছুঁতে পারেননি ড. হাকিম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়াকে। হামদর্দের সর্বোচ্চ পদ আরোহন করেও তিনি প্রতিষ্ঠানের সকল পর্যায়ের কর্মচারীকে নিজের পরিবারের সদস্যের মতই দেখেন,খুব সহজেই সবাই তার কাছে যেতে পারে। এ কারনেই হামদর্দ আজকের এই অনন্য উচ্চতায়। এছাড়াও তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে অত্যান্ত বিনয়ী আচরণ প্রদর্শন করেন। তবে অন্যায়কারী অনেক উচ্চ পর্যায়ের মানুষ হলেও তিনি তার বিরুদ্ধাচরণ করতে চিন্তা করেননা। বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থানের মহা আয়োজন: হামদর্দকে মাত্র একটি বিক্রয় কেন্দ্র থেকে ২৬৫ টি বিক্রয় কেন্দ্রে উন্নীত করে সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়ে দেশের লাখ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের এক মহা আয়োজন করেন ড. হাকিম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া। বিক্রয় কেন্দ্র ছাড়াও হামদর্দের ফ্যাক্টরিগুলোতেও অনেক যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। এতে করে দেশের বেকার সমস্যা দূরীকরণে সহায়ক হয়।

Check Also

শিবচরে বাল্কহেড ও স্পিডবোট সংঘর্ষ, ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার

মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে বালুবোঝাই বাল্কহেড ও স্পিডবোটের সংঘর্ষে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *