তানোরে দেড় হাজার উপকারভোগী ভাতা পাননি 

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরে উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়েের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতির কারণে প্রায় দেড় হাজার উপকারভোগী ভাতা পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক গরিব অসহায়দের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে সারা দেশে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট নগদের মাধ্যমে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তানোরে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে গত মে মাস থেকে। তবে নানা জটিলতার কারণে ভাতার টাকা সংগ্রহ করতে পারছেন না অধিকাংশ ভাতাভোগী। এর আগে সহজেই ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা উঠাতে পারলেও বর্তমানে ডিজিটালের ছোবলে প্রায় ১৫ হাজার ভাতাভোগীর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার জন ভাতাভোগী তাদের ভাতার টাকা পান নি। আর এই ভাতার টাকা না পাওয়া মানুষগুলো প্রতিদিন তানোর সমাজসেবা অফিসে ধরনা দিচ্ছেন। অনেকে কয়েক মাস ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সংগ্রহ করতে পারছে না ভাতার টাকা। এতে করে তানোরে ভোগান্তিতে পড়েছে অসহায় দরিদ্র ও ভাতার টাকার ওপর নির্ভরশীল সাধারন মানুষগুলো। উপজেলার কাঁমারগা ইউনিয়নের মহাদেবপুর এলাকার বাসিন্দা অসহায় রাহেলা বেগম। গত তিন বছর ধরে নিয়মিত ব্যাংকের মাধ্যমে বিধবা ভাতা পেয়ে আসছিলেন । কিন্তু গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে ভাতা পাচ্ছেন না তিনি। এ জন্য তিনি তানোর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে তারা বলছে তার টাকা কোনো একটা নম্বরে ভুলের কারণে নাকি তিনি এত দিন পাই নাই। এখন আর তার টাকা দেওয়া হবে না। পরবর্তীতে আবার বাজেট হলে নতুন করে দেওয়া হবে। আমার গত ৬ মাসের টাকা আমি পেলাম না। অথচ এই টাকাটা দিয়ে আমি প্রতি মাসে ওষুধ কিনে খাই। এ বিষয়ে কলমা ইউপি এলাকার বয়স্ক ভাতাভোগী তোফজুল বলেন কয়েকমাস ধরে সমাজসেবা অফিসে ধরনা দিয়ে জানতে পারলাম আমার টাকা ভুল নাম্বারে চলে গেছে। আর এর দায় তারা নিতেও চাচ্ছে না। আমি কি আমার নিজের নম্বর ভুল বলবো বলেন? যে নম্বরে টাকা গেছে ওই লোকও কল ধরছে না।
সরেজমিন উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, এমন অহরহ সমস্যা। প্রতিটি ইউনিয়নেই এ সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে। প্রতিদিনই ইউনিয়ন পরিষদে ভিড় করছে ভাতা না পাওয়া লোকজন। এদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের নগদ পিন নম্বরটি জানেন না। কারো কারো মোবাইল নম্বর ভুল উঠানো হয়েছে। কারো কারো ডিজিট ভুল উঠেছে। কারো কারো অন্য অপরিচিত নম্বরে টাকা চলে গেছে। বেশির ভাগের টাকা অন্য নম্বরে ভুলে চলে যাওয়ার কারণে গত ৬ মাসের ভাতা বঞ্চিত হয়েছে প্রায় দেড় হাজার ভাতাভোগী। আর এই ভুলের দায় সমাজসেবা অফিস বা স্থানীয় নগদ কর্তৃপক্ষ কেউ নিতে চাইছে না। তারা একে অপরকে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছে। এদিকে কলমা ও কাঁমারগা ইউপির মাঠকর্মী নুরতাজ বলেন, এসব বিষয়ে সমাজ সেবা কর্মকর্তা ভাল বলতে পারবেন। দেড় হাজার নম্বর ভুল হয় কিভাবে এই প্রশ্নের কোনো সদোত্তর না দিয়ে তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন জনসাধারণের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আগে ভাতার টাকা ব্যাংকে দেওয়া হতো, সেটাই ভালো ছিল। এখন ডিজিটাল করাতে সুবিধার চেয়ে অসুবিধা বেশি হয়েছে। বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা যারা নেয়, তাদের অনেকের মোবাইল ফোন নেই, নেই নগদ একাউন্ট, টাকা সংগ্রহের জন্য তাদের তৃতীয় পক্ষের আশ্রয় নিতে হয় এটা একটা অসুবিধা। অনেকেই নগদেও পিন নম্বর কি সেটা জানেন না এটা একটা সমস্যা। এছাড়া যারা এই ভাতা সুবিধা ভোগকারীদের একাউন্টগুলো খুলে দিয়েছেন তারা ইচ্ছে করে তাদের পরিচিত জনের নম্বর দিয়ে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছে। কারণ
দুই একটা ভুল হয়তো মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু অধিকাংশ নম্বরেই ভুল এটা ইচ্ছেকৃত। এটার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তানোর উপজেলা সেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খানের (০১৭১২৩৫২০৬৯) নাম্বারে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) পংকজ চন্দ্র দেবনাথ  বলেন, আমার কাছে অনেক ভাতাভোগী অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। তারা আসার পর আমি নিজে সমাজসেবা অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি।তারা আমাকে জানিয়েছে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সবার একাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে।প্রয়োজনে আমি আবারো কথা বলবো, সবাই যাতে টাকা পাই।#

Check Also

কলমা ইউপি নির্বাচনে আলোচনায় শহীদ পরিবারের সন্তান লিটন

আলিফ হোসেন, তানোরঃ রাজশাহীর তানোরের কলমা ইউনিয়নে (ইউপি) বইছে নির্বাচনের আগাম হাওয়া চায়ের কাপেও উঠেছে আলোচনার ঝড়।এদিকে আলোচনার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *